পারফিউম ফ্যাক্টরী এলকোহল মুক্ত সুগন্ধির দুনিয়ায় পারফিউম ফ্যাক্টরি আপনার জন্য একটি " ব্লাইন্ড বাই" প্লাটফর্ম "পারফিউম ফ্যাক্টরি"।
ফিচার

হ্যাকিং থেকে বাঁচতে হলে জানতে হবে

The Daily Narsingdir Bani

কাউকে যদি প্রশ্ন করা হয় গত এক দশকে সবচেয়ে বেশী পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়েছে কোন সেক্টরে? তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি হবে তার অন্যতম।নিঃসন্দেহে প্রযুক্তি যোগাযোগ ব্যবস্থাকে করেছে সহজ ও দ্রুততর। শুধু দেশ নয় বিশ্বকে নিয়ে এসেছে হাতের মুঠোয়। ছোট কিন্তু কার্যকরি যন্ত্র মোবাইলের মধ্যে দিয়ে দেশে যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে তা ক্রমশই শহর থেকে গ্রামের প্রান্তিক জনপদে পৌছে গেছে। গত দশ বছরের বিটিআরসির পরিসংখ্যান ঠিক সে কথায় বলছে।সেখানে ২০১০ সালে মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৬ কোটি সেখানে ২০২০ সালে এসে ১৬ কোটি অতিক্রম করেছে।

মাইক্রোপ্রসেসর ও সেমিকন্ডাক্টরের আবিষ্কার যেমন কম্পিউটারের মূল্যহ্রাস করেছে সেই সাথে করছে সহজলভ্য।আধুনিক এই প্রযুক্তি ব্যবহার ফলে মোবাইল ফোন হয়ে উঠেছে ডিজিটাল সুবিধা সম্বলিত মিটি কম্পিউটার।ফলে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল গুলোতে চলে আসছে কম্পিউটারের সকল সুযোগ-সুবিধা।তার সাথে ২০০৯ সাল থেকে যুক্ত হয়েছে বর্তমান চতুর্থ প্রজন্মের ইন্টারনেট সুবিধা 4G। শহরে থেকে মফস্বল কিংবা প্রত্যন্ত গ্রামীণ জনপদের মানুষ দ্রুত পরিচিত হয়ে উঠেছে ফেইসবুক,ইউটিউব, টুইটার,অনলাইন, ইমু, ইন্টারনেট সহ সফটওয়্যার ভিত্তিক শব্দের সাথে।আধুনিক সুবিধা সম্বলিত নতুন নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার ও কারিগরি জ্ঞানের অভাবে সুবিধা নিচ্ছে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র।যার ফলে প্রতিনিয়ত ঘটে চলছে সাইবার অপরাধের ঘটনা।

সাইবার অপরাধ কি?

Cyber শব্দটি এসেছে গ্রীক শব্দ Cybernetic থেকে যার অর্থ Skilled in steering or governing-দক্ষতার সাথে পরিচালনা করা।কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সম্পর্কিত কার্যাবলি দক্ষতার সাথে পরিচালনা করার অভাবে এই অপরাধটি সংগঠিত হতে দেখা যায়।

সাইবার অপরাধঃ

সাইবার অপরাধ কে ক্রিমিনোলজির ভাষায় কম্পিউটার ওরিয়েন্টেড ক্রাইম বলা হয়।সাইবার অপরাধ হল কম্পিউটার নেটওয়ার্কের সাথে সম্পর্কিত অপরাধ যা আধুনিক টেলিযোগাযোগ ইন্টারনেট,ইমেল,ফেইসবুক,মোবাইলে এসএসএস ব্যবহার করে, অপরাধমূলক অভিপ্রায় সাধনের উদ্দ্যেশে সরাসরি কিংবা পরোক্ষভাবে কোন ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত সম্মানহানি,হুমকি,প্রতারণা ও আত্মসাতের মাধ্যমে ক্ষতি সাধন করা। এই অপরাধটি মানসিক স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও অার্থিক হুমকির কারণ হতে পারে।আইন বহিভূর্তভাবে ব্যাক্তিগত/রাষ্ট্রীয় গোপনীয় তথ্য ছবি,অডিও, ভিডিও,চুরি তথা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচার-প্রকাশ করলে ভাবমূর্তি নষ্ট হতে পারে।

উদাহরণঃঅবৈধ,অশ্লীন বা আপত্তিকর সামগ্রীর প্রসার,হয়রানি ও হুমকি অর্থদাবী,কপিরাইট,ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি, হ্যাকিং ইত্যাদি।

