ফিচারব্লগ

বাংলাদেশকে কাছে টানতে মরিয়া চীন ভারত

মোঃ সাইফুল আলম

শেয়ার করুনঃ

The Daily Narsingdir Baniভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশ এর অবস্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ যদিও বাংলাদেশ এর সুবিধাটা কখনই নিতে পারে নাই।চীনের যেমন বাংলাদেশকে দরকার ভারতকে চাপে রাখতে তেমনি ভারতের দরকার বাংলাদেশের বন্ধুত্ব সম্পর্ক।

চীন ভারত সীমানা নিয়ে টানা পোড়নে বাংলাদেশকে কাছে পেতে উদগ্রীব দুইদেশ।চীন ভারত সংঘর্ষ এর দুই দিনের মধ্যে চীন ঘোষণা দিয়েছে ৫ হাজারের বেশি পন্যের ৯৭% শতাংশ শুল্ক ছাড়ের,যা বাংলাদেশের জন্য এক বিশাল প্রাপ্তি। অন্যদিকে ভারত বাংলাদেশের সাথে চলমান বিশ্বস্ত সম্পর্ক বজায় রাখতে আরো উদগ্রীব হয়ে উঠেছে। কিছুতেই ভারত চাইবেনা বাংলাদেশ এর সাথে চীন এর মজবুত সম্পর্ক গড়ে উঠুক।

চীনের সাথে বাংলাদেশ এর সম্পর্ক তেমন মজবুত নয় বাংলাদেশ এর জন্মলগ্ন থেকে,চীন বাংলাদেশ এর মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানকে সহযোগিতা করেছে।মাঝখানে কয়েকজন শাসক চীনের সাথে সম্পর্ক মজবুত এর চেষ্টা করে তবুও এতোটা শক্ত ভীতে দাড় করাতে পারেনি কেউ,এখম চীন নিজে থেকে বাংলাদেশকে শুল্ক মুক্ত সুবিধা দওতে চাই,বাংলাদেশ এখানে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে তাদের সাথে সম্পর্ক মজবুত করলে ভূ-রাজীনীতির প্রকৃত সুবিধাটা নিতে পারবে।

ভারত কখনই চাইবে না চীন বাংলাদেশ এর সম্পর্ক দৃঢ় হোক।বলতে খারাপ লাগলেও এটা সত্যি যে বাংলাদেশ এর রাজনীতি, সংস্কৃতি, অর্থনীতি অনেকটা ভারত ঘেষা এবং কিছু মাত্রায় ভারতের উপর নির্ভরশীল।
এর শুরুটা বাংলাদেশ এর জন্ম থেকে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত প্রত্যক্ষভাবে বাংলাদেশকে সহযোগিতা কের বলা বাহুল্য ভারত এর সাহায্য ছাড়া বাংলাদেশ এর স্বাধীনতা কঠিন ছিলো।তখন থেকে বাংলাদেশ এর উপর ভারত এর প্রভাব অপরিসীম।
চীন ভারতের প্রতিবেশী শত্রু ভারত কখনও চাইবে না,ভারত পাশ্ববর্তী বন্ধু রাষ্ট্র শক্রর সাথে খুব ভালো সম্পর্কে গড়ে তুলোক।

এই মুহুর্তে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ আর ভুটানের সাথেই ভারতের সবচেয়ে ভাল সম্পর্ক। এরই মধ্যে ভারতীয় মিডিয়া বিশ্লেষণ করতে শুরু করেছে, ভারতকে দমাতেই নাকি চীন দ্রত বাংলাদেশের সাথে গভীর সম্পর্ক গড়ছে।যাইহোক, এই পরিস্থিতিতেও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দিচ্ছেন যথেষ্ট প্রজ্ঞার পরিচয়। হাটছেন বাবা বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথেই।বঙ্গবন্ধু বলে গিয়েছেন এইদেশের পররাষ্ট্রনীতি হল সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব কারো সাথে শক্রুতা নয়।

আনন্দবাজার পত্রিকায় একটা রিপোর্ট এসেছে সেখানে বাংলাদেশকে খয়রাতি রাষ্ট্র বলা হয়েছে, সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো রিপোর্টটা করেছেন একজন বাংলাদেশি এটা সত্যিই হতাশাজনক ও কষ্টের।।

সবচেয়ে বড় কথা হলো বন্ধুত্ব করতে হবে তবে নিজের স্বার্থ বিলীন করে না।এখনই উপযুক্ত সময় বাংলাদেশ এর দুইদেশ এর মাঝে বন্ধুত্বমূলক সম্পর্ক গড়ে তুলা,যাতে একদেশ এর উপর নির্ভরশীল না থাকতে হয়,দুইদেশ এর সাথে সম্পর্ক থাকলে উভয় দিক থেকে সুবিধা পাওয়া যাবে এবংভূ-রাজনৈতিক ভাবে বাংলাদেশ এর গুরুত্ব বাড়বে।।তখন দুইদেশকে সহজেই চাপে রাখা যাবে।বাংলাদেশ এর উপর কেউ একক ভাবে নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারবে না এবং বিভিন্ন অমীমাংসিত ইস্যু নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করা যেতে পারে।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button