নরসিংদীর খবরনরসিংদী সদর

প্রশাসনের হস্তক্ষেপে গৃহবন্দীত্বের অবসান হলো দুটি পরিবারের

এভাবেই বেঁচে থাকুক মানবিকতা

শেয়ার করুনঃ

The Daily Narsingdir Baniবাণী রিপোর্ট : নরসিংদী জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সদর উপজেলার দুটি পরিবারের দীর্ঘ দিনের বন্দীত্বের অবসান হলো। নরসিংদীর সদর এসিল্যান্ড মো: শাহ আলম মিয়ার মধ্যস্থতায় দুটি পরিবারের বিশজন সদস্য ফিরে পেল স্বাধীনভাবে রাস্তা দিয়ে চলাচলের অধিকার। এলাকাবাসির অভিব্যক্তি, প্রশাসনের সহায়তায় “এভাবেই বেঁচে থাকুক মানবিকতা”।

শনিবার (২৫জুলাই) মাধবদী নোয়াপাড়া এলাকার আনোয়ার হোসেন ও কাজল মিয়াকে চলাচলের রাস্তা বের করে দিয়ে দীর্ঘ দিনের বন্দীত্বের অবসান করেন এসিল্যান্ড শাহ আলম মিয়া।

জানায়ায়, মাধবদী নুরালাপুর ইউনিয়ন ৭ নং ওয়ার্ড নোয়াপাড়া  গ্রামের সিরাজুল ইসলাম কাছ প্রায় আট বছর পূর্বে আবু হানিফ খোকন ৩.৩৩ শতাংশ ও  ও কাজল মিয়া ২শতাংশ এবং বাড়ি থেকে বের হওয়ার রাস্তা হিসেব ০.৬৬ শতাংশ জায়গা  ক্রয় করে সেখানে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসবাস করতে থাকেন। দীর্ঘদিন রাস্তা ব্যবহারে কোন সমস্যা না হলেও গত ছয় মাস আগে দুই পরিবারের চলাচলেরে একমাত্র রাস্তাটি দেয়াল দিয়ে বন্ধ করে দেয় জমি বিক্রেতা মোঃ সিরাজুল ইসলাম। এতে  দুই পরিবারের সদস্যরা জরুরী প্রয়োজনে কখনও দেয়াল টপকে, আবার কখনও জলার পানি মাড়িয়ে যাতায়াত করতে হতো।

The Daily Narsingdir Bani
রাস্তা খুলে দিচ্ছেনে এসিল্যন্ড মো: শাহ আলম মিয়া।

ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জনান, জমির ক্রয়ের দলিলের চৌহদ্দিতে স্পষ্টভাবে রাস্তা ব্যবহারের বিষয়টি উল্লেখ করা আছে। কিন্তু সিরাজুল ইসলাম প্রভাব খাটিয়ে ওই রাস্তায় দেয়াল নির্মাণ করেন। পাশ দিয়ে চলাচলের জায়গাটি শৌচাগার বানিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়। নুরালাপুর ইউনিয়ন পরিষদ এর চেয়ারম্যান খাদেমুল ইসলাম জনান, তিনি কয়েক বার সালিশে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা বিফল হন।

এ অবস্থায় অবরুদ্ধ থাকা দুটি পরিবারের প্রায় ২০জন সদস্য দীর্ঘদিন মানবতার জীবন যাপন করছে । জরুরী  প্রয়োজনে তারা বাড়ির বাহিরে ও ভিতরে ঢুকতে না পারায়  যেন থমকে গেছে তাদের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রা।

পরবর্তীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুটি পরিবারের অবরুদ্ধ থাকার বিষয়টি উঠে আসে। বিষয়টি আমলে নেন নরসিংদী জেলা প্রশাসন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নরসিংদী সদর এসিলেন্ট মোঃ শাহ আলম মিয়া  শনিবার ( ২৫ জুলাই ) তিনি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং  পরিবার  দুটির বাড়ি থেকে বের হওয়ার রাস্তার  ব্যবস্থা করেন। তিনি  এক সপ্তাহের মধ্যে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান খাদেমুল ইসলাম ফয়সাল কে রাস্তা নির্মাণ করে দেয়ার নির্দেশ দেন। এতে করে দুটি পরিবারের মুখে হাসি ফোটে।

এসিল্যান্ড মো: শাহ আলম মিয়া জানান, জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন স্যারের সদয় নির্দেশে সমস্যার শুনানীঅন্তে সমাধান করা হয়। সকলের মতামতের ভিত্তিতে বিকল্প রাস্তা নির্ধারণ করা হয়। আগামী ০৭ দিনের মধ্যে বিকল্প রাস্তা তৈরি করতে সম্মত হয়েছেন জমি বিক্রেতা। বিষয়টি দেখভাল করবেন সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান। এসময় তিনি সার্বিক সহযোগিতার জন্য মাধবদী থানা পুলিশ, নুরালাপুর ইউপি চেয়ারম্যান, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সংবাদ কর্মীগণ, আনসার-ভিডিপি সদস্যদের ধন্যবাদ জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button