নরসিংদীর খবর

নরসিংদীতে নতুন ৪৩ জনসহ মোট করোনায় আক্রান্ত-১১২২, সুস্থ্য-৪৯২, মৃত-২৬জন

শেয়ার করুনঃ

The Daily Narsingdir Baniমোঃ আকিব রাসেলঃ নরসিংদীতে গত ২৪ ঘন্টায় আরো ৪৩জন নতুনভাবে করোনায় আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। ১৪জুন আইসিডিডি আরবিতে পাঠানো ১৬টি নমুনায় ৫টি, আইপিএইচ,  এ পাঠানো নমুনায়-২জন, আইইডিসিআর এ নমুনায়-৬জন এবং গত ১০জুন পাঠানো ১৩৬টি নমুনায় ৪৩টি পজেটিভ ফলাফল আসে।

নরসিংদীতে প্রতিদিন বাড়ছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা । স্বাস্থ্য সচেতন না হওয়ায় দিন দিন আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। এমন মন্তব্য নরসিংদীর সচেতন ও অভিজ্ঞ মহলের। করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাচ্ছে অনেকে। লাশ দাফন করছে প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে তথ্য প্রদানে অন্যান্য জেলার ন্যায় করোনায় আক্রান্ত রোগীদের পাড়া/মহল্লা উল্লেখ না করায় স্থানীয় লোকজন নিজে থেকে সচেতন হতে পারছেন না। তাছাড়া নমুনা দেয়ার ৭/৮দিন পর ফলাফল আসায় এদিন গুলোতে আক্রান্ত রোগীরা পরিবারের সদস্যদের ও এলাকার লোকজনের সাথে মেলামেশা করায় আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে বলে মনে করেন স্থানীয় সচেতন মহল।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) নরসিংদী জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে সকালে দুই দফা ও রাত সাড়ে এগারটায় সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে নরসিংদী জেলায় নতুন আরো ৪৩ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়।। নতুন আক্রান্তদের মাঝে নরসিংদী সদর উপজেলায়-২৩ জন, শিবপুর-৫, বেলাব-১, মনোহরদী-৬, পলাশ-৪ ও রায়পুরায়-৪জন।

আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত জেলায় মোট করোনা পজিটিভ রোগী ১১২২ জন। এদের মধ্যে নরসিংদী সদর উপজেলায়-৭৫৯ জন, শিবপুর-৮৩ জন, পলাশ-৯৮ জন, মনোহরদী-৪৫ জন, বেলাব-৫৭ জন, রায়পুরা উপজেলায়-৮০ জন। সুস্থ্য হয়ে আইসোলেশনমুক্ত হয়েছেন-৪৯২ জন। হাসপাতাল আইসোলেশনে আছেন ৪০ জন। হোম আইসোলেশনে রয়েছেন ৫৭৯ জন। জেলা থেকে মোট স্যাম্পল সংগ্রহ করা হয়েছে ৫৮৮৬ জনের। রেজাল্ট পাওয়া গেছে ৪৯৮৩ টি নমুনার। ৯০৩টি নমুনার ফলাফল এখনো পাওয়া যায়নি।

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন-২১জন। এদের মধ্যে নরসিংদী সদর উপজেলায়-১২জন, পলাশ-১জন, শিবপুর-১জন, রায়পুরা-৩জন, মনোহরদী-১জন ও বেলাব উপজেলায়-৩জনের মৃত্যু হয়। নরসিংদী জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া আরো ৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাড়িয়েছে ২৬জনে।

সোমবার (১৫জুন) নরসিংদী সিভিল সার্জন অফিসে কর্মরত পরিসংখ্যানবিদ আবদুল মতিন (৪৫) করোনা আক্রান্ত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় সকাল ৮টায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি দীর্ঘদিন যাবত ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে ভুগছিলেন।  তিনি নরসিংদী শহরের বাসাইল এলাকার বসবাস করতেন।

রবিবার (১৪জুন) শিবপুর আশরাফপুর গ্রামের মিনারুল হক খান (৬৪) করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি লিভারের সমস্যায় ভুগছিলেন।

বুধবার (১০ জুন) মনোহরদী উপজেলার করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আশরাফ হোসেন খান (৭০) রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও কিডনিজনিত রোগে আক্রান্ত ছিলেন।

বুধবার (১০জুন) সন্ধায়, রায়পুরা লোচনপুরা এলাকার ফিরুজ মিয়া (৫৫) করোনা আক্রান্ত হয়ে ঢাকা সিএমএইচ  এ মৃত্যুবরণ করেন।

বুধবার (১০জুন) দুপুরে নরসিংদী শহরের বাসাইল রেল গেইট এলাকার রেহানা বেগম (৬০) করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

মঙ্গলবার (৯ জুন) নরসিংদী সদর উপজেলার হাজীপুর এলাকার আবদুর রউফ দিপ্তি (৭১) করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

৮জুন সোমবার রাতে বেলাব উপজেলার করোনায় আক্রান্ত হয়ে ফজলু মিয়া (৬০) মৃত্যুবরন করেন। তিনি ডায়াবেটিসেও আক্রান্ত ছিলেন।

সোমবার (৮জুন) বেলাব উপজেলার জায়েদুল হক ভূইয়া (৬০) করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

৭জুন বিকেলে নরসিংদী শহরের রাঙ্গামাটি এলাকার কাজল রাণী সাহা (৫৮) করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর ডায়াবেটিস জনিত সমস্যা ছিল।

