নরসিংদীর খবর

নরসিংদী সিভিল সার্জনের ছত্র ছায়ায় জেলাব্যাপী ব্যাঙের ছাতার মতো গঁজে উঠেছে অবৈধ ক্লিনিক -(১)

পারফিউম ফ্যাক্টরি

বাণী রিপোর্ট : অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান,শিক্ষা এর ন্যায় সংবিধান স্বীকৃত মানুষের মৌলিক অধিকার স্বাস্থ্য সেবা বা চিকিৎসা প্রাপ্তির অধিকার। প্রান্তিক জনগোষ্টির স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে প্রতিবছর সরকার শত শত কোটি টাকা ব্যয় করছে। সরকারের সদ্দিচ্ছাকে ভূলুণ্ঠিত করতে নরসিদীতে তৎপর স্বাস্থ্য বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী । এদের মধ্যে অন্যতম নরসিংদী সিভিল সার্জন ডা. নূরুল ইসলাম। যিনি নরসিংদী স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা হিসেবে স্বীকৃত। তারই ছত্রছায়ায় নরসিংদী জেলাব্যাপী চলছে শতাধিক অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টার।

তিনি নরসিংদীর সরকারী হাসপাতালগুলোতে রোগের পরীক্ষা নিরীক্ষা কার্যক্রম অচল রেখে লাইসেন্সবিহীন অবৈধ মানহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের মালিকদের সাথে যোগসাজসিকভাবে নিজে লাভবান হতে নিন্মবিত্ত রোগীদের অপচিকিৎসা পেতে সহায়তা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারী হাসপাতালে পরীক্ষা নিরীক্ষার সকল সুযোগ না থাকায় ডাক্তারদের চিকিৎসাপত্র নিয়ে রোগীরা ছুটছেন অবৈধ মানহীন ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে। ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের মালিকগণ লুফে নিচ্ছেন এ সুযোগ। তারা ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ভূলবাল পরীক্ষা করিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা আর দিন শেষে অথবা সপ্তাহান্তে ডাক্তারের কমিশন পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে স্ব স্ব ডাক্তারের কাছে। আর এসব পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা তা ছুঁড়ে ফেলে দেয়া হচ্ছে।

হাতি মার্কা সাবান হাতি মার্কা সাবান

ভূক্তভোগীরা জানান, হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় এসব ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের অবস্থান। এসব ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে রয়েছে ডাক্তার নার্স ও অফিসস্টাফদের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ অংশিদারিত্ব। নরসিংদী ১শ সয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের সুনামধন্য চিকিৎসক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মিজানুর রহমান। যিনি মিডিয়ার মাধ্যমে নিজে হাইলাইট হতে ভালোবাসেন। তিনি হাসপাতাল শুরুর পর থেকেই এ হাসপাতালে কর্মরত আছেন। তার মালিকানাধিন হাসপাতালটির ওয়াল ঘেঁষে গড়ে উঠেছে ইউনাইটেড হাসপাতাল। তিনি দিনের অধিকাংশ ব্যস্ত থাকেন এই ক্লিনিকে । তার সহকর্মী ডাক্তারগণও নিয়মিত প্র্যাকটিস করেন এখানে। নরসিংদী সদর থানা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবু কাউসার সুমন এর মালিকানাধিন রয়েছে নরসিংদী আধুনিক হাসপাতাল।

সিভিল সার্জন অফিসে কর্মরত টেকনোলজিস্ট বাদল নন্দী এর মালিকানাধী রয়েছে জেলা হাসপাতাল সংলগ্ন ডায়াগনোস্টিক সেন্টার। সিভিল সার্জনের পিএ হিসেবে কর্মরত স্টেনোটাইপিস্ট কালাম ছারোয়ার বুলবুল এর ছেলের মালিকানাধীন রয়েছে জেলা হাসপাতাল সংলগ্ন ভিক্টোরিয়া ডায়াগনোস্টিক সেন্টার। সরকারী হাসপাতালে আসা নিন্ম মানুষদের টার্গেট করে তাদের পকেট কেটে নিতেই গড়ে তোলা হয়েছে এসব ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টার। সাধারণ মানুষদের পকেট কেটে এসব সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আর্থিক অবস্থা ফুলে ফেঁপে উঠেছে।

ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টার গুলোর লাইসেন্স দিয়ে থাকেন সিভিল সার্জন। তিনি নরসিংদীতে যোগদানের পর প্রথমেই তিনি শতাধিক ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের তালিকা করেন। এর মধ্যে ২/৪টি ছাড়া বাকীগুলো অবৈধ। লাইসেন্সবিহীন অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টারগুলোতে নেই প্রশিক্ষিত টেকনোলজিস্ট, নার্স ও ডাক্তার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের মালিক জানান, সিভিল সার্জনের সহযোগীতা ছাড়া একদিনও এসব অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টার খোলা রাখা সম্ভব নয়। তিনি যোগদানের পর ২০/৩০ হাজার টাকা উৎকোচ নিয়ে অধিদপ্তরের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করাচ্ছেন। শুধু আবেদন করেই কোন প্রকার অনুমতি না নিয়েই চলছে এসব। এবার নতুন করে লাইসেন্স জন্য আবেদনের রেট বাড়ানো হয়েছে। ফলে অবৈধ ক্লিনিক গুলোতে অপচিকিৎসায় রোগী মারা যাচ্ছে তদন্ত পূর্বক কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছেনা। সচেতন মহলের প্রশ্ন যার উপর জেলাবাসীর স্বাস্থ্য সেবার তদারকি তার কর্ম যদি প্রশ্নবিদ্ধ হয় তাহলে মানুষ যাবে কোথায় ? এ ব্যপারে বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও নরসিংদী জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সচেতন মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button