নরসিংদীর খবরপলাশ

নরসিংদীতে করোনা পজেটিভ নারীকে দেয়া হয়েছে কাজে যোগদানের অনুমতি পত্র

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের অনিয়ম, তথ্য পাচ্ছেনা সংবাদকর্মীসহ সাধারণ মানুষ

শেয়ার করুনঃ

নরসিংদীতে করোনা পজেটিভ নারীকে দেয়া হয়েছে কাজে যোগদানের অনুমতি পত্র

বাণী রিপোর্ট :করোনা পরীক্ষার নমুনা দিয়ে এলাকায় অবস্থান ও অবাদে চলাচল করার পর পজেটিভ ও নেগেটিভ ফলাফল আসার পূর্বেই সুস্থ্য হিসেবে এক নারীকে কাজে যোগদানের অনুমতিপত্র দিয়েছে নরসিংদী জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়।নমুনা পরীক্ষার ১৪দিনপর ওই নারীর (করোনা পজেটিভ)করোনা আক্রান্তের খবর পায় সিভিল সার্জন কার্যালয়।কোন প্রকার পরীক্ষা ছাড়াই কাজে যোগদানের অনুমতিপত্র দেয়া ও পরবর্তীতে পরীক্ষার ফলাফল পজেটিভ আসায় জনমনে নরসিংদী স্বাস্থ্য বিভাগের দায়ীত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ওই নারী রাজধানী ঢাকায় একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় কাজ করেন।লকডাউন চলাকালে তিনি পলাশের নিজ বাড়ীতে ফিরে আসেন। এখানে অবস্থানকালে ঠান্ডা, জ্বর,কাশি এসব করোনা উপসর্গ নিয়ে গত ৭জুন তিনি পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে করোনা পরীক্ষার নমুনা দিয়ে আসেন। করোনা উপসর্গ না থাকায় ২১জুন নরসিংদী জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে সুস্থতা দেখিয়ে ওই নারীকে দেয়া হয় কাজে যোগদানের অনুমতি পত্র। এ দিন সন্ধায় করোনা পরীক্ষার ফলাফল এলে জানা যায় তিনি করোনা (আক্রান্ত) পজেটিভ ছিলেন। পজেটিভ জানা সত্বেও পরীক্ষা না করে অনুমতিপত্র দেয়ায় নরসিংদীর সর্বত্র আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে।স্থানীয় লোকজন জানায়,আক্রান্ত নারী বাড়ীতে নেই, রাজধানী ঢাকায় ফিরে গেছেন।

সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহীম টিটন ২১জুন সন্ধায় তার ফেসবুক আইডিতে জানান,“৭, ৮,৯ তারিখে পলাশ উপজেলা হাসপাতালে সংগ্রহীত ও আইডিসিআর,ঢাকায় পরীক্ষাকৃত মোট ৪০জন ব্যক্তির নমুনায় ০১জন পজিটিভ ব্যক্তি(০৭-০৬-২০)। বাকী ৩৯জন নেগেটিভ। পজিটিভ ব্যক্তি ১৪দিন পৃথকীকরনের পর আজ সুস্থ হিসেবে কাজে যোগদানের অনুমতি প্রাপ্ত।”

করোনা পরীক্ষার নমুনা দেয়ার পর সাধারণত: তাদের উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়না। পরীক্ষার ফলাফল পজেটিভ এলে আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়ী স্থানীয় প্রশাসনের কুইক রেসপন্স টিম তদারকি করে থাকেন। লকডাউন করতে দেখা যায়।

নরসিংদীর সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইব্রাহিম এক সাংবাদিককে জানান ৭ থেকে ৯ জুন—তিন দিনে পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংগৃহীত ৪০ জন ব্যক্তির নমুনা রাজধানীর আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছিল। তাঁদের নমুনা পরীক্ষার ফলাফল এত দিন পেন্ডিং থাকার পর গত রোববার সন্ধ্যায় আমরা হাতে পাই। ওই ফলাফলে একমাত্র ওই নারী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হন। কিন্তু এর আগেই ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন শেষ হওয়ায় তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে কাজে যোগদানের অনুমতিপত্র দেওয়া হয়।

পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, নমুনা দেওয়ার ১৪ দিনের মধ্যেও যখন রিপোর্ট পজিটিভ না নেগেটিভ জানা যাচ্ছে না, অথচ ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন শেষ হয়েছে আর কোনো উপসর্গও যেহেতু নেই, তাই হয়তো ওই নারীকে কাজে যোগদানের অনুমতিপত্র দেওয়া হয়েছে। সাধারণত ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন শেষ হলে ধরে নেওয়া হয় তিনি করোনামুক্ত হয়ে গেছেন। নিয়ম অনুযায়ী পরপর দুটি নমুনা পরীক্ষা করিয়ে নিশ্চিত করা হয়। ওই দুটি রিপোর্টে যদি ওই নারীর নেগেটিভ আসে, তবে তাঁকে করোনামুক্ত ঘোষণা দিয়ে নেগেটিভ সার্টিফিকেট দেওয়া হবে।

পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল বেলাল বলেন, ‘ওই নারীর করোনা পজিটিভ আসার খবর জানার আগেই তাঁর ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন শেষ হয়েছে। তবে তাঁর কাজে যোগদানের অনুমতিপত্র কারা দিয়েছে, তা আমি নিশ্চিত নই। এ ছাড়া নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রিপোর্ট হাতে না পেলে আমাদেরই বা কী করার আছে? যখন নমুনা দিয়েছেন, ওই সময় তিনি পজিটিভ ছিলেন, এখন আমাদের আবার পরীক্ষা করে দেখতে হবে তিনি নেগেটিভ হয়েছেন কি না?

উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে নরসিংদী শহরের এক করোনা পজেটিভ ব্যক্তির বাড়ীতে বিধিনিষেধ আরোপ করতে গেলে আক্রান্ত ব্যক্তি নরসিংদী সদর উপজেলার কুইক রেসপন্স টিমকে নরসিংদী সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট দেখায় এবং তার বাড়ী লকডাউন করতে নিষেধ করে। এ বিষয়টি নিয়ে শহরবাসীর সমালোচনা পাত্র হন নরিসিংদী সিভিল সার্জন।

সিভিল সার্জনের তথ্য প্রদানে গাফিলতি, করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিদের এলাকাগুলো প্রদেয় তথ্যে উল্লেখ না করায় স্থানীয় লোকজন সচেতন হতে পারছেন না, ফোন দিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোন রিসিভ করেন না, একজন ডা. হিসেবে সাধারণ মানুষ পরামর্শ নিতে পারে তিনি সে সেবাটুকু দিচ্ছেন না। এমন নানা বিষয় তোলে ধরে সাংবাদিকগণ সিভিল সার্জনের ব্যাপারে জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

তাছাড়া করোনার বিষয়ে আতঙ্কিত লোকজন কোন বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলে, এমনকি সংবাদ কর্মীগণ তথ্য জানতে সিভিল সার্জনসহ তার অফিসে কর্মরত চিকিৎসকগণ ও সংশ্লিষ্টরা ফোন রিসিভ করেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে নরসিংদীর জনগণের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। তার এ ধরণের আচরণের কারনে সিভিল সার্জন এর ফেসবুক আইডিতে নানাজন নানা মন্তব্য করে যাচ্ছেন। ক্ষোদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন সাধারণ মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button