নরসিংদীর খবর

নরসিংদীতে করোনা আক্রান্ত ৯৭জন রোগী বাড়িতে ।। ‍আতঙ্কিত এলাকাবাসী

শেয়ার করুনঃ

The Daily Narsingdir Bani

বাণী রিপোর্ট : নরসিংদী জেলাব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে করোনা আক্রান্ত রোগী। প্রতিদিনই বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। করোনা আক্রান্ত রোগীরা হাসপাতালে স্থাপিত আইসোলেশন সেন্টারের পরিবর্তে তাদের নিজ নিজ বাড়ীতে অবস্থান করতে দেয়ায় এলাকায় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

নরসিংদী জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী সোমবার (২০ এপ্রিল) পর্যন্ত নরসিংদী জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা-১৩৪জন। তাদের মধ্যে নরসিংদী সদর উপজেলায় মোট ৭২ জন, রায়পুরায় ২৪ জন, শিবপুরে ১৭ জন, পলাশ উপজেলায় ৫ জন, মনোহরদীতে ৫ জন ও বেলাব উপজেলায়- ১১ জন আক্রান্ত হয়েছে। নরসিংদী জেলায় এ পর্যন্ত ৪শত ৮১ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হলে এ পর্যন্ত ১৩৪ জনের রিপোর্ট পজেটিভ আসে।

আক্রান্তদের জন্য নরসিংদী ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালকে ৮০ শয্যা বিশিষ্ট কোভিড-১৯ আইসোলেশন সেন্টার ঘোষনা করা হয়েছে। বেলাব উপজেলায় স্থাপন করা হয়েছে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট আইসোলেশন সেন্টার। তাছাড়া প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে আইসোলেশন সেন্টারের ব্যবস্থা।

নরসিংদী জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো: ইব্রাহীম টিটন এর দেয়া তথ্য অনুযায়ী আক্রান্ত করোনা রোগীদের মধ্যে নরসিংদী ৮০ শয্যা বিশিষ্ট কোভিড-১৯ আইসোলেশন সেন্টারে রোগী রয়েছে ৩৪জন, রায়পুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশনে-২জন, বেলাব উপজেলায় রয়েছে ১ জন। সর্বমোট আইসোলেশন সেন্টারে রয়েছেন ৩৭জন। বাকী ৯৭জন করোনা আক্রান্ত রোগীকে রাখা হয়েছে তাদের নিজ নিজ বাড়ীতে হোম কোয়ারেন্টাইনে।

সিভিল সার্জন বলেন, যাদের অক্সিজেন দেয়াসহ বিশেষ চিকিৎসা দেয়ার প্রয়োজন তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হবে। সব আক্রান্তদের ভর্তি করা হলে হাসপাতালে জায়গা হবে না। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বাড়ির রোগীদের খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে । প্রতিদিন মনিটিরিং করা হচ্ছে।

বাড়ীতে করোনা রোগী রাখায় স্ব-স্ব এলাকার জনমনে করোনা আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তাদের মাধ্যমে পরিবারের অন্য সদস্যরা আক্রান্ত হতে পারেন। সেই সাথে আশে পাশের লোকজনও আক্রান্ত হওয়ার আশংকা করছেন।

জনসাধারণের প্রশ্ন, উন্নত বিশ্বে যেখানে সুস্থ লোকজন ঘরে বন্দি হয়েও আক্রান্ত হচ্ছেন, উন্নত চিকিৎসা সেবা দিয়েও মৃত্যুর মিছিল ঠেকানো যাচ্ছেনা, সেখানে পরিবারের সাথে থাকতে দিয়ে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ করোনা নিয়ন্ত্রণ করবেন কীভাবে? এ পর্যায়ে না হয় পুলিশ কোয়ারিন্টাইন মনিটরিং করছেন কিন্তু যখন গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে পড়বে তখন কী হবে। ইতোমধ্যে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ, পুলিশ বিভাগ ও প্রশাসনে আক্রান্ত হওয়ার খবর বেড়িয়েছে। ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে কী স্বাস্থ্য বিভাগ ব্যবস্থা নিবেন। জেলা শহরের আইসোলেশন সেন্টারে ভর্তি হওয়া রোগীদের কাছে কোন ডাক্তার-নার্স কেউ যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করছেন রোগীরা, সেখানে স্বাস্থ্য বিভাগ কতটুকু রোগীর সেবা দিতে পারবেন তা সহজেই অনুমেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button