নরসিংদীর খবর

নরসিংদী ইনডিপেনডেন্ট কলেজ কেন সেরা

আপন অনুভূতি : মুজদালিফা আক্তার অর্পিতা

শেয়ার করুনঃ

The Daily Narsingdir Bani The Daily Narsingdir Bani

আমি মুজদালিফা আক্তার অর্পিতা। নরসিংদী ইনডিপেনডেন্ট কলেজের একজন ছাত্রী। আসলে আমার অনুভূতি, দুই চার লাইনে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তারপরও কিছু অনুভূতি ব্যক্ত করতে যাচ্ছি। আমি ব্রাহ্মনবাড়ীয়া জেলার সাবেরা সোবহান সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৯ সালে এসএসসি পরীক্ষা পাশ করি। পরীক্ষার পর প্রথমেই প্রশ্ন আসে কোন কলেজে ভর্তি হব। প্রত্যেক মা-বাবাই তার সন্তানকে একটি ভালো কলেজে পড়াশোনা করানোর ইচ্ছা থাকে। সেই ইচ্ছা থেকেই আমার বাবা আমাকে নরসিংদী নিয়ে আসে। নরসিংদী আসার পর আমি ভেবেছিলাম আমাকে  হয়তো আব্দুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজে ভর্তি করা হবে। কারণ আমার বড় ভাই সেই কলেজ থেকে ২০১৫সালে এইচএসসি পাশ করেন।

কিন্ত যখন ভর্তির ফরম দেখি তখন সেখানে নরসিংদী ইনডিপেনডেন্ট কলেজ নামক একটি কলেজের নাম লেখা ছিল। তখন আমি আমার বাবাকে আগ্রহ বশত জিজ্ঞেস করি যে, নরসিংদীতে তো অনেক ভালো কলেজ আছে তাহলে এই কলেজটি কেন? এই কলেজের নাম তো কখনো শুনিনি। তখন আমার বাবা আমাকে উত্তরে জানালেন, এই কলেজটি নতুন এটি একদিন দেশের সেরা কলেজ হবে। এই কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ হলেন ঢাকা বিভাগের শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ, ড. মশিউর রহমান মৃধা স্যার। বাবা উনাকে শিক্ষার যাদুকর নামে সম্বোধন করেন। তখন আমি জানতে চাইলাম শিক্ষার যাদুকর কেন? তখন বাবা আমাকে অধ্যক্ষ স্যারের কিছু কৃতিত্ব সম্পর্কে বললেন। তিনি বললেন, ড. মশিউর মৃধা হচ্ছেন সেই আদর্শ শিক্ষক যিনি নরসিংদী জেলাকে আলোকিত করেছেন। যিনি আব্দুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজকে সফলতার সুউচ্চ শিখরে পৌছে দিয়েছেন। তার পাঠদান পদ্ধতি সারাদেশে অনুকরণীয়। দেশের বড় বড় সিটিগুলোর সুনামধন্য কলেজগুলোকে পিছনে ফেলে মফস্বল শহরের এ কলেজকে দেশের শ্রেষ্ঠত্বের স্থানে নিয়ে গেছেন। তিনি শিক্ষার্থীদেরকে আগামী দিনের যোগ্য সুনাগরিক হতে হাতে কলমে শিক্ষা দিয়ে থাকেন। তার সুনাম দেশ বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

The Daily Narsingdir Baniবাবার কথায় আশ্বস্ত হলাম। এসব কথা শুনে আমার মনে কলেজটি সম্পর্কে অন্যরকম ধারনা তৈরী হয়। এরপর আমি আমার মা-বাবার সাথে কলেজটি দেখতে যাই। কলেজের পুরোনো ক্যাম্পাস  হলো শহরের ব্রাহ্মন্দীতে। সেখানে যাওয়ার পর অনেক শিক্ষকদের সাথে পরিচিত হলাম এবং তারা জানালেন কলেজটির মূল ক্যাম্পাস নরসিংদীর শহরতলী সাহেপ্রতাপ। তখন আমরা কলেজটির মূল ক্যাম্পাসে যাই। ক্যাম্পাসে যাওয়ার পর কলেজের আভ্যন্তরীণ মনোরোম পরিবেশ দেখে আমি সত্যি মুগ্ধ হয়ে ‍যাই। যাই হোক, যদি এখন এর সৌন্দর্য্য বর্ননা করতে যাই বলা শেষ হবে না। এরপর আমরা যাই কলেজটির অফিস রুমে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন আইসিটি বিভাগের প্রধান মুমিনুল ইসলাম স্যার। তিনি সুন্দর ও সাবলীল ভাষায় আমার সাথে কথা বলেন, তিনি কলেজটি সম্পর্কে ও মৃধা স্যার সম্পর্কে অবগত করেন। তিনি আরো  জানালেন যে, এই কলেজে দূরের শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাস এর ব্যবস্থা রয়েছে।