শুক্রবার (৫জুন) রায়পুরা উপজেলার আদিয়াবাদ এলাকার নুরুল ইসলাম (৫৫) করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি হার্টের সমস্যায় ভুগছিলেন।

বুধবার (৩জুন) সকালে নরসিংদী শহরের বাসাইল মহল্লার নূরে আলম (৩৮) করোনা আক্রান্ত হয়ে নরসিংদী কোভিড হাসপাতাল (জেলা হাসপাতালে) মৃত্যুবরন করেন।

রবিবার (৩১মে) মাধবদী আনন্দী গ্রামের আব্দুল কাদের (৬৫) করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তার ডায়াবেটিস ও হার্টের সমস্যা ছিল।

শনিবার (৩০মে) নরসিংদী সদর উপজেলার শেখেরচর ফুলতলা গ্রামের রিতা পাল (৫৯) করোনা আক্রান্ত হয়ে দুপুরে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর হাইপারটেনশান জনিত সমস্যা ছিল।

শুক্রবার ( ২৯ মে) সকাল ১০ টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে রায়পুরা উপজেলার মুছাপুর তালুককান্দী গ্রামের আফিফা বেগম, ( ৫৮) মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর এ্যজমা, হাইপারটেনশান এবং কিডনি জনিত সমস্যা ছিল।

মঙ্গলবার (২৬মে) নরসিংদী শহর এলাকার দিলীপ (৫৬) করোনা উপসর্গ নিয়ে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে (জেলা কোভিড হাসপাতাল) মৃত্যুবরণ করেন। ২৮মে তাঁর নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে।

সোমবার (২৫মে) বেলাবো উপজেলার মোহাম্মদ ফয়েজ উদ্দিন (৪৫) করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তীতে তার নমুনা পরীক্ষার রিপোর্টে পজিটিভ ফলাফল আসে।

মঙ্গলবার বার (১৯মে) মাধবদী এলাকার শংকর ধর (৬০) নামে একজন আনুমানিক বিকেল ৫ টার দিকে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরন করেন। সে করোনা পজেটিভ রোগী ছিল।

করোনা আক্রান্ত হয়ে-সোমবার (১১ মে) সকালে মাধবদী এলাকার চাঁন মিয়া (৬৫) তার নিজ বাড়ীতে মৃত্যুবরণ করেন। তার রিপোর্ট পজেটিভ আসে।

শুক্রবার (৮ মে) রাতে নরসিংদী শহরের বৌয়াকুড় মহল্লায় নিখিল (৫০) নামে এক ব্যাক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরন করেন। মৃত্যুর পর তার পজেটিভ রিপোর্ট আসে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাতে পলাশ উপজেলার জিনারদী ইউনিয়নের মাঝের চর এলাকার নূর মোহাম্মদ (৫০)নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) নরসিংদী শহরের ভাগদী মহল্লার আমজাদ হোসেন (৪৮) সন্ধ্যা ৭টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল এর আইসিউতে মৃত্যুবরন করেন।

এছাড়া সোমবার (১৮ মে) নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী থানার মহিষাশুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ডা. মো. শাহীনের স্ত্রী সাহেরা আক্তার (৪৩) শতভাগ করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি এক সপ্তাহ ধরে জ্বর, ঠান্ডা, গলা ব্যাথা ও ডায়রিয়ায় ভুগছিলেন। বিষয়টি গোপন রেখে চেয়ারম্যান নিজেই তার স্ত্রীর চিকিৎসা করছিলেন। এরই মধ্যে সোমবার সকাল থেকে পাতলা পায়খানা ও শ্বাস কষ্ট শুরু হলে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি মারা যান। নরসিংদী সদর উপজেলা কুইক রেসপন্স টিমের সভাপতি ও সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো:শাহ আলম মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তার তত্বাবধানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সন্ধায় লাশ দাফন করা হয়।

সোমবার (১৮ মে) বিকেলে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় হাজী শরীফ হোসেন মুক্তার (৫৭) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি সদর উপজেলার মাধবদী নুরালাপুর গ্রামের বাসিন্দা। নরসিংদী সদর উপজেলা কুইক রেসপন্স টিমের সভাপতি ও সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: শাহ আলম মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

শনিবার (১৬ মে) রাতে নরসিংদী শহরের বৌয়াকুড় মহল্লার বলরাম দাস (৪৫) নামে একজন শতভাগ করোনা উপসর্গ নিয়ে নিজ বাড়ীতে মৃত্যুবরণ করেন। এ তথ্য নিশ্চত করেছেন নরসিংদী সদর উপজেলা কুইক রেসপন্স টিমের সভাপতি, সদর এসিল্যান্ড মো: শাহ আলম মিয়া।

বুধবার (১৩ মে) বেলাবো উপজেলার সররাবাদ হাজী বাড়ির আতাউর রহমান (কৃষি ব্যাংকের ম্যানেজার) করোনায় আক্রান্ত হয়ে ঢাকা কুয়েত মৈত্রি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বিষয়টি নিশ্চিত করেন বেলাবো থানা পুলিশ।

শনিবার (১৮এপ্রিল) ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরন করেন আমির হোসেন। আমির হোসেন (৪৫) পাইকারচর ইউনিয়নের পুরানচর গ্রামের মৃত হানিফ প্রধান এর ছেলে । আমির হোসেন এর শরীরে করোনা উপসর্গ দেখা দিলে গত ১৭এপ্রিল জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে তিনি নিজ উদ্যোগে ঢাকা কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ভর্তি হন। সেখানে পরীক্ষা করা হলে তার করোনা পজেটিভ রিজাল্ট আসে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button