পারফিউম ফ্যাক্টরী এলকোহল মুক্ত সুগন্ধির দুনিয়ায় পারফিউম ফ্যাক্টরি আপনার জন্য একটি " ব্লাইন্ড বাই" প্লাটফর্ম "পারফিউম ফ্যাক্টরি"।
ব্লগ

করোনা বুঝিয়ে দিলো, ঘরে বসেও দক্ষতার সাথে কাজ করা সম্ভব

এম শাহনাজ পারভীন চৌধুরী,কলামিস্ট,লন্ডন,যুক্তরাজ্য

The Daily Narsingdir Bani

সম্প্রতি গণমাধ্যমে একটি বিষয় উঠে এসেছে যে, যারা করোনাকালীন সময়ে বাসায় থেকে কর্মরত ছিলেন তাদের অনেকেই করোনা পরবর্তী সময়েও বাসায় থেকেই কর্মজীবন চালিয়ে যেতে আগ্রহী। এই বিষয়টির পিছনেও রয়েছে অনেক যুক্তি এবং সাম্প্রতিক কিছু জরিপ।

অনেকেই মনে করে বাসায় বসে কাজ করতে পারাটা অনেক আনন্দদায়ক। কখনও নিজেকে একা মনে হয় না এবং ইচ্ছে অনুযায়ী কাজের সময় বাড়িয়ে নেওয়া যায়। ফলে যে কোনও কাজ প্রথমবারেই শতভাগ সঠিকভাবে সম্পন্ন করা যায়। যার ফলস্বরূপ ওই একই কাজের জন্য দ্বিতীয়বার সময় দেয়ার প্রয়োজন পড়ে না। সম্প্রতি ৪০০২ জন ব্যক্তির উপর করা এক জরীপে এসেছে, লকডাউনজনিত কারণে তাদের মধ্যে ৪৯% বাসায় বসে কাজ করতেন এবং জরুরী কাজে নিয়জিত কর্মীদের ৩৯%, যাদেরকে কাজের তাগিদে কর্মস্থলে উপস্থিত হতে হয়েছিল।বর্তমানে লকডাউন তুলে নেওয়ার পর দেখা যায়, যারা বাসায় বসে অফিসের কাজ করতে সক্ষম হয়েছিল তাদের দশ জনের মধ্যে সাত জনেই (প্রায় ৬৮%) এখন ঘরে বসে কাজ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দবোধ করছেন।আবার তাদেরই সমপরিমাণ প্রায় ৭০% মনে করছেন, তারা বাসায় বসেই অফিসের সকল কাজে সমান পারদর্শী। ফলে যখন ইচ্ছে তখন কাজ করতে পারার সুবিধা এবং পরিবারের সন্নিকটে থেকে কাজ করতে পারায় অনেকেই ভীষণ উপভোগ করছেন পরিবারময় কর্মজীবন।

ওয়ার্কপ্লেস এনালিটিক্স এর তথ্য অনুযায়ী, করোনাপরবর্তী সময়ে ২৫-৩০% কর্মী বাসায় থেকে কাজ করবে।এইক্ষেত্রে কর্মীদের প্রাপ্ত সুবিধা পরিসংখ্যানে অনেকটাই আলোচনা সাপেক্ষ। সুবিধার প্রধান দিকগুলো হলো-কার্যসময় এবং ব্যয় এর ব্যাপক সাশ্রয় যেমন যাতায়াত খরচ, পার্কিং চার্জ এর সাথে সাথে যাতায়াতের সময়টুকুও বেঁচে যায়।

তবে এর মধ্যে আবার অনেক মতবিরোধও রয়েছে। ৪৫% কর্মী বাসায় অফিসের কাজের পরিবেশ যথেষ্ট অনূপ্রেরণামূলক নয় বলেই মনে করেন। তাছাড়া অভিযোগ রয়েছে, কর্মীদের অভাবে অনেক সময় সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যা হয়, যা থেকে বুঝা যায় সহকর্মীদের সহযোগিতা পাওয়া কঠিন আর বাসার টেকনোলজি সিস্টেম অফিসের মতো বানানোটা অনেক ব্যয় সাপেক্ষ। আবার অনেকেই বাসায় সবাইকে উপেক্ষা করে অফিসের কাজে থাকাটাকে পছন্দ করেন না। কিন্তু করোনাকালীন সময়ে অনেকটা বাধ্য হয়েই মানিয়ে নিতে হয়েছে।

