কবিতা

আজ বিভীষিকাময় ২১ আগস্ট

এম.হানিফা

শেয়ার করুনঃ
The Daily Narsingdir Bani২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিকাল ৫টা ২২মিনিট হলো বাংলাদেশের ইতিহাসে এক করুণ বেদনার ডে
নরঘাতক হায়েনারা ধ্বংস করতে চেয়েছিল আওয়ামীলীগকে ঐদিন হামলা করে দ্বারা গ্রেনেডে।
স্বাধীন বাংলাদেশর অন্ধকার ইতিহাসের সূচনা তারা-ই করে ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট তারিখে
তার-ই ধারাবাহিকতায় ওরা সেইদিন করেছিল লোমহর্ষক দানবীয় গ্রেনেড হামলা কেঁদেছিল মানবতা যা দেখে।
ভয়াল ও বীভৎস এই গ্রেনেড হামলার উদ্দেশ্য ছিল চিরতরে ধ্বংস করে ফেলা বাংলাদেশ আওয়ামীলীগকে
গ্রেনেডের তান্ডবে ঐদিন থমকে গিয়েছিল পুরোদেশ দেখেছিল হায়েনাদের নারকীয় হত্যাযজ্ঞ দেশের সকল লোকে।
ঘটনাস্থলেই প্রাণহানি ঘটেছিলো ১৬টি তাজা প্রাণের আহত হয়েছিল হাজারে হাজার
আল্লাহ বিনে ছিল না কেউ ঐদিন বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে মানুষের রক্ত মাংসের স্তুপ থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আহত নেতা-কর্মীদের বাঁচাবার।
আকাশ-বাতাস সেইদিন ভারী হয়েছিল মানুষের করুণ আর্তনাদ আর বাঁচার আকুতিতে
হাজারো মানুষ সাহায্যের জিন্যে এগিয়ে আসলেও পারেনি কিছুই করতে সরকারের নির্দেশে পুলিশের বাধাতে।
হাত-পা হারানো স্প্রিন্টারবিদ্ধ শত শত মানুষ অসহায় হয়ে কান্নাকাটি করেছিল বঙ্গবন্ধু এভিনিউ জুড়ে
স্বজন হারানো মানুষগুলো ছুটে এসেছিল সেইদিন স্বজনের খুঁজে হাজারো মানুষের ভীড়ে।
নেতা-কর্মী আর দেহরক্ষীরা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে বাঁচাতে তৈরি করেছিল মানবঢাল
প্রচণ্ড বাধার কারণে কাউকে কেউ চিকিৎসার জন্য ঐদিন নিতে পারেনি হাসপাতাল।
হানিফ -আইভি সহ সর্বমোট প্রাণ দিয়েছিলেন ২৪ জন নেতাকর্মী ও নিরাপত্তাকর্মী সেখানে সেইদিন
ইতোপূর্বে মানবজাতি এমন জঘন্য ও ভয়াল গ্রেনেড হামলা স্বচক্ষে সভ্য যুগে দেখেনি কোনদিন।
আহতরা আজও শরীরে স্প্রিন্টার নিয়ে দুর্বিষহ জীবন-যাপন করে চলেছে মৃত্যুর দুয়ার থেকেএসে ফিরে
ইতিহাস কোনদিন ভুলতে পারবেনা দানবীয় এই গ্রেনেড হামলার কথা যত কালই আসুক ঘুরে-ফিরে।
হায়েনার দল যে কত অমানবিক হতে পারে তা নির্বাক চোখে দেখেছিল মানুষ ২১আগস্ট ২০০৪ সালে
কেমন করে তাজা প্রাণ তাৎক্ষণিক ঢলে পরেছিল ভয়ংকর গ্রেনেড হামলায় মৃত্যুর কোলে।
সোনার বাংলার উন্নয়ন অভিযাত্রা,আওয়ামীলীগ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তিকে চিরতরে ধ্বংস করতে
এটাই ছিল স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির অন্যতম পদক্ষেপ যা অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে বেদনার স্মৃতিতে।
ক্ষমতার লোভ আর বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সোনার বাংলাকে দাবিয়ে রাখতেই করেছিল এই হামলা
অতীব দুঃখের বিষয় এই হামলার পর নিতে চেয়েছিল না পাশের থানাগুলোতে কোন মামলা।
পরের দিন তৎকালীন সরকার প্রধান ও সহযোগীদের কর্তৃক মহান জাতীয় সংসদে সমালোচনা হয়েছিল হামলার স্বীকার হওয়াদের বিরুদ্ধে বেধম
যা হয়েছিল ১৯৭৫ এ-র ১৫ আগস্টের হত্যাযজ্ঞের পর শেখ পরিবারের সদস্যদের চরিত্র হনন সহ সমালোচনা নানান রকম।
দেশের সকল অর্জনে নেতৃত্বদানকারী দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগকেই বারবার স্বীকার হতে হয়েছে
বিভিন্ন সময়ে বর্বর হামলার যার ফলে অনেক নেতা-কর্মীকে অকালে সম্ভাবনার জীবন হারাতে হয়েছে।
এই নৃশংস হামলাকে আড়াল করতে আর ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে তৎকালীন সরকার প্রধান সেইদিন
নানারকম নাটক যেমন জজ মিয়া নাটকসহ বিভিন্ন অন্যায় করেছিল যাতে প্রকৃত দোষীদের বিচার না হয় কোনদিন।
২মিনিটের মধ্যে সেইদিন জন নেত্রী শেখ হাসিনার সভাস্থলে ব্লাস্ট হয়েছিল ১৩টি শক্তিশালী গ্রেনেডের
ইতিহাসের এই ভয়াল আর বর্বরোচিত হামলার বিচার হবে একদিন স্বাধীন দেশের বুকে সকল আসামীর।
এই শোকগাথা হউক চেতনা বিকাশের শক্তি এগিয়ে চলার দিকপাল আর সকলের মনোশক্তি
আজকের এইদিনে সকল শহীদের প্রতি রইলপুরো পরম শ্রদ্ধা আর মনের গভীর থেকে ভক্তি।
হামলা-মামলা দিয়ে কোনদিন পরাজিত শক্তি দমাতে পারবেনা আওয়ামী লীগকে স্বাধীন দেশে কোনদিন
এই দলের হাতেই দেশ ভালো থাকবে উন্নয়ন করে ফিরিয়ে আনবে বাঙালি জাতির জীবনে সুদিন।
ভালো থাকবেন পরপারে হে শহীদ ভাই ও বোনেরা যারা জীবন দিয়েছেন ঐদিন দেশের জন্যে
আপনাদের এই আত্মত্যাগ যেনো কাজে লাগে দেশ-জাতি আর মানবতার কল্যাণে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button