নরসিংদীর খবর

নরসিংদী জেলা পরিষদের খেয়াঘাট ইজারা-ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ (১)

বাণী রিপোর্ট : নরসিংদী জেলা পরিষদের আওতাধীন রায়পুরা উপজেলার রামনগর হাটি-ফকিরের চর-সায়দাবাদ খেয়াঘাট ইজারায় চরম দুর্ণীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। টেন্ডার হওয়ার পূর্বে লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ গ্রহণ, রি-টেন্ডার করার জন্য ইজারায় অংশগ্রহনকারীদের নিকট থেকে ঘুষ দাবী, ঘুষ না দেয়ায় সর্বাধিক দরদাতাকে খেয়াঘাট ইজারা না দেয়া, দরপত্র এবং দরপত্র বিজ্ঞপ্তিতে সরকারী দর উল্লেখ না করা। দরপত্রের সাথে ইজারার শতভাগ টাকা পে-অর্ডারের মাধ্যমে অগ্রিম জমা নেয়া এমন নানা অভিযোগ উঠেছে জেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে।

পারফিউম ফ্যাক্টরি The Daily Narsingdir Bani
The Daily Narsingdir Bani
নরসিংদী জেলা পরিষদ

জানা যায়, অতি সম্প্রতি এক বছরের জন্য রায়পুরা উপজেলার রামনগর হাটি-ফকিরেরচর-সায়দাবাদ খেয়াঘাট (বর্তমান পান্থশালা-সায়দাবাদ-বাঘাইকান্দি) ইজারা প্রদান করে নরসিংদী জেলা পরিষদ। প্রথম ও দ্বিতীয় ডাকে কোন ইজারাদার অংশ গ্রহন করেনি। তৃতীয় ও চতুর্থ ডাকে অংশ গ্রহন করেন মাত্র ২জন ইজারাদার। ইজারা বিজ্ঞপ্তিতে শতভাগ ইজারার টাকা পে-অর্ডারের মাধ্যমে জমা দেয়ার শর্ত দেয়ায় প্রকৃত পাটনী মাঝি ইজারায় অংশগ্রহন থেকে বিরত থাকে।

The Daily Narsingdir Bani

এবার ৩য় দফা ডাকে শহিদুল্লাহ মিয়া ও আসাদ মিয়া অংশগ্রহন করেন। এ ডাকে শহিদুল্লা মিয়া ভ্যাট-টেক্সসহ পে অর্ডারের মাধ্যমে জমা দেন প্রায় ৬২লাখ টাকা এবং আসাদ মিয়া জমা করেন প্রায় ৬০লাখ টাকা। দরপত্রে শহিদুল্লা মিয়ার সাক্ষর না থাকায় এবং দরপত্রের ভিতরের পাতায় আসাদ মিয়ার সাক্ষর না থাকায় উভয় দরপত্র বাতিল করা হয়। এ ডাকের পূর্বেই একটি পক্ষ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে অগ্রিম ঘুষ দিয়েছে ২লক্ষ টাকা।

হাতি মার্কা সাবান হাতি মার্কা সাবান

৪র্থ ডাকে সহিদুল্লা মিয়া ভ্যাট-টেক্সসহ জমাদেন প্রায় ৬৪লক্ষ টাকা আর আসাদ মিয়া জমাদেন প্রায় ৬৬লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। দরের জায়গায় আসাদ মিয়া মোট টাকার কথা উল্লেখ না করায় তার দরপত্র বাতিল করে ৫ম বারে ডাক না দিয়ে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা কমে শহিদুল্লা মিয়াকে ঘাট দেয়া হয়। ইজারায় অংশগ্রহনকারী আসাদ মিয়া জানান, আমরা তয় ডাকে ঘাট পেয়েছিলাম ভিতরের পাতায় সাক্ষর না থাকার অজুহাতে রি-টেন্ডার করা হয়। ৪র্থ ডাকের দরপত্র ফরম আমি ডাকের সাথে জড়িত জেলা পরিষদের কর্মচারী খোরশেদ আলম এর দেখানো মতে পূরন করি। সে আমাদের নিকট ঘাট পাওয়ার জন্য ৭লাখ টাকা ঘুষ দাবী করে। আমরা তাকে ঘাট পাওয়ার পর খুশী করার কথা বলি। তাছাড়া দরপত্রে কোন সরকারী দরের টাকার কথা উল্লেখ ছিলোনা তাই তাদের কথা মতো “দর” উল্লেখ করতে বাধ্য হই।

৪র্থবারে ঘাট না পেয়ে আমরা জেলা পরিষদের চেয়াম্যানের নিকট গিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ঘাটের বিষয়ে আলাপ করলে তার একজন লোক আমাদেরকে জানায়, আরো ৩লাখ টাকা দিলে রি-টেন্ডার করা হবে তবে ঘাট পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয়া হবেনা। এতে আমরা হতাশ হয়ে আপিল করার চিন্তা করলে খোরশেদ মিয়া আমাদেরকে বলে আপিল করে লাভ হবেনা, জামানতের টাকা ফেরত না নিলে এ টাকা বাজেয়াপ্ত হয়ে যাবে। তার কথায় ভয়ে পেয়ে পে-অর্ডার ফেরত নিয়ে আসি। মূলত সে-ই আমাকে তার কথা মতো ঘুষ না দেয়ায় সিডিউল পুরণ ও পে-অর্ডার ফেরত নিতে বিভ্রান্ত করে বাধ্য করেছে।

তবে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঘুষের দুইলাখ টাকা তার নির্ধারিত লোকের মাধ্যমে ফেরত দিয়েছে। আমরা ধারনা করছি খেয়াঘাট ইজারায় দশ লাখ টাকার মতো ঘুষ লনদেন হয়েছে। বর্তমান ইজারাদারের লোকজন দশ লাখ টাকার বেশী লেগেছে বলে এলাকায় বলে বেড়াচ্ছে।

এ ব্যপারে নরসিংদী জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ইজার কমিটির প্রধান মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম উপ-সচিব জানান, ৩য় পর্যায়ে শহীদুল্লা মিয়ার দরপত্রে কোন সাক্ষর ছিলনা এবং আসাদ মিয়া দরপত্রে সাক্ষর করলেও ভিতরের অন্যান্য পৃষ্ঠায় তার সাক্ষর নেই। ঘুষ গ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, আমার অধীনস্থ কর্মচারীর ঘুষ গ্রহনের বিষয়ে আমি ব্যবস্থা নিব। কিন্ত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বিষয়ে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।

অগ্রিম ও পরবর্তী পর্যায়ে ঘুষ গ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন ভূইয়া জানান, এ বিষয়টি আমার জানা নেই। ইজারা না পেলে এমন অভিযোগ করেই থাকে।অভিযোগ রয়েছে খেয়াঘাট ইজারা দেয়ার পর মনিটরিং না থাকায় ইজারার শর্ত অমান্য করে জুলুমের মাধম্যে ইজারাদার যাত্রীদের নিকট থেকে টাকা আদায় করে থাকে। শর্তে উল্লেখিত কোন সহায়তা যাত্রীরা পায়না। ( বিস্তারিত পরবর্তী প্রতিবেদনে)

Back to top button