এবার আসা যাক, কলেজের প্রথম দিন যা আমার জীবনের অন্যতম দিনগুলোর মধ্যে একটি। সেইদিন প্রথম বারের মতো কলেজের ইউনিফর্ম পরে নিজেকে নিজের কাছে অন্যরকম লেগেছিল। কলেজে যাওয়ার পর অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দেখতে পেলাম। এরই মাঝখানে একজন শিক্ষকের সাথে আমার কথা হয়। উনার নাম উপমা সাহা। আমি ঐদিন অনেক সংকোচবোধ করছিলাম। তিনি আমাকে উৎসাহ দেন এবং আত্মবিশ্বাস যোগান। তিনি অত্যন্ত ভাল মনের মানুষ এবং পরবর্তীতে জানতে পারি যে, তিনি আমার গাইড ম্যাডাম। নরসিংদী জেলার বাহিরে অন্য জেলা থেকে আগত শিক্ষার্থীদের সাথে আমার পরিচয় হয়। তাদের অভিভাবকগণও প্রিন্সিপাল স্যারের সুনামের জন্য এবং ভাল শিক্ষা পাওয়ার জন্য ছেলে মেয়েদেরকে  ইন্ডিপেনডেন্ট কলেজকে ভর্তি করেছেন।

The Daily Narsingdir Baniএকদিন কলেজের অধ্যক্ষ মশিউর রহমান মৃধা স্যার কলেজের সকল শিক্ষার্থীদের কলেজ মাঠে শৃংখলার সাথে জমায়েত করেন। তিনি ছাত্র ও ছাত্রীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আজ থেকে আপনারা আমার আম্মা এবং আব্বা, আমি আপনাদের ছেলে। এ একটি বাক্যের মাধ্যমে তিনি আমাদের মাঝে আপনত্বের অনুভূতি সৃষ্টি করেন, একই পরিবারের বন্ধনে আবদ্ধ করে নেন। এভাবে আস্তে আস্তে কলেজের বিভিন্ন নিয়ম কানুন, রীতিনীতি বিষয়ে অবগত হতে থাকলাম।

কলেজের ১০/১২জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন করে গাইড টিচার নিয়োজিত আছেন। গাইড টিচারগণ প্রতিটি শিক্ষার্থীর আলাদাভাবে তদারকী করেন। তারা আমাদের পড়াশোনায় সবসময় সাহায্যের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের পাশে থাকেন। তাছাড়া আমাদের মেধার বিকাশ এবং পড়াশোনার আরো উন্নতির জন্য আমাদের ছেলে অর্থাৎ প্রিন্সিপাল স্যার পাঠ উন্নয়নের ব্যবস্থা করেন। যার ফলে এ কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ার প্রয়োজন হয় না। কলেজ থেকেই আমরা পাঠ্য বিষয়ের সকল কিছু সমাধান করে যেতে পারি।

এছাড়া আমাদের ছেলে প্রতিনিয়ত নিজে উপস্থিত থেকে কলেজের বিভিন্ন কার্যক্রম সঠিকভাবে হচ্ছে কিনা, কোন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের বুঝতে সমস্যা হচ্ছে কিনা, সেসব নজর রাখেন। আমাদের পড়াশোনায় যাতে একগুয়েমী না আসে সেজন্য তিনি বিভিন্ন বিষয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকেন। আমাদের জ্ঞানের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করা জন্য কর্ম ক্ষেত্রে সফল দেশ বরেণ্য ব্যাক্তিদের আমাদের সামনে নিয়ে এসে মতবিনিময় করার ব্যবস্থা করেন, যাতে আমরা অনুপ্রাণিত ও আত্ববিশ্বাসী হতে পারি।

বর্তমানে বৈশ্বিক মহামারী করোনা পরিস্থিতিতে দেশের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় যাতে আমাদের পড়াশুনার ব্যাঘাত না ঘটে  এবং ছুটিকালীণ সময়ে আমরা যেন পাঠবিমুখ হয়ে না যাই সে জন্য গত ১৭ মার্চ থেকে অনলাইন ভিত্তিক লাইভ ক্লাস চালু করা হয়েছে। যার উদ্যোক্তা হলেন আমাদের ছেলে অধ্যক্ষ ড. মশিউর রহমান মৃধা স্যার এবং সহায়তায় আছেন কলেজের শ্রদ্ধেয় শিক্ষক মন্ডলী। এ লাইভ ক্লাস নরসিংদী জেলায় তথা সারা দেশে আমার মনে হয় সর্ব প্রথম আমাদের ইনডিপেনডেন্ট কলেজে শুরু হয়। যার জন্য আমি অত্যন্ত গর্ববোধ করি।

এই লাইভ ক্লাসগুলো এত প্রাণবন্ত যে, মনে হয় আমি কলেজে ক্লাস করছি এবং শিক্ষকগণ আমার সামনে থেকে পাঠদান করছেন। সত্যিই এক অসাধারণ অনুভূতি, যা সম্ভব হয়েছে আমাদের শিক্ষকদের আন্তরিক মনোভাব ও প্রচেষ্টার মাধ্যম। তাদের মাতৃ ও পিতৃসুলভ আচরণ আমরা কোনদিন ভুলতে পারবো না। এ কলেজটি আসলে আমার ছেলে অর্থাৎ ড. মশিউর রহমান মৃধা স্যারের স্বপ্ন এবং মা হিসেবে আমারও কিছু দায়িত্ব রয়েছে এ কলেজের প্রতি। ইনশাল্লাহ একদিন আদর্শ সফল মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলব এবং ছেলের মুখ উজ্জল করবো। সকলের দোয়া কামনা করছি ।

এবার এসএসসি যারা পাশ করেছো তোমাদের প্রতি আমার আহবান আদর্শ শিক্ষকের প্রতিষ্ঠিত নরসিংদী ইনডিপেনডেন্ট কলেজে অধ্যয়ন করে নিজের জীবনকে প্রতিষ্ঠিত ও  আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button