নরসিংদীর খবরমনোহরদী

পুলিশ ও সেনা অফিসার পরিচয়ে অপহরণ ও চাঁদাবাজি করতে গিয়ে ২জন আটক

শেয়ার করুনঃ

The Daily Narsingdir Bani

হারুন অর-রশিদ : নরসিংদীর মনোহরদীতে পুলিশের এসবি অফিসার ও সেনা বাহিনীর ক্যাপ্টেন পরিচয় দিয়ে ব্যবসায়ীর নিকট চাঁদাদাবী ও তাকে অপহরণ করতে গিয়ে দুই প্রতারক আটক হয়েছে। আটককৃতরা হলো পুলিশের এসবি অফিসার এবং সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন পরিচয়দানকারী মো. জোবায়ের আহম্মেদ খান কানন(৪৫) ও পোলট্রি মুরগীর বাচ্চা ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলাম (৪২)।

সোমবার (২৭জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মনোহরদীর পূর্ব রামপুর এলাকা থেকে পোলট্রি ফিড ব্যবসায়ী আপন মিয়া কে অপহরণের সময় তাদের আটক করে রামপুর ফাঁড়ি পুলিশ। আজ মঙ্গলবার পুলিশ গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করে।

মামলার ১ নং আসামী, গ্রেফতারকৃত জোবায়ের আহম্মেদ খান কানন নেত্রকোনার জেলার দূর্গাপুর উপজেলার নাগের পাতি গ্রামে মৃত আব্দুল মান্নানের পুত্র। বর্তমানে সে গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় বসবাস করছে । ২নং আসামী মো. রফিকুল ইসলাম গাজীপুর জেলার বাসন থানার দক্ষিন সালনা গ্রামের পিতামৃত নুরুল ইসলামের পুত্র ।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রামপুর বাজারের পোলট্র্রি ফিড ব্যবসায়ী মোঃ আপন মিয়ার সাথে ৬/৭ মাস পূর্বে পরিচয় হয় পোলট্রি বাচ্চা ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলামের। ঘটনার দিন রাত সাড়ে ৮টায় আসামীরা সাধা রং এর একটি প্রাইভেটকার নিয়ে দোকানে এসে না পেয়ে তারা আপন মিয়ার বাড়ীতে যায়। বাড়ীতে আপন মিয়ার সাথে আলাপ আলোচনাকালে মো. জোবায়ের আহম্মেদ খান নিজেকে পুলিশের এসবি অফিসার পরিচয় দিয়ে ১০লাখ টাকা চাঁদাদাবী করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামীরা ব্যবসায়ী আপন কে অপহরণের উদ্দেশ্যে জোরপূর্বক প্রাইভেটকারে উঠাতে থাকে। এসময় প্রাইভেটকারের চালক অপহরণের ঘটনা বুঝতে পেরে গাড়ী চালাতে অক্ষমতা প্রকাশ করেন। আর এ সুযোগে ব্যবসায়ী আপন মিয়া ডাক চিৎকার শুরু করলে পরিবারের সদস্যরা ও আশে পাশের লোকজন এগিয়ে এসে আসামীদের আটক করে।

পরে খবর পেয়ে রামপুর ফাঁড়ি পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মো. জোবায়ের আহম্মেদ খান কানন(৪৫) ও মো. রফিকুল ইসলাম (৪২)কে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা চাঁদাদাবী, অপহরণ ও প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করে। মো. জোবায়ের আহম্মেদ খান কানন পুলিশের নিকট নিজেকে সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন পরিচয় দেয়। তবে কোন পরিচয়পত্র দেখাতে পারেনি।

এ ঘটনায় পোলট্রি ফিড ব্যবসায়ী আপন মিয়া বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করে। মনোহরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, ‘আটককৃতদের বিরুদ্ধে মনোহরদী থানায় চাঁদাবাজি ও অপহরণ আইনে মামলা হয়েছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button