নরসিংদীর খবর

নরসিংদীতে রেলওয়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান, পথে বসছে প্রান্তিক ব্যবসায়ীরা

শেয়ার করুনঃ

The Daily Narsingdir Bani

বাণী রিপোর্ট : নরসিংদীতে রেলওয়ের জায়গা দখল করে তৈরি করা অবৈধ স্থাপনায় উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এতে নি:শ্ব হয়ে পথে বসছে প্রান্তিক ব্যবসায়ীরা। লাভবান হয়েছে মধ্যসত্বভোগী কথিত লীজ গ্রহিতা। যারা লীজের নামে ব্যবসায়ী ও বাড়ির জন্য প্রান্তিক মানুষদের নিকট থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা পজিশন বিক্রির নামে হাতিয়ে নিয়েছে।

বুধবার (২৮অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় শুরু হওয়া এ অভিযান চলবে বিকাল পর্যন্ত। পরবর্তী দুইদিন এ অভিযান চলবে বলে জানা গেছে।

রেলওয়ের বিভাগীয় এস্টেট কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নজরুল ইসলাম উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছেন। তাকে সহযোগীতা করছেন নরসিংদী জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। রেলওয়ের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক কে এম সালাহ উদ্দিন জানান, নরসিংদী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রেলওয়ের জমি অবৈধভাবে দখল করে বাসা বাড়ি, দোকানপাটসহ বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করেছে প্রভাবশালীরা।

নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশন থেকে শুরু করে সাবেক রেলসড়কের বাসাইল শাপলা চত্বর পর্যন্ত দুই হাজার ছোট বড় অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়েছে। দোকানপাটসহ এসব অবৈধ স্থাপনা বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। প্রথম দিন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ১২ শত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে বলে জানান তিনি। পর্যায়ক্রমে সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ভুক্তভোগীরা জানান, স্থানীয় একশ্রেণীর পেশীশক্তিধারী দখলবাজরা রেলওয়ে থেকে লীজ আনার নাম করে প্রথমে জায়গা দখলে নেয়। পরে তারা লীজের সম্পত্তির পজেশন বিক্রি করা হবে বলে প্রচার করতে থাকে।

তাদের প্রতারণার ফাঁদে পা দেয় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সাধারণ ব্যবসায়ী ও ভূমিহীন খেটে খাওয়া মানুষজন। তারা লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ষ্ট্যম্পের মাধ্যমে জায়গার পজিশন কিনে নেয়। পজিশনের এসব সরকারী জায়গায় কেহ ব্যবসার জন্য দোকান, কেহ বসতবাড়ী নির্মাণ করে দিনযাপন করছে।

উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাজার হাজার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ। তাদের রুটিরোজির সব রাস্তা এখন বন্ধ হয়ে গেছে। উচ্ছেদ চলাকালে প্রভাবশালী পেশী শক্তিধারীদের অবৈধ দখল থেকে ৯৮শতাংশ পুকুর ও পারটিয়া ভূমি উদ্ধার করে বানিয়াছল এলাকার বৈধ লিজ গ্রহিতা সহিদ উদ্দিন চৌধুরীর নিকট ফিরিয়ে দেয়া হয়। বটতলা বাজারের অধিকাংশ অবৈধ দোকানপাট ভেঙ্গে ফেলা হলে সহিদ চৌধুরী ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক ব্যবসায়ীদেরকে তার লীজকৃত পুকুর পাড়ে জায়গা করে দেন। কোন প্রকার বিনিময় ছাড়া তিনি প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের দোকান করার সুযোগ করে দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button