নরসিংদীর খবর

নরসিংদীতে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল

The Daily Narsingdir Bani

পারফিউম ফ্যাক্টরি The Daily Narsingdir Bani

মাহবুবুল আলম লিটন : নরসিংদীর রায়পুরায় বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের ৫০ তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে ।

The Daily Narsingdir Bani

বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শুক্রবার ( ২০ আগস্ট) সকাল ৯ টায় রায়পুরা উপজেলা পরিষদের হলরুমে এই স্মরণ সভা ও দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

হাতি মার্কা সাবান হাতি মার্কা সাবান

বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ফাউন্ডেশনের সভাপতি এম এ কাউছার আহমেদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন রায়পুরা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস ছাদেক ।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কবি ও লেখক মহসিন খোন্দকার, বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা শফিকুল ইসলাম শফিক, রায়পুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো : মোস্তফা খান, রায়পুরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মাহবুবুল আলম লিটন, ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা আবদুল হাই রানা, হাজী বাদল মিয়া প্রমূখ।

অনুষ্ঠানে বক্তাগণ বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের নামে তার গ্রামের বাড়ি রায়পুরায় একটি স্টেডিয়াম সহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের দাবী জানিয়েছেন।

The Daily Narsingdir Baniতাছাড়া দিবসটি উপলক্ষে এই মহানায়কের জন্মস্থান রায়পুরা উপজেলার মতিউরনগরের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান জাদুঘরে নির্মিত তার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসন, রায়পুরার পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এসময় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং রায়পুরা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার জনাব মোঃ নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর মরহুমের আত্মার শান্তি কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। পরে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি পরিদর্শন করা হয়।

উল্লেখ্য, ২৯শে অক্টোবর ১৯৪১ সালে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ঢাকার পৈত্রিক নিবাসে জন্মগ্রহণ করেন।উনার গ্রামের বাড়ি নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার সাবেক রামনগর বর্তমান বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর নগর গ্রামে। পিতা মৌলভী আব্দুস সামাদ ছিলেন সরকারী চাকুরে এবং মা মোবারকুন্নেসা ছিলেন গৃহিণী। নয় ভাই ও দুই বোনের মধ্যে মতিউর ছিলেন অষ্টম। ১৯৫২ সালে মতিউরকে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে ভর্তি হন। সাধারন কিন্তু রুচি সম্মত জীবন যাপন অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সবার থেকে আলাদা করে উপস্থাপন করে মতিউরকে। ১৯৫৬ সালে ভর্তি হন পাকিস্তান বিমান বাহিনী স্কুল, সারগোদায়। ১৯৬০ সালে সেখান থেকে প্রথম বিভাগে মেট্রিক পাশ করেন।

১৯৬১ সালের ১৫আগস্ট ৩৬তম জিডি (পি) কোর্সে ফ্লাইট ক্যাডেট হিসাবে যোগদান করেন পাকিস্তান বিমান বাহিনী একাডেমি, রিসালপুরে। একাডেমিক বিষয়ে এবং খেলাধূলাতে মতির দক্ষতার ছিলো উল্লেখ করার মতো। ১৯৬৩ সালের ২৩ জুন তিনি ফ্লাইট ব্রাঞ্চে কমিশন লাভ করেন। তার সার্ভিস নাম্বার দেওয়া হয়, পিএকে-৪৩৬৭। বিমান বাহিনীতে তিনি ২ নং ট্রেনিং স্কোয়াড্রন-মৌরিপুর, ফাইটার লিডারশীপ স্কুল-করাচী এবং ফ্লাইং ইন্সট্রাক্টর স্কুল-এ সফল ভাবে প্রশিক্ষন সম্পন্ন করেন। চাকুরী জীবনে তিনি এফ-৮৬ জঙ্গী বিমানের পাইলট হিসাবে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন ১৯নং ফাইটার স্কোয়াড্রন ও ২৫ নং স্কোয়াড্রনে। প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিমান বাহিনী একাডেমি, রিসালপুরে ও ২ নং স্কোয়াড্রনে। এছাড়া তিনি কিছুকাল অন্তঃবাহিনী গোয়েন্দা সদর দফতর, ইসলামাবাদেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ১৯৬৭ সালে এক পাঞ্জাবী পাইলটের সাথে প্রশিক্ষন কামান আকাশ যুদ্ধে লিপ্ত হলে দূর্ভাগ্যজনকভাবে তার বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে যায়। তিনি বেইল আউট করেন। এতে তাদের উভয়কেই কোর্ট মার্শালের মুখোমুখি করা হয়। বিচারে পাঞ্জাবী পাইলটের শাস্তি না হলেও তাকে এক বছরের জন্য গ্রাউন্ডেড করা হয়।

১৯৬৮ সালের ১৯শে এপ্রিল তিনি মিলি খানের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৬৯সালের ২৩ এপ্রিল তাদের প্রথম কন্যা সন্তান মাহিন ও ১৯৭০ সালের ১৪ই ডিসেম্বর দ্বিতীয় কন্যা সন্তান তুহিনের জন্ম হয়। ১৯৭১ সালের জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে বাৎসরিক ছুটিতে তিনি সপরিবারে ঢাকায় আসেন। এসময় তিনি প্রত্যক্ষ ভাবে স্বাধীকার আন্দোলনের সাথে জড়িয়ে পড়েন। ১লা মার্চ কর্মস্থলে ফিরে যাবার কথা থাকলেও তিনি তা করেননি। ২৫শে মার্চ গ্রামের বাড়ি নরসিংদী গমন করেন এবং সেখানকার স্বাধীনতাকামী জনতার প্রশিক্ষনের বন্দোবস্ত করেন। ৪ঠা এপ্রিল পাকিস্তান বিমান বাহিনী নরসিংদীর উপর বিমান হামলা চালালে তিনি ভৈরব হয়ে নানার বাড়ি গোকুল নগরে গমন করেন। পাকিস্তান থেকে বিমান সংগ্রহের মানসে ৯ই মে ১৯৭১, তিনি সপরিবারে কর্মস্থলে ফিরে যান। কর্তৃপক্ষের কাছে দেরিতে যোগদানের কারন দর্শানোর পর তাকে ফ্লাইং সেফটি অফিসারের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। নিয়মিত কাজের আড়ালে তিনি একটি বিমান ছিনতাই করে মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের পরিকল্পনা করতে থাকেন। এনিয়ে তিনি কয়েকজন দেশপ্রেমিক বাঙালি অফিসারের সাথে আলোচনা করেন। পরিকল্পনা মোতাবেক ২০শে আগস্ট ১৯৭১ সকাল ১১.১৫ মিনিটে পাঞ্জাবী পাইলট অফিসার রাশেদ মিনহাজসহ টি-৩৩ প্রশিক্ষণ বিমান (কল সাইন ব্লু-বার্ড-১৬৬) ছিনতাই করে ভারত অভিমূখে উড্ডয়ন করেন। অপর পাইলটের সাথে কন্ট্রোল নিয়ে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে সিন্ধুর বেদিনে বিমানটি বিধ্বস্ত হলে উভয়েই শাহাদত বরণ করেন। পরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্যরা তার লাশ উদ্ধার করে মশরুর বিমান ঘাটির ৪র্থ শ্রেণীর কবরস্তানে অত্যন্ত অমর্যাদার সাথে দাফন করে। বাংলাদেশ সরকার তাকে ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত করে। শাহাদতের ৩৫ বছর পর ২৪শে জুন ২০০৬ মতিউরের দেহাবশেষ পাকিস্তান থেকে দেশে এনে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবি কবর স্থানে পুনঃসমাহিত করা হয়।

Back to top button