স্বাস্থ্যকথা

অকারণেই ঘামছে হাত-পা, জানুন সমাধান

The Daily Narsingdir Bani

স্বাস্থ্য ডেস্কঃশহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের প্রধান রাশেদ খান বলেন, হাত-পা ঘামার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো বের করা যায়নি। তবে বংশগতভাবে এ রোগ থাকা, শারীরিক কিছু সমস্যা, শরীরের ভেতরের ভারসাম্যহীনতা, মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা প্রভৃতি কারণে হতে পারে।
হাত-পা ঘামার কারণ:
হাত-পা ঘামার প্রাথমিক কারণ হিসেবে তেমন কিছু পাওয়া যায়নি। তবে অতিরিক্ত স্নায়বিক উত্তেজনার কারণে ঘাম হয়ে থাকে। এ ছাড়া আরও নানা কারণে হাত-পা ঘেমে থাকে। যেমন পারকিনসন্স ডিজিজ, থাইরয়েডে সমস্যা, ডায়াবেটিস, জ্বর, শরীরে গ্লুকোজের স্বল্পতা, মেনোপোজের পর প্রভৃতি। অনেক সময় শরীরে ভিটামিনের অভাব থাকলে হাত-পা অতিরিক্ত ঘামতে পারে। আবার মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা ও জেনেটিক কারণে হাত-পা ঘামে।

চিকিৎসা:
সঠিক কারণ বের না করে চিকিৎসা করা উচিত নয়। আগে অনুসন্ধান বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কারণ খুঁজতে হবে। তারপর সঠিক চিকিৎসা নিলে এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

সাধারণত তিনভাবে হাত-পা ঘামা কমানো যেতে পারে। এক হলো অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইডযুক্ত এক ধরনের বিশেষ লোশন হাত-পায়ে ব্যবহার করলে হাত-পা ঘামা কমে যায়। আর একটি হলো বিশেষ ধরনের বৈদ্যুতিক যন্ত্রে হাত-পা সেঁকে নিলে হাত-পা ঘামা কমে যাবে।

পরবর্তী সময়ে এটি দেখা দিলে আবার একইভাবে সেই বৈদ্যুতিক যন্ত্রে হাত-পা সেঁকে নিতে হবে। এসব পদ্ধতি ছাড়াও একটি বিশেষ ধরনের নার্ভের অস্ত্রোপচার করেও হাত-পা ঘামা কমানো যায়।

এই অস্বস্তিকর অবস্থা প্রাকৃতিক উপায়ে ও নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

বেকিং সোডা, আলু, গোলাপ জল বা ঠাণ্ডা পানি হতে পারে এই অবস্থা উত্তরণের প্রাকৃতিক উপায়।

•বেইকিং সোডা: রয়েছে ক্ষারীয় উপাদান। এটি হাত ও পা ঘামার সমস্যা দূর করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। গরম পানিতে দুতিন টেবিল-চামচ বেইকিং সোডা মিশিয়ে তাতে ২০ থেকে ৩০ মিনিট হাত ও পা ডুবিয়ে রাখুন। পানির ভেতরে সোডা দিয়ে হাত ও পা ঘষতে থাকুন। পরে হাত পা মুছে ফেলুন।

•গোলাপ জল: যে কোনো দোকান থেকে প্রাকৃতিক গোলাপ জল কিনে নিতে পারেন অথবা নিজে গোলাপের পাপড়ি ফুটিয়ে গোলাপ জল তৈরি করে ছেঁকে নিন। তুলার সাহায্যে গোলাপ জল নিয়ে হাত ও পায়ের তালুতে লাগান। এটি ত্বকে শীতল প্রভাব সৃষ্টি করে।

•ঠাণ্ডা পানি: প্রতিদিন ঠাণ্ডা পানিতে ১৫ থেকে ২০ মিনিট হাত-পা ডুবিয়ে রাখুন। এই সমস্যার জন্য খুব ভালো কাজ করে।

•ভুট্টার গুঁড়া বা ট্যালকম পাউডার: দুটাই ত্বক রাখে শুষ্ক। হাত ও পায়ে ট্যালকম পাউডার ব্যবহার করুন। চেষ্টা করুন সুগন্ধি ছাড়া পাউডার ব্যবহার করতে। কারণ এটি বেশি ভালো ও প্রাকৃতিক। তাছাড়া গন্ধ ছাড়া পাউডার ঘন ঘন ব্যবহারের জন্য নিরাপদ।

•লেবু: হাত-পা ঘামার সমস্যা দূর করতে তিনভাবে কাজ করে।লেবু ও কমলার খোসা শুকিয়ে গুঁড়া করে নিন। এই পাউডার হাত ও পায়ের তালুতে লাগান। এই গুঁড়া বায়ু রুদ্ধ পাত্রে সংরক্ষণ করুন।এলকোহলের সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে হাতে ঘষুন। ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।লবণ ও লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে হাতে ঘষুন। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন।

•টি-ব্যাগ: লিকার চায়ের অ্যান্টিপার্সপিরান্ট উপাদান হাত-পা ঘামার সমস্যায় কাজে লাগে। প্রতিদিন ঘর্মাক্ত হাতে টি-ব্যাগ নিয়ে কয়েক মিনিট রেখে দিন। এছাড়া তিন-চারটি টি-ব্যাগ গরম পানিতে দিয়ে তাতে ৩০ মিনিট হাত ও পা ডুবিয়ে রাখতে পারেন।

•অ্যাপল সাইডার ভিনিগার: হাত ও পায়ে এই ভিনিগার লাগিয়ে শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বকের ছিদ্রকে দৃঢ় রাখে ফলে ঘাম কম হয়।

•চন্দনগুঁড়া: প্রাচীনকালে মানুষ চন্দন কাঠের মিশ্রণ ব্যবহার করত কপাল ঠাণ্ডা রাখার জন্য। চন্দনের গুঁড়া ঘাম কমায় বলে বেশ পরিচিত। তাই হাত-পায়ের ঘাম কমাতে এটি বেশ কার্যকর। লেবুর রস বা গোলাপ জলের সঙ্গে চন্দন মিশিয়ে ঘামের উপর লাগান। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে নিন।

•টমেটোর রস: প্রতিদিন পান করুন অথবা হাত ও পা ভিজিয়ে রাখুন। টমেটোর রসে আছে সোডিয়াম, যা হাত পায়ের তালু শুষ্ক রাখে।

•আলু: কয়েক টুকরা আলু ঘর্মাক্ত হাত ও পায়ে ঘষুন। আলুর রস শুকিয়ে গেলে তা ধুয়ে ফেলুন।

মনে রাখবেনঃ
* অতিরিক্ত মসলাদার ও চিনিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।
* ক্যাফেইন সমৃদ্ধ পানীয় পরিহার করুন।
* পেট্রোলিয়াম জেলি সমৃদ্ধ ক্রিম হাত-পায়ে ব্যবহার করবেন না।
* মোজা কখনও না ধুয়ে পরবেন না।

Perfume Factory

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker