নরসিংদী সদরনরসিংদীর খবরবেলাবোরায়পুরাস্বাস্থ্যকথা

নরসিংদীর সকল হাসপাতালে প্রস্তুতি সম্পন্ন,  করোনা ভাইরাস সন্দেহে ২ জন কোয়ারেন্টাইনে

শেয়ার করুনঃ

The Daily Narsingdir Baniবাণী রিপোর্ট: নরসিংদীর সদর ও রায়পুরা উপজেলায় করোনা ভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে ২ ব্যক্তিকে তাদের নিজ নিজ বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনে (সঙ্গরোধ) রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। গত এক সপ্তাহ আগে ইটালী থেকে দেশে ফিরেছেন কোয়ারেন্টাইনে থাকা ২ ব্যক্তি। দু’জনের শরীরে ‘করোনা ভাইরাস’ আক্রান্তের কোন উপসর্গ দেখা দেয় কী না তা পর্যবেক্ষণ করতে তাদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। কোয়ারেন্টাইনে থাকা দুই ব্যক্তি হলেন- নরসিংদী সদর উপজেলার উত্তর শিলমান্দীর মো. সামসুদ্দীনের ছেলে সজন মিয়া (৪১) ও রায়পুরা উপজেলার পাড়াতলী গ্রামের শাহ মরতুজ আলীর ছেলে সুমন মিয়া (২৬)। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দুজনকেই তাদের বাড়ির একটি নির্দিষ্ট কক্ষে অন্যান্য সদস্যদের থেকে আলাদাভাবে করে রাখা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নরসিংদীর সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম টিটন। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রবাস ফেরত ব্যক্তিদের বিশেষ সতর্কতাম‚লক নজরদারি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন।

এদিকে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ও আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করণে নরসিংদীর বেলাব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নবনির্মিত ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালকে আইসোলেশন সেন্টার ঘোষণা করা হয়। হাসপাতালটিতে ১’শত শয্যার ব্যবস্থা রাখা হবে। এছাড়া নরসিংদীর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিভিন্ন পর্যায়ের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নরসিংদী জেলা ও সদর হাসপাতালসহ সবগুলো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আলাদা আইসোলেশন ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

চিকিৎসকরা জানান, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে গত বুধবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জরুরী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে উপস্থিত ছিলেন উর্দ্ধতন চিকিৎসক ও সরকারী বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানগণ। বৈঠকে জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইনকে আহবায়ক ও সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম টিটনকে সদস্য সচিব করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট জেলা পর্যায়ের কমিটি করা হয়। এ প্রেক্ষিতে জেলার প্রধান দুটি হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের প্রধান করে রেপিড রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির মাধ্যমে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সন্ধান পেলে দ্রæত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া ১৫ দিন আগে থেকেই প্রতিটি হাসপাতালে অন্তত: ৫টি করে বেড নির্দিষ্ট করে আইসোলেশন ইউনিট গঠন করা হয়েছে।

নরসিংদীর জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন জানান, করোনা ভাইরাস নিয়ে আতংকিত না হয়ে সচেতন থাকতে হবে। সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জেলা তথ্য অফিসের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে যারা প্রবাস থেকে এসেছেন বা আসছেন তাদের বিষয়ে খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে। করোনা ভাইরাস সন্দেহ হলে প্রয়োজনে তাদের নিজ নিজ বাড়িতে আলাদাভাবে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে। তারা যাতে বাইরে ও জনসমাগম স্থলে যেতে না পারেন এবং নিরাপদে থাকতে পারেন সেক্ষেত্রে প্রয়োজনে সাদা পোশাকে পুলিশী পাহারা রাখা হবে। এছাড়া কোন প্রকার জনসমাগমম‚লক অনুষ্ঠান আয়োজনের কোন অনুমতি দেয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

পরিস্থিতি অনুযায়ী সর্বোচ্চ সেবা দিতে জেলার সরকারি হাসপাতালগুলো প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন নরসিংদীর সিভিল সার্জন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button