অপরাধনরসিংদীর খবররায়পুরা

নরসিংদীর রায়পুরায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৯

শেয়ার করুনঃ

The Daily Narsingdir Bani

বাণী রিপোর্ট: করোনার এই মহামারীতে ও নেই যেন কারো মাথা ব্যথা, থামছে না যেন সংঘর্ষ।নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মরজালে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একই পরিবারের ৬ জনসহ উভয় পক্ষের ৯ জন আহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার মরজাল গ্রামে সাবেক ইউপি সদস্য সাইদুজ্জামান বাদল ও প্রতিবেশি আব্দুর রহিমের লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।

আহতরা হলেন- মরজাল গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের স্ত্রী হুসনে আরা (৮০), তার ছেলে মো. জুয়েল মিয়া (৪০), দুই মেয়ে সুরমা আক্তার (৩৫), গুলশান আরা (৩৩), বড় ছেলে সাইদুজ্জামান বাদলের পুত্র আশিকুজ্জামান তুষার (২৩) ও ভাগ্নে সিয়াম (১২)। এ ঘটনায় আব্দুর রহিম (৫৫), তার স্ত্রী হেলেনা (৪৮) ও ছেলে মো. শামীম (২৫) আহত হন। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে সাইদুজ্জামান বাদল বাদী হয়ে আব্দুর রহিম তার স্ত্রী ও ছেলেসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৬/৭ জনের বিরুদ্ধে রায়পুরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাবেক মরজাল ইউপি সদস্য সাইদুজ্জামান বাদলের সঙ্গে প্রতিবেশি আব্দুর রহিমের জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। সম্প্রতি ওই জমির একটি কাঁঠালগাছ জনৈক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন বাদল। পরবর্তীতে বিক্রিকৃত গাছ কাটার জন্য লোকজন আসলে তাদের বাঁধা দেয় প্রতিপক্ষ রহিম। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মাঝে কথা কাটাকাটি হয়। পরে জমির সীমানা নির্ধারণে জমির মাপ শেষে সার্ভেয়ার জানান গাছটি বাদলের জমিতে রয়েছে।

এরই জের ধরে বৃহস্পতিবার বিকেলে রহিম ও তার লোকজন জুয়েলকে ডেকে নিয়ে বাড়ির পাশে কুপিয়ে আহত করে। এ সময় জুয়েলকে বাঁচাতে এগিয়ে আসা হুসনে আরা, সুরমা, গুলশান, আশিকুজ্জামান ও সিয়ামকেও এলোপাতারি কুপিয়ে জখম করে রহিম ও তার লোকজন। এ ঘটনায় আহত হন রহিম, তার স্ত্রী হেলেনা ও ছেলে শামীম।

এ সময় বাদলের বাড়ির ভাড়াটিয়া আহত ছয়জনকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক গুরুতর জখম হুসনে আরা, জুয়েল, আশিকুজ্জামান ও সিয়ামকে ঢাকা পাঠানো হয়। বাকি দু’জনকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। স্বজনরা আহত আব্দুর রহিম, হেলানা ও শামীমকে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে রহিম ও শামীমকে ঢাকায় পাঠানো হয়। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে যান হেলেনা।

স্বজনরা জানান, গুরুতর আহত হুসনে আরা, জুয়েল, আশিকুজ্জামান ও সিয়ামকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আশিকুজ্জামানের মাথায় ও ঘাড়ে দুটি এবং সিয়ামের মাথায় অস্ত্রোপাচার শেষে আইসিওতে রাখা হয়। দু’জনের অবস্থা সংকটাপন্ন। নরসিংদী সরকারি কলেজের অনার্স ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আশিকুজ্জামান ও সিয়াম বারৈচা আইডিয়াল স্কুলের ৮ম শ্রেণীর ছাত্র। অপর ২জন নরসিংদী জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বাড়িতে ফিরে গেছেন।

অপরদিকে তাদের স্বজনরা আহত রহিম, হেলেনা ও শামীমকে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে রহিম ও শামীমকে ঢাকায় প্রেরণ করেন চিকিৎসক। চিকিৎসা শেষে হেলেনাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসিনুল কাদির বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button