ধর্মনরসিংদী সদরনরসিংদীর খবর

মাদক ব্যবসায়ী ও তার সহযোগীদের পূজা উদযাপন পরিষদের কোন কমিটিতে ঠাঁই হবে না- নরসিংদী শহর কমিটির সম্মেলনে বক্তাগণ

The Daily Narsingdir Baniবাণী রিপোর্ট: নরসিংদী জেলা কমিটিসহ সকল উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটিগুলোতেও মাদক ব্যবসায়ী ও তার সহযোগীদের পূজা উদযাপন পরিষদের কোন কমিটিতে ঠাঁই দেয়া হবে না। মাদক ব্যবসায়ীরা যেন এ সংগঠনের কোন কমিটিতে স্থান না পায়, সেজন্য সংগঠনের সকলকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। মাদক ব্যবসায়ীরা দেশের শত্রু, সমাজের শত্রু। তাই তারা যেন ধর্মীয় এ সংগঠনের সাথে কোন ভাবে সংপৃক্ত হতে না পারে। ইতোমধ্যে মাদক ব্যবসায়ীদের গড্ফাদার ও তাদের সহযোগীসহ মাদক মামলার আসামীদের বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তাদের ব্যাপারেও আপনাদের সতর্ক থাকতে হবে। মাদক ব্যবসায়ী, মাদক মামলার আসামী ও আদালতের একাধিক মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামীরা জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারের সাথে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা প্রচার করে থাকে। ধর্মীয় সংগঠনের নাম ভাঙ্গিয়ে জেলার ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তা ও নেতৃবৃন্দের কাছে যায় এবং ঘনিষ্ঠ অবস্থার নানান ভঙ্গিতে ছবি তুলে রাখে। পরে ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করতে ও মাদক ব্যবসার প্রসার ঘটাতে এ সকল ছবি তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার ও ভাইরাল করে থাকে। এ সকল ব্যক্তির বিষয়ে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দদের সতর্কতা অবলম্বন করার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি। শনিবার ১৪ মার্চ দিনব্যাপি নরসিংদী পৌর শহরের দয়াময় আশ্রমে নরসিংদী শহর পূজা উদযাপন পরিষদের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে বক্তাগণ এসব কথা বলেন।

নরসিংদী শহর পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি উত্তম কুমার মোদক এর সভাপতিত্বে দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সূর্য্যকান্ত দাস, অহিভ‚ষন চক্রবর্তী, নীল রতন চক্রবর্তী, রঞ্জিত কুমার সাহা, বিজয় গোস্বামী, মাখন দাস, রঞ্জন কুমার সাহা, দিপক কুমার সাহা, শ্যামল সাহা, বিণয় কুমার সাহা, সুব্রত দাস, নেতৃবৃন্দ প্রমূখ।

সম্মেলনে পূর্বের কমিটির সভাপতি উত্তম কুমার মোদক সভাপতি ও বিণয় কুমার সাহাকে সাধারণ সম্পাদক করে নরসিংদী শহর কমিটির ঘোষণা করা হয়। এদিকে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের বিষয়ে কারো কোন আপত্তি না থাকলেও সাংগঠনিক পন্থা অবলম্বন না করে ৩ জনের নাম ঘোষণা করায় তোপের মুখে পড়ে সূর্য্যকান্ত দাস ও দিপক সাহা। এ সময় উপস্থিত কাউন্সিলরগণ গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কমিটি গঠন করার জন্য আহ্বান জানান। পরে সিনিয়র নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

নেতৃবৃন্দ বলেন, সূর্য্যকান্ত দাস সম্প্রতি রায়পুরায় গঠনতন্ত্র না মেনে নতুন কমিটির ঘোষণা দিলে সেখানে পাল্টা কমিটি গঠনের প্রস্তুতি নেয় স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। রায়পুরা উপজেলার পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে না জানিয়ে এবং তাদেরকে সম্মেলনে উপস্থিত থাকার নোটিশ না দিয়েই নিজের ইচ্ছে মতো কমিটির ঘোষণা দেন। সেখানেও তিনি তোপের মুখে পড়েন। একইভাবে শিবপুর উপজেলা কমিটি করতে গিয়ে তিনি স্বেচ্ছাচারিতার আশ্রয় নিলে তুমুল হট্রগোলের সৃষ্টি হয়। শিবপুর এবং রায়পুরায় কমিটি গঠনকালে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের স্টেইজে বসালে স্থানীয় কাউন্সিলরগনের কঠোর সমালোচনার সম্মুখীন হন সূর্য্যকান্ত দাস।

The Daily Narsingdir Bani

রায়পুরা উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি কান্টু রায় বলেন, সূর্য্যকান্ত দাস সাংগঠনিকভাবে অদক্ষ। তিনি গঠনতন্ত্র না মেনে পরপর নতুন কমিটি গঠন করার চেষ্টা করছেন। আমরা তার এ ধরণের স্বেচ্ছাচারিতা মানব না, আদালতে মামলা করব। সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের কার্যনিবাহী কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় তা অকার্যকর কমিটিতে পরিণত হয়েছে। সুতরাং অকার্যকর কমিটির সকল কাজই অকার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। তিনি নিজেই অবৈধ। পুণরায় সভাপতি পদে বহাল থাকার জন্য তিনি মনগড়া মতো পকেট কমিটি করে যাচ্ছেন। আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখতে পেয়েছি অতি সম্প্রতি সূর্য্যকান্ত দাস চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামীদেরকে নিয়ে নরসিংদী জেলা প্রশাসককে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এতে জেলার হিন্দু সমাজের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয় না জানলেও সূর্য্যকান্ত দাস কিভাবে তাদেরকে নিয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে গেলেন।

The Daily Narsingdir Bani

হাজীপুর ইউনিয়নের গোপাল জিউ আখরাধামের সহ সভাপতি ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান সুজিত সূত্রধর জানান, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের গঠনতন্ত্রের ধারা ১১ এর দফা ‘খ’ তে উল্লেখ রয়েছে, “কমিটি সমূহের মেয়াদকাল সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের তারিখ হইতে ২ বৎসর। কমিটির মেয়াদ ২ বছর শেষ হইবার ৯০ দিন পূর্ব হইতে দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি গ্রহণপূর্বক মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পূর্বেই সম্মেলন সমাপ্ত করিতে হইবে। মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি সমূহ অকার্যকর কমিটি হিসেবে বিবেচিত হইবে। মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর দ্রুত আহ্বায়ক কমিটি গঠনপূর্বক সম্মেলনের মাধ্যমে অনতিবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করিতে হইবে।”

তিনি আরো জানান, বর্তমান নরসিংদী জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের কমিটি অকার্যকর। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাদের নতুন কমিটির জন্য সম্মেলন করার অধিকার নেই। আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হবে। সভাপতি সূর্যকান্ত দাস সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে তারা বলেন, তিনি একজন শিক্ষিত ব্যক্তি। জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি। তার এ আচরণ কাম্য নয়। তার বক্তব্য সঠিক নয়। নতুন কমিটি যথাসময়ে গঠন না করে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের পদে থাকা দুর্নীতির সামিল। তিনি মানছেন না গঠনতন্ত্র। কমিটি অকার্যকর হওয়ায় তিনি সভাপতি পরিচয় দিতে পারেন না। গঠনতন্ত্র মোতাবেক আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে উপজেলা/শহর ও ইউনিয়ন কমিটি গঠন করতে হবে। আর তা’ না করা হলে, কোন কমিটির বৈধতা থাকবে না। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জেলায় আহ্বায়ক কমিটি গঠনের মাধ্যমে জেলার অন্যান্য কমিটিগুলো পূণর্গঠনের জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, দিলীপ সাহা দুইটি মাদক মামলা ও ১টি চোরাই মোটরসাইকেল মামলার আসামী। ইতি রানী তিনটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী এবং জেলার নেতৃত্বে রয়েছেন একজন মাদকের গড্ফাদার। তার নির্দিষ্ট কোন কর্ম নেই, পূজা উদযাপন পরিষদই একমাত্র সাইনবোর্ড। তাদের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি প্রয়োজন। একই অভিমত ব্যক্ত করেছেন পূজা উদযাপন কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

Perfume Factory

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker