নরসিংদীর খবর

হাজীপুর ইউপি চেয়ারম্যানের দুর্নীতির বিষয়ে দুদকের দ্বিতীয় দফা তদন্ত

শেয়ার করুনঃ

The Daily Narsingdir Bani

বাণী রিপোর্ট: দুর্নীতির অভিযোগে হাজীপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইউসুফ খান পিন্টু’র বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বারের মতো তদন্ত সম্পন্ন করেছে দুদক। ২২ মার্চ রবিবার নরসিংদী শহরতলী হাজীপুর-পাতিলবাড়ি বেইলী ব্রীজ এর সংস্কার কাজের টাকা আত্মসাতের বিষয়ে এ তদন্ত করা হয়। হাজীপুর ইউপি’র সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান ও ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সুজিত সূত্রধর এর অভিযোগ ও মামলার প্রেক্ষিতে তদন্তে নামে দুদক। স্থানীয়দের উপস্থিতিতে তদন্তকার্য সম্পন্ন করেন দুর্নীতি দমন কমিশন এর উপ সহকারী পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম। নরসিংদী সড়ক ও জনপথ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মো. মজীবুর রহমান,উপ সহকারী প্রকৌশলী গোলাম মহিউদ্দিন ও উপ সহকারী প্রকৌশলী মো. রাশেদ ভূইয়া তদন্ত কাজে সহযোগিতা করেন।

জানা যায়, ২০১২-১৩ ও ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রকল্প দুটি’র অর্থ বরাদ্দ ছিল প্রায় দেড় লক্ষ টাকা। দুটি প্রকল্পের সভাপতি ছিলেন সাবেক মহিলা ইউপি সদস্য মালা রাণী দাস। ওই সময়ে কোন কাজ না করেই প্রকল্প দুটি’র টাকা আত্মসাৎ করা হয়। তৎকালীন প্যানেল চেয়ারম্যান প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে নরসিংদী জেলা প্রসাশক কার্যালয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। পরে অভিযোগের প্রেক্ষিতে নরসিংদী সদর উপজেলা প্রকৌশলী আনিসুর রহমান মণ্ডল সরেজমিন তদন্ত শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট রিপোর্ট পেশ করেন। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, উক্ত দু’টি প্রকল্প থেকে প্রায় ১ লাখ আট হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।তৎকালীন উপজেলা প্রকৌশলী আনিসুর রহমান মণ্ডল প্রতিটি প্রকল্পের বিষয়ে তার রিপোর্টে দুর্নীতির চিত্র ফুটে ওঠে।
এছাড়াও গত ১৯ ও ২০ ফেব্রুয়ারী’২০ দুদকের তদন্ত কমিটি মামলায় উল্লেখিত আরো সতেরটি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে তদন্ত সম্পন্ন করেন।The Daily Narsingdir Bani

ইউপি সদস্য খোকন মিয়া ও আমীর সওদাগর উপস্থিত থেকে ব্রীজটির পশ্চিশ পার্শ্বে র ভাঙ্গা অংশের মেরামত কাজ

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুটি প্রকল্পের সভাপতি সাবেক মহিলা ইউপি সদস্য মালা রাণী দাসকে প্রকল্পস্থানে তদন্তকারী কর্মকর্তাগণ কোথায় কাজ হয়েছে দেখাতে বললে তিনি তা দেখাতে পারেননি। তার পরিবর্তে ইউপি চেয়ারম্যান ইউসুফ খান পিন্টু হাজীপুর-পাতিলবাড়ি বেইলী ব্রীজের বিভিন্ন স্থানে কাজ হয়েছে মর্মে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের বুঝাতে চেষ্টা করেন। গত ৩/৪ মাস পূর্বে স্থানীয় ইউপি সদস্য খোকন মিয়া ও আমীর সওদাগর উপস্থিত থেকে ব্রীজটির পশ্চিশ পার্শ্বে র ভাঙ্গা অংশের মেরামতের কাজ করেন। এ সময় তারা ব্যক্তিগত উদ্যোগে জনস্বার্থে ব্রীজের সংস্কার করছেন বলে এলাকাবাসীকে অবহিত করেন। এবার দুদকের তদন্তকালে ব্রীজের সংস্কার কাজটিকে প্রায় ৫/৬ বছর পূর্বে প্রকল্পের মাধ্যমে করা হয়েছে, তদন্তকারীদের এমনটি বুঝানোর চেষ্টা করেন ইউপি চেয়ারম্যান ইউসুফ খান পিন্টু।

স্থানীয়দের মতে, পাতিলবাড়ি ব্রীজে ৩/৪ মাস পূর্বে যে সংস্কার কাজটি করা হয়েছে, তাতে সর্বোচ্চ ৮/১০ হাজার টাকা ব্যয় হতে পারে। ব্রীজটির নির্মাণের পর থেকে ইতোপূর্বে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে কোন সংস্কার কাজ করা হয়নি। ভূয়া প্রকল্প দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করার বিষয়টি জানত না স্থানীয় জনগণ। সম্প্রতি ব্রীজের যে সংস্কার কাজটি স্থানীয় দু’জন ইউপি সদস্য ব্যক্তিগত উদ্যোগে করেছেন বলে প্রচার করা হচ্ছে তা আসলে কোন প্রকল্পের অধীনে হয়েছে কিনা, অনেকের মনে এমন প্রশ্ন জেগেছে। সরকারি প্রকল্পের অধীনে হয়ে থাকলে, জনগণের তা জানার অধিকার রয়েছে।

গত ২২ মার্চ তদন্তকালে দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তা ও তার সহযোগীদের নিকট স্থানীয় সংবাদকর্মীরা দুর্নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে তারা তাৎক্ষণিক মুখ খুলতে রাজি হননি। জনমনে প্রশ্ন, একের পর এক তদন্ত সম্পন্ন হচ্ছে, কিন্তু তদন্তের সঠিক ফলাফল দেখতে সাধারণ জনগণের আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button