ফিচারব্লগ

স্মার্টনেস বনাম অভদ্রতা

তারেক মিয়া, মদিনা, সৌদি আরব

শেয়ার করুনঃ
স্মার্টনেস বনাম অভদ্রতা

বর্তমান সময়ে কিছু সংখ্যক যুবকের স্মার্ট হবার অসুস্থ প্রতিযোগিতা দেখে আমার মনে প্রশ্ন উদিত হয় আসলে স্মাটনেস বলতে বর্তমান যুব সমাজ কি বোঝলো।

প্রথমে আমি আমার অবস্থানে স্মাটনেস বলতে কি বুঝতে পারি সে ব্যপারটা পরিষ্কার করি।আসলে কাকে বলে স্মার্টনেস? ইংরেজি অভিধানে স্মার্ট শব্দটির এক অর্থ হচ্ছে—উজ্জ্বল, নবীন দর্শন, পরিচ্ছন্ন ও সুবেশধারী। আর অন্য অর্থ—চটপটে, তীক্ষ্ণধী বা বুদ্ধিমান।চটপটে মানে অযথা চঞ্চলতা নয়, নয় অকারণ বাচালতা।

বুদ্ধি, মেধা বা ধীশক্তিও তাই। পঠন-পাঠন ও চর্চার মধ্য দিয়ে নিজের জ্ঞান ও মননকে শাণিত করে তুললে স্মার্টনেস বাড়ে। চিন্তাভাবনা আর দৃষ্টিভঙ্গি পরিষ্কার হয়। তখন যেকোনো বিষয়ে গুছিয়ে কথা বলা যায়, ভাবা যায়।যেটা সমাজের প্রতেক সুশীল নাগরিকদের কাম্য।

কিন্তু বর্তমানে আমরা বর্তমান যুব সমাজের চিন্তা চেতনায় ধ্যান ধারনায় পোশাক পরিচ্ছেদ কথা বর্তায় যে ধরনের দৃষ্টি ভঙ্গি পরিলক্ষিত করছি তা কি আদওস্মার্টনেস নাকি নিহাদ অভদ্রতার শামিল এটাই এখন চুরান্ত চিন্তা ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।আমরা প্রায়ই বলি, ছেলেটি বা মেয়েটি চলনে-বলনে বেশ স্মার্ট। এই ‘চলন’ ‘বলন’ মানে যদি হয় চলা ও বলা, তাহলে ব্যাপারটি কিন্তু অনেকটাই আচার-আচরণের সঙ্গে যুক্ত। দামি দামি হাল ফ্যাশনের পোশাক-আশাক পরলাম, পরিপাটি হয়ে সাজগোজ করলাম,কিন্তু যখনই অন্যের সামনে মুখ খুললাম বা অন্যের সঙ্গে এমন কোনো আচরণ করলাম, যাতে প্রকাশ পেল অরুচি আর অসভ্যতা, তখনই কিন্তু টুটে গেল আমার বাইরের স্মার্টনেস।

স্টাইলিশ কাপড়চোপড়ের আড়াল ছেড়ে বেরিয়ে এল আনস্মার্ট একজন মানুষ।গুণী মানুষেরা বলেন, আত্মবিশ্বাসই হলো আসল স্মার্টনেস। আত্মবিশ্বাস এমনই এক দ্যুতি, যার প্রভাব একজন মানুষের পুরো আচরণে প্রতিফলিত হয়।

কিন্তু এখনতা না করে বড়ং ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে স্মার্ট হবার ও নিজেকে একজন সেলিব্রিটি হিসেবে আবিষ্কার করাই স্কুল কলেজ পড়ুয়া কতিপয় যুবক যুবতীর প্রধান অবলম্বন হয়ে পড়েছে। এখন আসা যাক সে হাতিয়ার গুলো কি যে গুলো ব্যবহার করে তারা নিজেজের ভিন্ন রুপে সমাজের মধ্যে একজন কথিত স্মার্ট ব্যক্তিত্ব হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।এক্ষেত্রে যে বিষয় গুলো আলোচনায় আসবে সে বিষয়গুলো হবে যথাক্রমে অশালীন বেশ বুশা, উদ্ভট স্টাইলে চুল কাটা, সিগারেট সহ অন্যান্য মাদকদ্রব্যের প্রতি আসক্তি, বেপরোয়া চলাফেরা, বয়সে বড় এমন লোকদের সাথে খারাপ আচরণ করা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অশালীন মন্তব্য করা ও অবাস্তব পোস্ট করা, টিকটক ও লাইকিতে নিজের পরিচিতি সবার সামনে তুলে ধরার অসুস্থ প্রতিযোগিতা। আমি যদি এ ব্যপারগুলোকে একধরনের সমাজিক অবক্ষয় বলে গণ্য করি তাহলে কি ভুল হবে?
এ সকল কর্মকান্ড কোন সভ্য সমাজে চলতে পারে না।আমাদের সমাজ ব্যবস্থার আগামীর কর্ণধার যুব সমাজকে বুজতে হবে যে আসলে এ রকম আচার আচরণের মধ্য দিয়ে কখনো নিজেকে একজন স্মার্ট ব্যক্তিত্ব হসেবে অবিষ্কার করা কখনোই সম্ভব হবে না বরং লোক চোখে একজন অভদ্র ব্যক্তি হিসেবে আখ্যা পাওয়ার দ্বার উন্মোচিত হবে।

তাই এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিহার করে নিজেকে সত্যি সত্যিই একজন স্মার্ট ব্যক্তিত্ব করে গড়ে তুলতে পারাটাই যথার্থ বুদ্ধিমত্বার পরিচয় বহন করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button