নরসিংদীর খবরশিক্ষাশিবপুর

শিবপুর খৈনকুট উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, ইউএনও’র হস্তক্ষেপে খুলা হয়েছে স্কুলের তালা

The Daily Narsingdir Bani

বাণী রিপোর্ট:

নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার খৈনকুট উচ্চ বিদ্যালয়ে ছুটি ঘোষণা ও অফিস কক্ষে তালা দেয়ার ঘটনায় বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের অপসারন দাবী করে মিছিল করেছে। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের হস্তক্ষেপে তালা খুলে স্কুলের পরিবেশ স্বাভাবিক করা হয়।

প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির মধ্যে দ্বন্দ্বের জের ধরে প্রধান শিক্ষক ফাসাদ মিয়াকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করে অফিস কক্ষে তালা দিয়ে স্কুল ছুটি ঘোষণা করে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি। পরে সভাপতির অপসারণ ও স্কুলের তালা খুলে দেয়ার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে শিবপুর উপজেলার খৈনকুট উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে। পরে শিবপুর থানা পুলিশ ও ইউএনও’র হস্তক্ষেপে স্কুলের তালা খুলে দেয়া হয়।

স্কুল সূত্রে জানা যায়, খৈনকুট উচ্চ বিদ্যালয়ের ফান্ডের টাকাসহ নানা বিষয় নিয়ে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মজিবুর রহমান খৈনকুটীর সঙ্গে প্রধান শিক্ষক মো. ফাসাদ মিয়ার মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। এরই মধ্যে স্কুলের নামে জমি ক্রয় করার কথা বলে স্কুলের ফান্ড থেকে সাড়ে ৮ লাখ টাকা তুলে নেন সভাপতি মজিবুর। পরে সেই টাকায় তিনি নিজ নামে জমি ক্রয় করেন।

গত শুক্রবার (৩১ জানুুয়ারি) জরুরি এক সভায় স্কুল ফান্ডের টাকায় কেনা জমি সভাপতি মজিবুরকে রেজিস্ট্রি করে স্কুলের নামে দিতে বলা হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সভাপতি মজিবুর স্কুলের দুইটি রেজুলেশন খাতা, একটি নোটিশ খাতা, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের চেকবইসহ প্রয়োজনীয় সব জোড়পূর্বক নিয়ে যান। পরে তিনি প্রধান শিক্ষকের রুমে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং আগামী ২১ তারিখ পযর্ন্ত স্কুল বন্ধ ঘোষণা করেন। শুধু তাই নয়, সরকারি বিধি-বিধান অমান্য করে সভাপতির সিদ্ধান্তে প্রধান শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্তের চিঠি ইস্যু করেন। এতে উত্তেজিত হয়ে উঠে স্কুলের শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষকের কক্ষের তালা খুলে ক্লাস শুরুর দাবি জানালে বহিরাগত দুই সন্ত্রাসী নিয়ে আরও একটি তালা ঝুলিয়ে দেন সভাপতি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী। খবর পেয়ে ইউএনও হুমায়ন কবিরের নির্দেশে উপজেলা একাডেমি সুপারভাইজার গিয়াস উদ্দিন গিয়ে স্কুলের তালা খুলে দেন। পরে বিদ্যালয়ের ক্লাস শুরু হয়।

স্কুলের দফতরি হাবিব মিয়া বলেন, সোমবারও স্কুলের তালা খুলতে দেয়া হয়নি। মঙ্গলবার সকালে স্কুলের তালা খুলতে গেলে সভাপতি মজিবুর বহিরাগত দুইজনকে নিয়ে স্কুলের তালা খুলতে বাধা দেন। এ সময় তিনি আরও একটি তালা লাগিয়ে আমাকে স্কুল থেকে তাড়িয়ে দেন। পরে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় সঙ্গে এলাকাবাসীও যোগ দেয়। বিক্ষোভটি স্কুল থেকে শুরু হয়ে সভাপতির বাড়ি হয়ে কুঁঠিবাজার এলাকা ঘুরে একই স্থানে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।

উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার গিয়াসউদ্দিন বলেন, ইউএনও’র নির্দেশে বাাব ইউপি চেয়ারম্যান, স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, পুলিশসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে স্কুলের তালা খুলে দেয়া হয়েছে। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করেছেন তার কোনো প্রমাণ এই মুহূর্তে সভাপতি দেখাতে পারেননি। তাছাড়া প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার করার এখতিয়ার সভাপতির নেই। দু-এক দিনের মধ্যে এর সুরাহা করা হবে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মজিবুর রহমান। তিনি বলেন, প্রধান শিক্ষক স্কুল ফান্ডের হিসাব চাইলেই নানা টালবাহানা করেন। তাই তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। শিক্ষক সংকটের কারণে স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।

Perfume Factory

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker