পারফিউম ফ্যাক্টরী এলকোহল মুক্ত সুগন্ধির দুনিয়ায় পারফিউম ফ্যাক্টরি আপনার জন্য একটি " ব্লাইন্ড বাই" প্লাটফর্ম "পারফিউম ফ্যাক্টরি"।
নরসিংদীর খবরমনোহরদী

মনোহরদীতে মেয়র সুজনের উঠোন বৈঠকে মন্ত্রীপুত্র সমর্থকদের হামলা-আহত ১২,ভাঙচুর

The Daily Narsingdir Baniবাণী রিপোর্ট :মনোহরদীতে পৌর নির্বাচন উপলক্ষ্যে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী আমিনুর রহমান সুজন এর উঠোন বৈঠকে মন্ত্রী পুত্রের সমর্থকদের হামলায় ১২জন আহত ও প্রাইভেট কার-মটরসাইকেলসহ ১২টি গাড়ী ভাংচুর করা হয়েছে। হামলা চালানো হয়েছে বাড়ীঘর ও দোকানপাটে। এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির গাড়িসহ দুইটি গাড়ি ও ৮টি মোটরসাইকেল ভাংচুর করা হয়।

বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) গভীর রাতে নরসিংদীর মনোহরদী হিন্দুপাড়াসহ পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে এ হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ও র‌্যাব ঘটনাস্থলে এসে উভয়পক্ষের সমর্থকদের সরিয়ে নিলে ভোর ৪টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।

মেয়র প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র আমিনুর রহমান সুজন সমর্থিত আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মীরা জানায়,বুধবার রাত ৮টায় মনোহরদী হিন্দুপাড়া সার্বজনীন দুর্গাবাড়িতে আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র আমিনুর রশিদ সুজনের সর্বশেষ উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ফজলুল হক, সাধারণ সম্পাদক বাবু প্রিয়াশীষ রায়, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিল্পমন্ত্রীর ছোটভাই নজরুল মজিদ মাহমুদ স্বপনসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় কাউন্সিলর প্রার্থীরা তাদের সমর্থকদের নিয়ে যোগ দেন। রাত ১১টার দিকে নির্বাচনী উঠোন বৈঠকের শেষ পর্যায়ে শিল্প মন্ত্রীর ছেলে কেন্দ্রীয় যুবলীগের কার্যকরী সদস্য মঞ্জুরুল মজিদ মাহমুদ সাদীর নেতৃত্বে বৈঠকে অতর্কিত  হামলা চালানো হয়।

হামলায় মেয়র সুজনের বড়ভাই মামুনুর রশিদ (৩৫), ছোটভাই হাসানুর রশিদ তন্ময় (২৫), ইমতিয়াজ মান্নান (৩০), আল সাঈদী সাম্মী (৩২), শফিকুল আলম (৪৫), সোহেল আকন্দ (২৬), মাঝিপাড়া এলাকার মাসুম হাসান শুভ (৩০), লেবুতলা এলাকার নজরুল ইসলামসহ ১২ জন আহত হয়। এদের মধ্যে মামুনুর রশিদ ও শফিকুল আলমকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

মন্ত্রী পুত্রের সমর্থকদের হামলার ঘটনা পৌর এলাকায় জানাজানি হলে মেয়র সুজনের সমর্থিত কয়েকশত আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মী সমর্থকরা মনোহরদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জমায়েত হয়। তারা সংঘবদ্ধ হয়ে মন্ত্রীপুত্র সাদী সমর্থকদের প্রতিরোধ করলে পুলিশের সহায়তায় তারা রক্ষা পেয়ে পিছু হটে। এ সময় মেয়র সুজন সমর্থকরা সাদী সমর্থকদের বাড়ীঘর ও দোকান পাটে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে।

স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মীরা জানায়,আওয়ামীলীগ মেয়র প্রার্থী বর্তমান মেয়র মনোহরদীতে অত্যন্ত জনপ্রিয়, আগামী নির্বাচনেও তার জয় সু-নিশ্চিত। পক্ষান্তরে কমিশন বাণিজ্য, চাদাঁবাজি ও টেন্ডারবাজির হোতা মন্ত্রী পুত্র সাদী।  মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ৪জন মাদক সেবী ও মাদক বিক্রেতাকে কাউন্সিলর পদে সমর্থন দেয় সাদী। মেয়র সুজন মন্ত্রীপুত্রের সমর্থিত কাউন্সিলরদের সাথে নিয়ে নির্বাচনী প্রচারাণা না চালানোয় তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। আর এ কারনেই ভীতিকর পরিস্থিতি সৃস্টি করতে এ হামলা চালানো হয়।

