অপরাধনরসিংদীর খবরমনোহরদী

মনোহরদীতে সন্ত্রাসী হামলায় কলেজ ছাত্রের মৃত্যু

শেয়ার করুনঃ

The Daily Narsingdir Baniবাণী রিপোর্ট: নরসিংদীর মনোহরদীতে বিদ্যালয়ের বিদায় অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত কলেজ ছাত্র খলিলুর রহমান (১৯) আর নেই। সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঢাকার উত্তরা আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১৫ দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকার পর কলেজ ছাত্র মারা যান। উপজেলার চন্দনপুর গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী মো. শাহাদত হোসেনের ছেলে এবং মনোহরদী সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র খলিল। ঘটনার দিন খলিলের মা লিপি বেগম বাদী হয়ে মনোহরদী থানায় অভিযোগ দায়ের করলেও এখনও পর্যন্ত থানা পুলিশ কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় নিহতের পরিবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জানুয়ারি রোববার কলেজ ছাত্র খলিল নোয়াকান্দী হাজী আলিমুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০২০ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে গিয়েছিল। অনুষ্ঠান শেষে বাড়িতে ফেরার পথে নোয়াকান্দী বাজার নিকটবর্তী স্থানে পৌঁছলে খলিলকে রাস্তায় আটকিয়ে একই উপজেলার নলুয়া গ্রামের কফিল উদ্দিনের ছেলে ইকরাম হোসেন (২১), বাদল মিয়ার ছেলে বুলবুল (২০), আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে নাইম (২২), বিল্লালের ছেলে নিশাত (২১) এবং তাদের অপর ৫-৭ জন সহযোগী মিলে পূর্ব শত্রুতার জেরে গালাগাল শুরু করে। এ সময় প্রতিবাদ করলে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারপিট শুরু করে। এক পর্যায়ে ইকরাম হোসেন তার হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে খলিলের মাথায় আঘাত করলে গুরুতর রক্তাক্ত জখমাবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে খলিল। আহতের আত্ম-চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় এবং তার পরিবারকে সংবাদ দেয়।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা বেগতিক দেখে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। ঢামেক হাসপাতালে ৪ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে উত্তরা আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সোমবার রাতে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কলেজ ছাত্র খলিল মারা যায়।
নিহতের মা লিপি বেগম জানান, পূর্ব শত্রুতার জেরে দিনে-দুপুরে নির্মমভাবে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে খলিলকে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। ঘটনার দিন মনোহরদী থানায় অভিযোগ দেয়া হলেও এখনো পর্যন্ত পুলিশ কোনো প্রকার ব্যবস্থা নেয়নি। পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করলে আসামিরা আগেই গ্রেফতার হতো। এ ঘটনায় জড়িতদের ফাঁসির দাবি জানান তিনি।
মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আবুল কালাম জানান, এ ঘটনা সম্পর্কে আগে কেউ অবগত করেনি। ১১ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার লিখিত অভিযোগ পেয়ে থানায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ অব্যাহত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button