ব্লগ

চূড়ান্ত পর্যায়েও অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনের সফলতা দাবি

এম শাহনাজ পারভীন চৌধুরী,লন্ডন থেকে

শেয়ার করুনঃ

The Daily Narsingdir Bani

সারা বিশ্ব এখন শুধু একটি প্রহর গুনছে আর তা হচ্ছে কোবিড-১৯ এর ভ্যাকসিন বা তা নিরাময়ের কোনও উপায়।

অদ্ভুত সব সময় পাড়ি দিবার পর, ভালো কিছু শুনলে মন স্বাভাবিক ভাবেই ভালো হয়ে যায়।অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনটি সর্বশেষ দফায়ও সফল হয়েছে শুনে, অসম্ভব ভালো লাগলো।
ভাবছি আমরা হয়তো সহজেই পেয়ে যাবো রোগ থেকে নিজেকে বাঁচানোর উপায় কিন্তু এর পিছনে বিজ্ঞানীদের অক্লান্ত পরিশ্রমকে কিছুতেই অস্বীকার করতে পারবো না।বিজ্ঞানের এই যাত্রাকে সফল করতে, কতনা বিনিদ্র রজনী কাটিয়েছেন বিজ্ঞানীরা,সেইটা অবশ্যই কল্পনাতীত।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে করোনা ভাইরাসের ১৩টি সম্ভাব্য প্রতিষেধক হিউম্যান ট্রায়ালের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। উন্নয়নের প্রাথমিক ধাপে রয়েছে আরো ১২০টি সম্ভাব্য ভ্যাকসিন। করোনার প্রতিষেধক আবিষ্কার নিয়ে যুক্তরাজ্য, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও জার্মানির মধ্যে রীতিমতো প্রতিযোগিতাও চলছে।

একটি দেশের জন্য অবশ্যই অনেক গর্বের বিষয় যে, আমরা পেরেছি সমগ্র বিশ্বকে মহামারীর হাত থেকে বাঁচাতে, আমরা পেরেছি মানব জাতিকে আবারো নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন ফিরিয়ে দিতে।এই সাফল্যের মুকুট হয়তো যুক্তরাজ্যের ভাগ্যেই আছে।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে এসেছে,ভাইরোলজিস্ট সারা গিলবার্টের দলটি এই পর্যন্ত অন্যান্যদের তুলনায় অনেক এগিয়ে আছে।সর্বোপরি সবাই এখন ভ্যাকসিনটি কখন চালু হবে সেই প্রত্যাশায় দিন কাটাচ্ছে।ভ্যাকসিনটি ইতিমধ্যে যদিও অনেক দেশেই ট্রায়াল করানো হচ্ছে তারপরেও চূড়ান্ত পর্যায়ে বাজারে আসার অপেক্ষায়।সেরাম ইন্সটিটিউট অফ ইন্ডিয়া, যেটি বিশ্বের বৃহত্তম ভ্যাকসিন তৈরি কারখানা বলে পরিচিত তারা জানিয়েছে,আগামী জুলাই মাসে ভ্যাকসিনটি বাজারে আসবে বলে আশাবাদী।

এই ভ্যাকসিনটির প্রথম ট্রায়াল চালানো হয় ২৩শে এপ্রিল, মূলত এটিই বিশ্বের প্রথম ভ্যাকসিন যা অতি কম সময়ের মধ্যে ট্রায়াল কার্য সম্পাদন শেষ করে বাজারজাত করার পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে।এই ভ্যাকসিন ট্রায়ালের দায়িত্বে আছেন ভাইরোলজিস্ট সারাহ গিলবার্ট, অধ্যাপক অ্যান্ড্রু পোলার্ড, টেরেসা লাম্বে, ডক্টর স্যান্ডি ডগলাস ও অধ্যাপক অ্যাড্রিয়ান হিল এবং জেন্নার ইনস্টিটিউটের গবেষকরা।

তথ্য অনুযায়ী, পূর্বে যত ভ্যাকসিন এসেছিলো তাতে সময় নিয়েছিল প্রায় পাঁচ থেকে দশ বৎসরের মতো।তাই বর্তমানে কোবিড-১৯ এর এই ভ্যাকসিন আমাদের জন্য কতটা ফলপ্রসূ হবে তাও কোনো পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া ছাড়া, সেইটাই এখন আলোচিত বিষয়।আশা করি উপরওয়ালার অশেষ মেহেরবানীতে মানবজাতি অবশ্যই সফল হবে।
ভ্যাকসিন চূড়ান্ত পর্যায়ে সফল হওয়ার খবর শুনে,মনের মধ্যে প্রশ্ন আসাটা স্বাভাবিক যে, সাধারণ মানুষদের কাছে কখন এই ভ্যাকসিন আসবে?যদিও মানব শরীরে ট্রায়াল করা শুরু হয়েছে, তারপরেও এই প্রক্রিয়াটি আরও কিছু ধাপ মেনে এগিয়ে যাবে।অক্টোবরের দিকে প্রায় ৬০০০ লোকের উপর প্রয়োগ করা হবে বলে মনে করা হয়। আর যুক্তরাজ্যসহ সমগ্র বিশ্বে ভ্যাকসিন কার্যকর করা হবে 2021 সালের শুরুর দিকে।তাই সেই পর্যন্ত অবশ্যই আমাদেরকে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button