ভিভেক ডড,কো-ফাউন্ডার অফ স্কিলকাস্ট, তার জরীপে বলেছেন, কাজের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস থাকলে কোম্পানির আকার, অবস্থান, বিভাগ অথবা কর্মীর বয়স অথবা কর্মী নারী-পুরুষ যাই হোক, ৭০% এর মতো কর্মী বাসায় বসেই অফিসের সমপরিমাণ কাজ করতে অধিক সক্ষম হবেন। করোনাপরবর্তী সময়ে এর বাস্তবায়নে অধিক সফল হওয়া যাবে বলেও আশা করা যায়।
ঘরে বসে কাজ করাটাকে অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে নিজেকে অফিসের পরিবেশ থেকে স্বাধীন মনে করেন। মজার বিষয় হলো এইক্ষেত্রে নিজেকে বাসার পাজামা স্যুটই কাজের অন্তুর্ভুক্ত করে ফেলা যায়। পোশাকের কোনো ইস্যু আসে না। কাজের প্রতি মনোনিবেশ করে নিজের আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলতাকেও নিয়ন্ত্রণ করা যায় বলেও অনেকে মনে করেন।টেকনোলোজিক্যাল কাজের ক্ষেত্রে দক্ষ কর্মীরা বাসায় বসে কাজ করাটাকেই বেশি সময় সাপেক্ষ মনে করেন। অনেকেই কর্মকর্তার নজরদারি ছাড়া কাজ করার পক্ষপাতী এবং করে নিতে পারেন নির্দিষ্ট কাজের থেকেও বেশি কিছু কাজ। এককভাবে কাজ করার সুযোগ পাওয়া যায় যা কাজের প্রতি আরও দক্ষতা অর্জনে সহায়ক।

টেলিযোগাযোগে দক্ষ হওয়ার বিষয়টিও এড়িয়ে যাবার মতো নয়। কর্মের যাবতীয় তথ্য কর্মকর্তাকে দিতে অবশ্যই টেকনোলোজিক্যাল সহায়তার প্রয়োজন পড়ে। যার জন্য কর্মী তার কাজের সুস্পষ্ট বর্ণনা তুলে ধরতে গিয়ে নিজেই হাসিল করে নিতে পারে টেক্সটিং, ইমেইলিং, স্কাইপিং, ওয়েব মিটিং ছাড়াও আরও অনেক টেলিযোগাযোগ দক্ষতা।

কাজের প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত থেকে বাসায় থেকেই কাজ করা সম্ভব। তবে, এই ক্ষেত্রে কর্মকর্তা তথা সহকর্মীদের সাথে সবসময় যোগাযোগ রাখতে হবে এবং কেউ যদি খুব ভালো একটি কাজ সম্পাদন করে, তাকে অভিনন্দন জানিয়ে কর্মের মাধ্যমকে আরও উৎসাহিত করা যায়। কাজের ফলাফল বর্ণনা করার বিষয়টি অবশ্যই অবহেলা করা যাবে না। বাসায় কাজ করার পরিবেশটাকেও অফিসের মতোই বানিয়ে নেয়া যেতে পারে।

কাজের সময় ডোর বেল, অতিরিক্ত শব্দ এইসব কিছু থেকে নিজেকে মুক্ত রাখলে, কাজ করাটা সহজ হয়ে যায় বলেই বিভিন্ন মতামতে এসেছে। আবার সবসময় ইমেইল, টেক্সটিংগুলোর মতো নিঃশব্দ যোগাযোগগুলোর প্রতি সময় মতো সাড়া দিতে হবে, তাতে করে সবার সাথেই আছি বলেই মনে করা সহজ হয়। কাজেও উদ্যম আসে। যেহেতু ঘরে নির্দিষ্ট কোনো কাজের সময় নেই, তাই নিজেকেই একটি সময় স্থির করে কর্মকর্তা অথবা সহকর্মীদের সাথে কাজের সমন্বয় করে নিতে হবে। তাহলে নিজেকে একটি কোম্পানির হকদার কর্মী হিসেবে ভাবতে সহজ হয়। একজন সুযোগ্য কর্মী ভাবতেও তখন ভালো লাগে।আর সামগ্রিক বিষয়গুলো ঝুঁকিহীন জীবনের নিশ্চয়তা বয়ে নিয়ে আসে বলেই হয়তো, অধিকাংশ লোকই এখন বাসায় থেকে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

সবচেয়ে আশাব্যাঞ্জক ব্যাপার হলো, নীরবে নিভৃতে পরিবেশও বেঁচে যাবে অতিরিক্ত প্রাইভেট যান থেকে নির্গত দূষণ থেকে। তাই মনে হচ্ছে করোনা পরবর্তী কাজের ধরণ মানব জীবনে ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে আসবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button