অপরাধঅর্থনীতিনরসিংদীর খবর

নরসিংদী জেলাব্যাপী আশংকাজনক হারে বাড়ছে ইজিবাইক ছিনতাই, নিঃস্ব হচ্ছে দরিদ্র জনগোষ্ঠী

শেয়ার করুনঃ

The Daily Narsingdir Baniবাণী রিপোর্ট: নরসিংদী জেলাব্যাপী আশংকাজনক হারে বেড়ে চলেছে ইজিবাইক ছিনতাইয়ের ঘটনা। এতে নিঃস্ব হচ্ছে জেলার হত-দরিদ্র জনগোষ্ঠী। গত একমাসে উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর এলাকা থেকে কমবেশী ২০টি ইজিবাইক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবী স্থানীয়দের। এসব ছিনতাইয়ের কারণে দরিদ্র ইজিবাইক চালক ও মালিকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এ পর্যন্ত ১টি ইজিবাইক ছিনতাইয়ের ঘটনার লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে, বলেছে থানা পুলিশ।

ভুক্তভোগীরা জানান, গত ফেব্রুয়ারি মাসে ঘোড়াশাল পৌর এলাকার শহীদ ময়েজ উদ্দিন সেতুর এলাকা থেকে পলাশ নতুন বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জিয়াউর রহমানের একটি ইজিবাইক ছিনতাই হয়। এ ঘটনায় পলাশ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন জিয়া।
এছাড়া ঘোড়াশাল পৌর এলাকার বালুচর পাড়া গ্রামের আব্দুল মোমেন মিয়ার ব্যাটারিচালিত ২টি, পৌর এলাকার ভাগ্যেরপাড়া মহল্লার ইকবাল মিয়ার ১টি ও গড়পাড়া মহল্লার ওবায়দুল হোসেনের ১টি, বাংলাদেশ জুট মিলের সামনে থেকে শফিকুল ইসলামের ১টি সহ পৌর এলাকায় কমপক্ষে ২০টি ইজিবাইক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।

ছিনতাইকারী চক্রটি প্রতিনিয়ত এসব ইজিবাইক ছিনতাই করে থাকলেও আইনী জটিলতা এড়াতে এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করছে না কেউ। ছিনতাইকারী চক্রের উৎপাতে ও আতংকে সন্ধ্যার আগেই ইজিবাইক নিয়ে বাড়ি ফিরছে চালকরা। ভয়ে নির্জন এলাকায় ভাড়া নিয়ে যেতে রাজী নন চালকরা। এতে রাতের বেলায় বাড়ছে জনদুর্ভোগ। এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র চালক ও মালিকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

পলাশ নতুন বাজার এলাকার গ্যারেজ মালিক জাহিদ হাসান, আফসার মিয়া ও ওবায়দুল মিয়াসহ একাধিক ক্ষুদ্র গ্যারেজ মালিকরা জানান, ইজিবাইক ও মিশুক ব্যবসার সাথে জড়িত মালিক ও চালকরা সবাই নি¤œ আয়ের মানুষ। নতুন একটি ইজিবাইক কিনতে প্রায় এক লাখ ৫০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা লাগে। গ্যারেজ মালিকদের মাঝে অনেকেই এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ৩/৪টি ইজিবাইক কিনে থাকেন। এ ঋণ পরিশোধ করতে এক বছর সময় লাগে। এসব নিম্ন আয়ের মানুষের পেটে লাথি মেরে তাদের সর্বস্বান্ত করছে ছিনতাইকারী চক্র। বিগত সময়ের চেয়ে গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে চলতি মাস পর্যন্ত ছিনতাইকারী চক্রটি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। প্রকাশ্যেই ঘটছে এসব ছিনতাইয়ের ঘটনা। স্থানীয় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের আইনের আওতায় আনতে পারেনি।

এ ব্যাপারে পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. নাসির উদ্দিন বলেন, আমরা এ পর্যন্ত একটি অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তবে অটোরিকশা ছিনতাইকারী এই চক্রটিকে গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

একই অবস্থা চলছে নরসিংদী সদর উপজেলা, রায়পুরা, শিবপুর, মনোহরদী ও বেলাব উপজেলায়। ছিনতাইকালে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আহত করছে চালকদের। প্রকাশ্যে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় অভিযোগ করা হলেও মামলা নেয়নি পুলিশ। গত ডিসেম্বর মাসে নরসিংদী শহরের রেলষ্টেশন থেকে হাজীপুর গ্রামের ফারুক মিয়ার একটি অটোরিক্সা ছিনতাই হয়। চিহ্নিত ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হলেও তাদের বিরুদ্ধে মামলা নেয়নি পুলিশ। পরদিন রায়পুরার আমিরগঞ্জের এক চালকের অটোরিক্সা ছিনতাই হয় শহরের ভাগদী এলাকা থেকে। একই দিন ইউ এম সি এলাকা থেকে দিনের বেলায় চালককে আহত করে আরো একটি অটো ছিনতাই হয়। অভিযোগ দেয়া সত্ত্বেও এ ঘটনায় মামলা নেয়নি পুলিশ। একই অবস্থা চলছে জেলাব্যাপী। এতে নিঃস্ব হতে চলেছে দরিদ্র জনগোষ্ঠী। তাদের আয়ের উৎস বন্ধসহ কর্মবিমুখ হয়ে পড়ছে চালকরা।

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীরা স্থানীয় প্রশাসনসহ আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button