পারফিউম ফ্যাক্টরী এলকোহল মুক্ত সুগন্ধির দুনিয়ায় পারফিউম ফ্যাক্টরি আপনার জন্য একটি " ব্লাইন্ড বাই" প্লাটফর্ম "পারফিউম ফ্যাক্টরি"।
অপরাধনরসিংদীর খবরবেলাবোশিক্ষা

বেলাব ইউএনও’র বিরুদ্ধে শিক্ষাবৃত্তির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

The Daily Narsingdir Baniবাণী রিপোর্ট: নরসিংদীর বেলাবতে ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে উপজেলা পরিষদের তহবিল হতে বরাদ্দকৃত শিক্ষা বৃত্তির টাকা আত্মসাৎসহ ২০১৯ সালের বিজয় দিবসের পুষ্পস্তবক অর্পণ ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বরাদ্দকৃত অর্থ না দেয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা শারমিন এর বিরুদ্ধে। বেলাব উপজেলা চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ এমন অভিযোগ করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেলাব উপজেলার ৮৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২৩ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৬টি মাদ্রাসা ও ৭টি কলেজ রয়েছে। তার মধ্যে গেল বছরের ডিসেম্বর মাসে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের ২৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মোট ১’শ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩ হাজার টাকা করে বিতরণ করা হয়। তবে ৪ হাজার টাকা করে শিক্ষার্থীদের দেয়া হয় বলে স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এমন তথ্য দিয়ে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ এনেছেন বেলাব উপজেলা চেয়ারম্যান শমসের জামান ভূঁইয়া রিটন।

এ ব্যাপারে বেলাব উপজেলার বারৈচা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তফা কামাল জানান, আমার স্কুলের ১০জন শিক্ষার্থী ৩ হাজার করে শিক্ষা বৃত্তির টাকা পেয়েছে।
স্কুলের নবম শ্রেণীর একাধিক শিক্ষার্থীরা জানায়, মাষ্টার রোলে শুধু নাম ও পিতার নাম ছিল তবে কোন টাকার অংক ছিলো না। আমাদেরকে বলেছে সাক্ষর দিতে, আমরা স্বাক্ষর দিয়েছি। পরে আমাদেরকে ৩ হাজার টাকা করে দিয়েছে।

হাড়িসাংগান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আঃ মজিদ বলেন, তার স্কুলে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১১ জন ৩ হাজার করে টাকা পেয়েছে। পাশাপাশি অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দরিদ্র, মেধাবী তালিকাভুক্ত শিক্ষার্থী থাকার সত্ত্বেও তারা তালিকার বাইরে রয়েছে। তাদেরকে কোন শিক্ষা বৃত্তি দেয়া হয়নি।
রাজারবাগ সরকারি প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম খান বলেন, কিভাবে এ উপজেলায় এই তালিকাগুলো করে তা আমরা জানিনা, আমার স্কুলে এই শিক্ষা বৃত্তি পাওয়ার মত অনেক শিক্ষার্থী থাকার পরেও তারা পায়নি। তিনি বলেন, প্রতি বছর বিজয় ফুল প্রতিযোগিতায় প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য ২ হাজার করে টাকা দেয়ার কথা থাকলে ও আমাদেরকে এই টাকা দেয়া হয় না।

এ ব্যাপারে উপজেলার একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ জানান, গত ২ বছর যাবৎ বিজয় ফুল প্রতিযোগিতার বরাদ্দকৃত কোন টাকা তারা পায়নি। এ ছাড়া উপজেলায় অনুষ্ঠেয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সরকারি বরাদ্দ থাকার পরও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ইউএনও অফিসের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর হান্নান এর মাধ্যমে বিভিন্ন অংকের টাকা চাঁদা নেয় বলে জানান শিক্ষকরা।
বিজয় ফুল প্রতিযোগিতার টাকা সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (সাবেক) শহিদুর রহমান বলেন, গত ১৬ই ডিসেম্বর স্কুল পর্যায়ে বিজয় ফুল প্রতিযোগিতার টাকা দেয়ার শেষ তারিখ ছিল। ইউএনও টাকা উঠিয়ে নিয়ে গেছে, কোন স্কুলে দেয়া হয়নি।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বেলাব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা শারমিন বলেন, স্থানীয় একটি মহল তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।
অন্যদিকে বেলাব উপজেলা চেয়ারম্যান শমসের জামান ভূইয়া রিটন বলেন, শিক্ষা বৃত্তির টাকা একজন ইউএনও আত্মসাৎ করে এটা খুবই দুঃখজনক। এ ব্যাপারে আমি জন প্রশাসন মন্ত্রণালয়ে এবং নরসিংদী স্থানীয় সরকার বিভাগে অভিযোগ করেছি। আমরা বেলাববাসী এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button