আন্তর্জাতিক

কিভাবে শুরু হয়েছিল রমজান মাসে কামানের গোলা ছুড়ে ইফতারের সংকেত দেওয়া?

কিভাবে শুরু হয়েছিল রমজান মাসে কামানের গোলা ছুড়ে ইফতারের সংকেত দেওয়া?
ছবি: মিদফা আল-ইফতার; ছবিসূত্র: আফ্রিকা নিউজ

বাণী ডেস্কঃ আরবের মুসলিম দেশগুলোতে কামান দাগিয়ে ইফতারের সময় জানিয়ে দেওয়ার রেওয়াজ বেশ পুরনো। আর যেই কামান এ কাজে ব্যবহার করা হয় তাকে বলা হয় ‘মিদফা আল-ইফতার’ অর্থাৎ ইফতারের কামান (আক্ষরিক অর্থে)।

পারফিউম ফ্যাক্টরি The Daily Narsingdir Bani

কিভাবে এই রীতির প্রচলন শুরু হয়েছিল তা নিয়ে দু’রকম ইতিহাস পাওয়া যায়।

হাতি মার্কা সাবান হাতি মার্কা সাবান

অনেকেই বলেন, দশম শতাব্দীতে মিশরে যখন ফাতেমি খিলাফত ছিল, তখন কায়রোর মুক্বাতাম পাহাড়ে একটি কামান বসানো হয়েছিল। যেন কামানের গোলা ছুড়ে একই সময়ে সকল নগরবাসিদের ইফতারের সংকেত দেওয়া যায়।

এ-তো গেল প্রথম ইতিহাস। মিদফা আল-ইফতার নিয়ে দ্বিতীয় ইতিহাসটি বেশ মজার।

মামলুক শাসনামলের কথা, কায়রোর সুলতান তখন সাইফুদ্দিন খোশক্বাদম। হঠাৎ-ই একদিন সুলতানের কাছে এক বিশেষ উপহার আসে। সেটি ছিল একটি কামান।

উপহার পেয়ে তো সুলতান ভীষণ খুশি। তৎক্ষনাৎ নির্দেশ দেন কামানটি পরীক্ষা করতে, তখন ছিল মাগরিবের ওয়াক্ত আবার প্রথম রমজান। কিন্তু সুলতানের আদেশ কী আর অমান্য করা যায়!

পরক্ষণেই কয়েকজন সৈনিক এসে কামান থেকে গোলা নিক্ষেপ করলো। মাগরিবের আজানের সাথে সাথে বিকট শব্দ ছড়িয়ে পড়লো কায়রোর চতুর্পাশে। নগরবাসী আকস্মিক সেই শব্দ শুনে ভাবলো, সুলতান হয়তো ইফতারের সংকেত হিসেবেই কামান দাগানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

পরদিন লোকজন এসে সুলতানকে কৃতজ্ঞতা জানায়, নতুন পদ্ধতিতে সংকেত দেবার জন্য!

সেই সময় ঘড়ি সহজলভ্য ছিল না, আবার এখনকার মতো মসজিদে মাইকও ছিল না। তাই ইফতারের সময় কামানের আওয়াজ পেয়ে সবাই অনেক আনন্দিত হয়। যদিও ঘটনাটি ছিল কাকতালীয় কিন্তু শহরবাসীর তো আর জানা ছিল না যে, সুলতান শুধু নতুন কামান পরিক্ষা করতেই গোলা ছুড়তে বলেছিলেন!

দলেদলে লোকজন প্রসাদে এসে যখন সুলতানের প্রশংসা করতে শুরু করে, সেই ব্যপারটা বেশ পছন্দ হয় সাইফুদ্দিন খোশক্বাদমের কন্যা ‘হাযযা ফাতিমাহ’র। শাহজাদী একরকম বায়না ধরে বসে সুলতানের কাছে, যেন রমজানের প্রতিদিনই ইফতারের সময় কামান দাগিয়ে সংকেত দেওয়া হয়। সুলতানও প্রিয় কন্যার কথা মেনে নেন এবং সে অনুযায়ী আদেশ জারি করেন। সেই থেকেই মিশরের ঐতিহ্যে অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠে ‘মিদফা আল-ইফতার’।

ধীরে ধীরে আরবের অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পরে এই ট্রেডিশান। আরব আমিরাতে আজও চলে সেই পুরনো ঐতিহ্যের চর্চা।

তবে যেখান থেকে শুরু হয়েছিল অর্থাৎ কায়রোতে ১৯৯২ সালের পর থেকে প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা সংস্কার কাজের জন্য বন্ধ ছিল রমজান মাসে কামান থেকে গোলা ছোড়া। ভালো খবর হলো, এ বছর থেকে কায়রোতে আবারও শুরু হচ্ছে, কামান দাগিয়ে ইফতারের সংকেত দেওয়া। এ নিয়ে ভীষণ খুশি সেখানকার স্থানীয়রা।

Back to top button