আইন-আদালতনরসিংদীর খবর

অবৈধভাবে টোল আদায় করায় হাজীপুর কাঠবাজারের সাবেক ইজারাদার বদর উদ্দিন’র বিরুদ্ধে মামলা দায়ের

  সাক্ষ্য না দিতে সাক্ষীদের বাড়িতে দৌড়ঝাঁপ, ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর আদায়

The Daily Narsingdir Baniস্টাফ রিপোর্টার: ১১ বছর যাবত নরসিংদী সদর উপজেলার হাজীপুর কাঠবাজারে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে, সরকারের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে, অবৈধভাবে জোরপূর্বক টোল আদায় করায় বাজারের সাবেক ইজারাদার মোঃ বদর উদ্দিন (বদু)’র বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পারফিউম ফ্যাক্টরি The Daily Narsingdir Bani

মামলা দায়েরের পর এবার মামলার আবেদনে উল্লেখিত সাক্ষীদের বাড়ীতে গিয়ে তাদেরকে মামলায় সাক্ষ্য না দেয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে মামলার আসামী সাবেক ইজারাদার বদর উদ্দিন। ইতিমধ্যেই বদর উদ্দিন ও তার লোকজন বাজার থেকে মালামাল ক্রয়কারী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার একাধিক ব্যবসায়ীকে মামলায় সাক্ষ্য না দিতে  নানাভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর নরসিংদী সদর উপজেলার করিমপুর বাজারের ব্যবসায়ী ও অত্র মামলার স্বাক্ষী কামাল মোল্লা ও হাজিপুর কাঠ বাজারের ফার্ণিচার ব্যবসায়ী কাজিম উদ্দিন এর নিকট থেকে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়েছে মামলার আসামী বদর উদ্দিন। বিভিন্ন কায়দায় সাক্ষীদের নিকট থেকে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে মামলার অপর স্বাক্ষীগণ। সাক্ষীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা যায়, দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর যাবত বদর উদ্দিন বদু বিভিন্ন কলাকৌশলে, স্থানীয় প্রভাব ও পেশিশক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে বাজার ইজারা নিয়ে

হাতি মার্কা সাবান হাতি মার্কা সাবান

ইচ্ছেমতো বাজারের ক্রেতা বিক্রেতাদের নিকট অবৈধভাবে টোল আদায় করে প্রচুর অর্থবিত্তের মালিক হয়। ১১ বছরে একদিনের জন্যও বাজারে সরকার নির্ধারিত টোল চার্ট স্থাপন করে টোল আদায় করেনি। এতে ক্রেতা বিক্রেতাগণ জানতে পারেনি কোন পন্য বেচাকেনা হলে ক্রেতা বিক্রেতাদের কে টোল প্রদান করবেন। আর এই সুযোগে ইজারাদার ও তার লোকজন প্রভাব খাটিয়ে তাদের ইচ্ছেমতো টোল আদায় করেছে।

অবৈধ টোল আদায় বন্ধে ইজারাদারের বিরুদ্ধে গত ৫ মে ২০১৯ ইং তারিখে নরসিংদী জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেন এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবী, সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বাজার ব্যবসায়ী সুজিত সূত্রধর। তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক, নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে আবেদনের বিষয়ে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে গৃহিত ব্যবস্থা সম্পর্কে জেলা প্রশাসনকে অবহিত করার নির্দেশ প্রদান করেন। পরে গত ২৪ জুন ২০১৯ তারিখে নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল মোতালেব বাদী-বিবাদী, বাজারের ব্যবসায়ী ও এলাকার লোকজনের উপস্থিতিতে সরেজমিনে তদন্ত করেন।

অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম জামেরি হাসান হাজিপুর কাঠ বাজারের ইজারাদারকে গত ১১ নভেম্বর ২০১৯ তারিখে পত্র প্রেরণ করেন। পত্রে উল্লেখ করা হয়, ‘বাজার পরিদর্শনে দেখা যায় বাজারের কোথাও টোল চার্ট টানানো নেই। যার কারণে বাজারের ক্রেতাগণ টোলের পরিমাণ জানতে পারেনা বিধায় ইজারা গ্রহীতাগণ ইচ্ছেমতো টোল আদাল করে থাকেন। এ বিষয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে অভিযোগ পাওয়া যায়। এমতাবস্থায় আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে আবশ্যিকভাবে টোল চার্ট টানিয়ে ছবি প্রেরণের নির্দেশনা দেয়া হয় ইজারাদারকে।’ পত্র দেয়ার পরও উপজেলা নির্বাহী অফিসের নির্দেশ অমান্য করে অবৈধভাবে টোল আদায় করতে থাকে ইজারাদার বদর উদ্দিন। ইতোমধ্যে উক্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অন্যত্র বদলি হয়ে যান।

সরকারি নির্দেশ অমান্য করে জোড়পূর্বক টোল আদায়ের বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এরপরও টনক নড়েনি ইজারাদারের। তার মেয়াদ পর্যন্ত সে অবৈধভাবে টোল আদায় করে যায়। পরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইজারাদারের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ভুক্তভোগী ক্রেতা-বিক্রেতাদের পক্ষ অবলম্বন করে বাজারের ব্যবসায়ী ও জনস্বার্থে ইজারাদারের বিরুদ্ধে সরকারি দপ্তরে অভিযোগকারী সুজিত সূত্রধর বাদী হয়ে নরসিংদীর বিজ্ঞ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সাবেক ইজারাদার বদর উদ্দিন (বদু) ও তার ছেলে তানভীর এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ৫১৮/২০, ধারা ৪২০/১০৯/৫০৬ (॥) দ:বি:। উক্ত মামলায় বিজ্ঞ আদালত নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসিকে তদন্তপূর্বক ২০২ ধারায় স্বাক্ষীদের জবানবন্দি রেকর্ড করে আদালতে উপস্থাপনের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।

মামলা বাদী সুজিত সূত্রধর জানান, ইজারাদার বদর উদ্দিন ও তার সহযোগিরা এলাকায় প্রভাবশালী ও সন্ত্রাসী প্রকৃতির। তারা ইতোপূর্বে আমার ও আমার ছেলের উপর একাধিকবার হামলা চালিয়ে প্রাণনাশের চেস্টা করেছে। তার অপকর্মের বিরোধীতা করায় কয়েক বছর পূর্বে হাজীপুর ইউপির সাবেক মেম্বার লাল মোহন সাহা (লালু মেম্বার) কে বদু ও তার বাহিনীর লোকজন বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। সন্ত্রাসী হামলায় পঙ্গুত্ব বরণকারী লালু মেম্বার ধুকে ধুকে মৃত্যুবরণ করেন। হামলার ঘটনায় আহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলাতো দূরের কথা থানায় অভিযোগ পর্যন্ত করার সাহস পায়নি। প্রাণভয়ে পরিবারের লোকজন এখন এলাকা ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করছে।

মামলা দায়েরের পর থেকে আসামী বদর উদ্দিন বদু ও তার লোকজন আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে। যে কোন সময় তারা আমার ও আমার পরিবারের লোকজনের বড় ধরনের ক্ষতি সাধন করতে পারে। ইতোমধ্যে তারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বদর উদ্দিন তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার সাক্ষীদের নিকট থেকে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়া শুরু করেছে। আমার বিরুদ্ধে নানা কল্পকাহিনী সাজিয়ে অপপ্রচার করে যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button