নরসিংদীর খবরনরসিংদী সদর

চাঁদাদাবী ও জুয়েলারী দোকানে জোরপূর্বক তালা দেয়ায় নরসিংদীতে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদ

দোকান তালাবদ্ধ করে সীল করে দেয়া হয়েছে।

বাণী রিপোর্ট : চাঁদাদাবী ও জুয়েলারী দোকানে সন্ত্রাসী কায়দায় তালা দেয়ায় নরসিংদী বাজারের সকল স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ রেখে ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে। সুষ্ঠ বিচার না হওয়া পর্যন্ত বাজারের শতাধিক স্বর্ণের দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে ব্যবসায়ীরা।

পারফিউম ফ্যাক্টরি

সোমবার (২৩ নভেম্বর) দোকান বন্ধ রেখে ও দোকানের সামনে অবস্থান করে চাঁদাদাবীর ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন নরসিংদী বাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা।

ধর জুয়েলার্সের মালিক, নরসিংদী শহর শিল্পী সমিতির সদস্য সুজিত ধর সাংবাদিকদের জানান, নরসিংদী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন ভূইয়ার ছেলে ও বাংলাদেশ জুয়েলারী সমিতি নরসিংদী জেলা শাখার সভাপতি খলিলুর রহমান শুভ এবং সাধারণ সম্পাদক মো: ওয়ালিউল্লাহ সজিব দীর্ঘ দিন যাবত বাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের তাদের সমিতির অন্তর্ভূক্ত হওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছে। তারা স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের কাছে দোকান প্রতি রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ এককালীন ৩হাজার টাকা ও মাসিক চাঁদা দোকান প্রতি ২হাজার টাকা দিতে ব্যবসায়ীদে বারবার তাগাদা করছে। কিন্ত নরসিংদী শহর শিল্পী সমিতির সদস্যরা বাংলাদেশ জুয়েলারী সমিতির সদস্য হতে নারাজ। চাঁদা দিয়ে তাদের সদস্য না হওয়ায় রবিবার (২২নভেম্বর) সন্ধা সাড়ে ৬টায় বাংলাদেশ জুয়েলারী সমিতির লোকজন সন্ত্রাসী কায়দায় জোরপূর্বক নরসিংদী শহর শিল্প সমিতির সভাপতির দোকানে তালা দিয়ে সিল করে দেয়।

হাতি মার্কা সাবান হাতি মার্কা সাবান

এ ঘটনায় রবিবার রাতেই স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা নরসিংদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন ভূইয়া ঘটনার তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

নরসিংদী সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ বিপ্লব কুমার দত্ত চৌধুরী জানান, অভিযোগ পেয়ে সাথে সাথেই তালাবদ্ধ দোকান খুলে দেয়া হয়েছে। উভয় স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করবেন।

দোকান বন্ধ রেখে প্রতিবাদ করছে স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা।

নরসিংদী শহর শিল্পী সমিতির সদস্যরা জানিয়েছেন, আমরা ঢাকা ভিত্তিক সংগঠনের সাথে যুক্ত হবো না। তাদের সংগঠনের নেতৃত্ব পর্যায়ে কোন স্বর্ণ ব্যবসায়ী নেই। চাঁদাবাজি করাই ওই সমিতির লক্ষ্য। আমরা এ ন্যক্কারজনক ঘটনার বিচার চাই। বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলব না।

এ ব্যপারে বাংলাদেশ জুয়েলারী সমিতি নরসিংদী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক, মো: ওয়ালিউল্লাহ সজিব মোবাইল ফোনে জানান, আমাদের সমিতির কেউ দোকানে তালা দেয় নাই। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করলেই কে দোকান তালা দিয়েছে তাকে চিহ্নিত করা যাবে।তাদের অভিযোগ মিথ্যা। আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক বিভাজনের কারনে প্রতিপক্ষ আমাদের উপর দোষ চাপাতে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

সমিতির রেজিস্ট্রেশন ও মাসিক চাঁদার বিষয়ে তিনি আরো জানান, আমরা রেজিস্ট্রেশন ফি দোকান প্রতি ৩হাজার ও মাসিক চাঁদা দোকান প্রতি ২হাজার টাকা নির্ধারণ করে ছিলাম। স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা উক্ত পরিমান টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে বাংলাদেশ জুয়েলারী সমিতির ঢাকার নেতৃবৃন্দের সাথে আলাপ করে রেজিস্ট্রেশন ফি ৫শত ও মাসিক চাঁদা দোকান প্রতি ৫শত টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজুস সরকারী নীতিমালা অনুসরন করে থাকে। কিন্তু নরসিংদী শহর শিল্পী সমিতির সদস্যরা সরকারী নিয়মকানুন মানতে রাজী নয়। সরকারী নিয়ম মানলে তাদের ভ্যাট-ট্যাক্স দিতে হবে। ট্যাক্স ফাঁকি দিতে তারা সমিতির অন্তর্ভূক্ত হতে চায়না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button