নরসিংদীর খবররায়পুরা

বাঙ্গি চাষে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছে রায়পুরার কৃষকেরা

The Daily Narsingdir Bani
ছবি- তন্ময় কুমার সাহা

তন্ময় কুমার সাহা: অতি গরমে অতিষ্ঠ প্রাণ, তৃষ্ণায় প্রাণ ওষ্ঠাগত ঠিক সেই সময় এক টুকরো বাঙ্গি প্রাণে এনে দেয় প্রশান্তি। মূহুর্তে শারীরিক ক্লান্তি দূর করে ফিরিয়ে আনে সতেজতা। গ্রীষ্মের অন্যতম ফলগুলোর মধ্যে বাঙ্গি একটি অন্যতম ফল।

পারফিউম ফ্যাক্টরি The Daily Narsingdir Bani

গ্রীষ্ম আসার আগেই নরসিংদীর রায়পুরায় চরাঞ্চলের মাঠে শোভা পাচ্ছে বাঙ্গি। ইতোমধ্যে বাঙ্গি চাষে প্রসিদ্ধ হয়ে উঠছে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চল। এ অঞ্চলের বাঙ্গি আকারে বড়, দেখতে সুন্দর ও সুস্বাদু হওয়ায় রাজধানীসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক চাহিদার সৃষ্টি হয়েছে। অল্প শ্রম ও অল্প খরচে অধিক লাভবান হওয়ায় প্রতি বছরই চরাঞ্চলে বাড়ছে বাঙ্গির চাষ। ফলে এ অঞ্চলে সৃষ্টি হচ্ছে মৌসুমী কর্মসংস্থানের।

হাতি মার্কা সাবান হাতি মার্কা সাবান

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চারটি চর ইউনিয়নে বাঙ্গি চাষাবাদ হয়। ইউনিয়নগুলো হল- বাঁশগাড়ি, শ্রীনগর, চরমধূয়া ও মির্জাচর। তবে বাঁশগাড়ি ইউনিয়নেই সবচেয়ে বেশি বাঙ্গির আবাদ হয়। চলতি বাঙ্গি মৌসুমে রায়পুরার চরাঞ্চলে মোট ৪০ হেক্টর জমিতে বাঙ্গির চাষ করা হয়েছে। বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের মধ্যনগর ও চান্দেরকান্দি গ্রামের কৃষকরা তাদের জমিতে বাণিজ্যিকভাবে বাঙ্গি চাষ করে। শুধু মধ্যনগর বা চান্দেরকান্দি নয় বর্তমানে আশপাশের বেশ কয়েকটি চরে বাঙ্গির আবাদ হচ্ছে। এই সকল চরের উৎপাদিত বাঙ্গির আকার বড় ও রং উজ্জ্বল হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মেঘনা নদীর তীর ঘেঁষে বাঁশ গাড়ি ও শ্রীনগর ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থানে বিশাল চর।

বিস্তীর্ণ চরের ধান ও মসলা জাতীয় ফসলের পাশাপাশি বাঙ্গি চাষ করা হয়েছে। মাটির উপর ছড়িয়ে রয়েছে বাঙ্গিগাছের সবুজ লতা। লতার ফাঁকে ফাঁকে কাঁচা-পাকা বাঙ্গি শোভা পাচ্ছে। জমি থেকেই বাঙ্গি কিনতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকারি ক্রেতারা কৃষকদের সঙ্গে দরদাম করছেন। দুই পক্ষের দর কষাকষিতে চলছে বেচাকেনা।
বাঙ্গি চাষি মামুন মিয়া বলেন,বাঙ্গি চাষ করতে তেমন খরচ লাগে না। রসুন ও বাঙ্গি দুই ফসল একবারে করি। রসুনের জন্য সার দেওয়ায় বাঙ্গির জন্য আলাদা করে সার লাগেনা। বীজ ও ঔষধেই যা খরচ। এ বছর দুই কানি জমিতে ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আশা করছি সব মিলে আড়াই লাখ টাকা বেচতে পারমু।

বাঙ্গি চাষ শুধু কৃষকদের সমৃদ্ধি আনেনি সৃষ্টি হয়েছে মৌসুমি কর্মসংস্থানের। বিশাল চরের বাঙ্গির জমি থেকে নৌকা ঘাটের দূরত্ব প্রায় দেড় কিলোমিটার। অপর দিকে টানের দূরত্বও এক থেকে দেড় কিলোমিটার। মৌসুমি শ্রমিকরা জমি থেকে বাঙ্গি ঝুড়িতে তুলে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে নৌকা কিংবা ভ্যানে ভর্তি করে। এতে পুরো চরে চোখে পড়ে কৃষক ও শ্রমিকের ব্যাপক কর্মচঞ্চলতা।
চরে পাইকারি বাঙ্গি বিক্রি হয় শতক হিসেবে।

আকার ভেদে প্রতি একশ বাঙ্গি ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকায় পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। জমি থেকে বাঙ্গি কিনছিলেন নরসিংদীর মাধবদী থেকে আসা পাইকারি ফল ব্যবসায়ী আব্দুল ছাত্তার, জয়নাল আবেদীন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর থেকে হোসেন আলী ও রায়পুরা থেকে রফিকুল ইসলাম। তারা জানায়, বাঁশগাড়ির মধ্যনগরের বাঙ্গি আকারে বড়, দেখতে সুন্দর ও খেতে সুস্বাদু।
রায়পুরা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বনি আমিন খান বলেন, রায়পুরার চরাঞ্চলে বাঙ্গি চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বাঙ্গি চাষ সম্প্রসারণে আমরা সার্বক্ষণিক মাঠ পরিদর্শনসহ কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।

বর্তমানে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বীজ কৃষকরা ব্যবহার করে। বাঙ্গি চাষে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও ভাল বীজ সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে কৃষি বিভাগের।

Back to top button