বেলাবোনরসিংদীর খবর

গৃহবধুর লাশ বেলাব হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্বামী আটক

শেয়ার করুনঃ

The Daily Narsingdir Bani

বাণী রিপোর্ট : কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর উপজেলায় গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় স্ত্রীর লাশ বেলাব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এসে আটক হলেন স্বামী।

শুক্রবার (১০জুলাই) দুপরে স্মৃতি আক্তার নামে গৃহবধুর লাশ নরসিংদীর বেলাব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেখে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্বামী মোঃ কেরামত আলীকে স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।

জানা যায়, ৩/৪ বছর পূর্বে নরসিংদী বেলাব উপজেলার আমলাব ইউনিয়নের হানিয়াবাইদ গ্রামের জগৎ মিয়ার মেয়ে স্মৃতি আক্তার(২৫)এর বিয়ে হয় পার্শ্ববর্তী কিশোরগঞ্জ কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের হাপানিয়া গ্রামের মোবারক হোসেনের ছেলে কেরামত আলীর সাথে। দাম্পত্য জীবনে তাদের আশা নামের ১০ মাসের এক কন্যা সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে প্রায়ই স্বামীর বাড়ির লোকজনের সাথে স্মৃতি আক্তারের পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে ঝগড়া হতো। শুক্রবার সকালে শাশুড়ির সাথে স্মৃতি আক্তারের ঝগড়া হয়।এক পর্যায়ে স্মৃতি আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে ওড়না দিয়ে ফাঁসিতে ঝুলে।

নিহত গৃহবধুর স্বামী কেরামত আলী জানান সকালে তিনি বাড়িতে না থাকায় তার মায়ের সাথে স্ত্রী স্মৃতির ঝগড়া হয়। তা থেকেই রাগ ও অভিমান করে বসত ঘরে তার স্ত্রী নিজের ওড়না গলায় পেচিয়ে ফাঁসিতে ঝুলে।চিকিৎসার জন্য তাকে বেলাব হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।বেলাব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্মৃতিকে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নিশ্চিত হন মৃত্যু হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে আনা হয়েছে।

স্ত্রীর মৃত্যুর খবর শুনে হাসপাতালে লাশ রেখে স্বামী কেরামত আলী পালিয়ে যেতে চাইলে স্ত্রী হত্যার সন্দেহে এলাকাবাসী তাকে আটক করে থানায় খবর দেয়। বেলাব থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করাসহ স্বামী কেরামত আলীকে আটক করেছে।

নিহত গৃহবধু স্মৃতি আক্তারের বাবা জগৎ মিয়ার অভিযোগ, প্রায়ই তার মেয়েকে তারা নির্যাতন করতো। আজ সকালেও তার মেয়ে স্মৃতি তাকে মেরে ফেলার আশংকা করে ফোন করে। এর কিছুক্ষণ পরই মেয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে খবর আসে।স্বামীর বাড়ির লোকজন স্মৃতিকে মেরে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে প্রচার করতেছে।

বেলাব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক শেখ শাহরিয়ার ইমরান বলেন,হাসপাতালে আনার আগেই গৃহবধু মারা গেছে। আমরা গৃহবধুকে মৃত অবস্থায় পেয়েছি।

বেলাব থানার ওসি মোঃ সেফায়েত হোসেন পলাশ বলেন, শশুর বাড়ির লোকজনের গণপিটুনী থেকে বাঁচানোর জন্য নিহত গৃহবধুর স্বামীকে আমরা পুলিশ হেফাজতে নিয়েছি। যেহেতু ঘটনাটি কুরিয়ারচর থানার,আমি কুলিয়ারচর থানাকে অবগত করেছি। তারাই এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নিবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button