এদিকে  মঞ্জুরুল মজিদ মাহমুদ সাদীর সমর্থকরা জানায়,মনোহরদী পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে বর্তমানে ৬টিতেই বিএনপির কাউন্সিলররা দায়িত্ব পালন করছেন। যাদের প্রত্যেকের সঙ্গেই বর্তমান মেয়র আমিনুর রশিদ সুজনের সখ্যতা রয়েছে। তারা এবারও নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তফসিল ঘোষণার পর বিএনপি কাউন্সিলর প্রার্থীদের ৪টি ওয়ার্ডে যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাদের প্রার্থী করেছেন শিল্পমন্ত্রীর ছেলে মঞ্জুরুল মজিদ মাহমুদ সাদী। এ নিয়ে মেয়র সুজনের সঙ্গে মন্ত্রীপুত্র সাদীর মতবিরোধ দেখা দেয়।

ঘটনার সময়ে মনোহরদী হিন্দুপাড়া সার্বজনীন দুর্গাবাড়িতে আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র আমিনুর রশিদ সুজনের সর্বশেষ উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় যুবলীগের কার্যকরী সদস্য মঞ্জুরুল মজিদ মাহমুদ সাদীসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সভায় কাউন্সিলর প্রার্থীরা তাদের সমর্থকদের নিয়ে যোগ দেন।

রাত ১১টার দিকে সভা শেষে ফেরার পথে কাউন্সিলর প্রার্থী হারুন মাঝি ও খোকন রায়ের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে হারুন মাঝির পক্ষে অবস্থান নেন মেয়র সুজনের সমর্থকরা। আর খোকন রায়ের পক্ষে অবস্থান নেন সাদীর সমর্থকরা। উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে মেয়রের দুই ভাইসহ অন্তত ১২ জন আহত হন। এ সময় উভয় পক্ষের ৮টি মোটরসাইকেল ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ফজলুল হকের গাড়ি ভাংচুর করা হয়।খবর পেয়ে মেয়র সুজনের সমর্থকরা প্রথমে মনোহরদী হিন্দুপাড়ার মনোহরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং দেশ রূপান্তর ও দেশ টিভির সাংবাদিক সুমন বর্মণ, কাউন্সিলর প্রার্থী পৌর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক খোকন রায়, সুকোমল সাহার বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে।

সাংবাদিক সুমন বর্মণের ৩টি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান,৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিহির রায়ের দোকান, চকপাড়া এলাকায় ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী উপজেলা যুবলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শরীফ রায়হানের অফিসে। পরে ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোতাহার হোসেনের অফিস, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শফিকুল ইসলামের মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করা হয়।

৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী খোকন রায় বলেন, মেয়র সুজন ও কাউন্সিলর প্রার্থী হারুন মাঝি আমার বাড়ি ও সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়েছে। তারা পরিকল্পিতভাবে এ বিশৃঙ্খলা ঘটিয়েছে; যাতে ভোটের পরিবেশ নষ্ট হয়।

মনোহরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াশীষ রায় বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত বিরোধের জের ধরে বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা দুঃখজনক।

মনোহরদী পৌরসভা আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আমিনুর রশিদ সুজন বলেন, আমরা হিন্দুপাড়ায় নির্বাচনী উঠান বৈঠক শেষ করে চলে যাওয়ার সময় মন্ত্রীর ছেলে সাদীর সমর্থকরা আমার ও আমার লোকজনের ওপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। আর একের পর এক গুলিবর্ষণ শুরু করে। এরই মধ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আমাকে আঘাত করার সময় আমার দুই ভাই আমাকে বাঁচাতে গেলে তারা গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। তিনি বলেন, এ ঘটনায় আমার ১২ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। একইসঙ্গে আমার এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির গাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে। তবে সাংবাদিকসহ অন্যদের বাড়িঘরে হামলা ও ভাংচুরের বিষয়ে তিনি অস্বীকার করেন।

কেন্দ্রীয় যুবলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য মঞ্জুরুল মজিদ মাহমুদ সাদী বলেন, মেয়র নিজের সুবিধার জন্য বিএনপির কাউন্সিলরদের বিজয়ী করতে চায়। যেহেতু আমি দলীয় কাউন্সিলরের পক্ষে তাই এটাকে ইস্যু করে বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থীদের সমর্থক ও মেয়রের সমর্থকরা নৌকার উঠান বৈঠক শেষে ফেরার পথে আমার ওপর হামলা চালায়। পুলিশ আমাকে উদ্ধার করেছে। তারা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলা চালিয়েছে। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।

মনোহরদী থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, দুইপক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। বর্তমান পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলার যাতে অবনতি না হয় সেজন্য সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button