সাইবার অপরাধের প্রকারভেদঃ

১) সাইবার জালিয়াতি

২)সাইবার সন্ত্রাস

৩)সাইবার চাঁদাবাজি

বিভিন্ন প্রকার সাইবার ঝুঁকিঃ

বাংলাদেশে সাইবার ঝুঁকির বিষয়টি মূলত আলোচনায় আসে ২০১৬ সালের বহুল আলোচিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনার মধ্যে দিয়ে। অসাবধানতা ও অদক্ষতার সুযোগে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮১০ কোটি সমপরিমাণ টাকায় হাতিয়ে নেয় হ্যাকারা।যার মধ্যে দিয়ে বড়সড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

হ্যাকিংঃ

সাইবার অপরাধের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হ্যাকিং হলে ও এর সম্পর্কে খুব অল্প মানুষই ভালো জ্ঞান রাখেন।তবে কম্পিউটার, মোবাইল নেটওয়ার্ক, ফেইসবুক আইডি হ্যাকিং এর শিকার হয় বিষয়টি কমবেশী সবার ই জানা। হ্যাকিং হলো কারো কম্পিউটার বা কম্পিউটার নেটওয়ার্কে অবৈধ অনুপ্রবেশে।বেশীর ভাগ অপরাধীরা প্রথমে একটি ওয়েব সাইট, Fb ID, কম্পিউটার সিস্টেম বা নেটওয়ার্ক সিস্টেমে প্রবেশ করে সম্পূর্ণ বা আংশিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।অবৈধ অনুপ্রবেশের মাধ্যমে অন্যজনের ব্যাক্তিগত তথ্য, ছবি, কথোপকথন এমন কি লেনদেন মতো গোপনীয় বিষয় সম্পর্কে জেনে বিভিন্ন অপরাধমূলক উদ্দ্যেশে ব্যবহার করে অপরাধ সংগঠিত করে থাকে।

হ্যাকারঃ

সাধারণত হ্যাকিং একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কেউ কোন বৈধ অনুমতি ব্যবতীত কোন কম্পিউটার নেটওয়ার্কে প্রবেশ করে। যারা হ্যাকিং করে তারা হ্যাকার।হ্যাকারদের চিহ্নিত করা হয় হেড/টুপি দিয়ে।

যেভাবে হ্যাকিং থেকে বাঁচবেনঃ

১/অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন/মিসডকল আসলে যথাসম্ভব সাথে সাথে কল করা থেকে বিরত থাকুন।কেউ আপনার ব্যাক্তিগত তথ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে জেনে বুঝে তারপর সিদ্ধান্ত নিন।অপরিচিত ব্যাক্তি আপনার গোপনীয় পিন অথবা নাম্বার চাইলে ধরে নিবেন প্রতারক।

২/যে কোন ওয়েবসাইটের বিজ্ঞাপনে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকুন। এতে করে আপনার ডিভাইসের কোড ডাউনলোড হয়ে যেতে পারে।যার মাধ্যমে আপনার গোপনীয় তথ্য অন্যের কাছে চলে যাবে।এতে করে হ্যাকারা সহজে হ্যাকিং করতে পারবে।

৩)আজকাল অনলাইনে কেনাকাটা করার জন্য নাম, ঠিকানা, ইমেইল,ফোন নাম্বার, ক্রেডিট কার্ডের তথ্য দিতে হয়।এই গুলোর নিরাপত্তা দুর্বল হলে আপনার ইমেল হ্যাকিং ও ক্রেডিট কার্ড শূন্য হয়ে যেতে পারে।

৪)অপরিচিত সোর্স থেকে কোন প্রোগ্রাম ডাউনলোড করা থেকে বিরত থাকুন।

৫)ভালো এন্টিভাইরাস প্রোগ্রাম ব্যবহার করুন।পাইরেটেড সফটওয়্যার যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন।

৬)কোন প্রোগ্রাম বা সফটওয়্যার ওপেন করার আগে এন্টিভাইরাস ও এন্টিম্যালওয়ার দিয়ে স্ক্যান করে নিন।

৭)অনলাইনে পন্য অর্ডার করার আগে ওয়েবসাইট সম্পর্ক জেনে নিন।সুপরিচিত মনে না হলে বিরত থাকুন।এতে করে প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে না।

৮)মূল্যপরিশোধ করার সময় ক্রেডিট কার্ডে তথ্য যেন চুরি না হয় সে সম্পর্কে দৃষ্টি রাখুন।

৯)ফেইসবুকে অনেক ওয়েবসাইট থেকে বিভিন্ন ভাবে ক্লিক করার অফার আসে, সেগুলো এড়িয়ে চলুন।

১০)পর্ণ সাইড গুলো থেকে দূরে থাকুন।

লেখকঃ

The Daily Narsingdir Bani

অভিজিৎ সরকার

ক্রিমিনোলজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button