অপরাধজাতীয়

নারী পাচারকারী চক্রের ৮ সদস্য গ্রেফতার, ২ তরুণীকে উদ্ধার করেছে র‌্যাব-১১

The Daily Narsingdir Bani

বাণী রিপোর্ট:
নারায়ণগঞ্জের তারাবো এলাকা হতে ০২ তরুণী উদ্ধারসহ আন্তর্জাতিক নারী পাচারকারী চক্রের ০৮ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১। রবিবার (২৬ জানুয়ারি) বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ঢাকার কামরাঙ্গীরচর, কেরানীগঞ্জ ও মুগদা এলাকা হতে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আন্তর্জাতিক নারী পাচারকারী চক্রের সদস্যরা হলো ১) মোঃ শাহাবুদ্দিন (৩৭) (ধানসিড়ি ট্রাভেল এজেন্সির মালিক), থানা-চন্দ্রগঞ্জ, জেলা-লক্ষীপুর, ২) মোঃ হৃদয় আহম্মেদ @ কুদ্দুস (৩৫) (তরুণী সংগ্রহকারী এজেন্ট), থানা-শ্যামবাগ, জেলা-নোয়াখালী, ৩) মোঃ মামুন (২৪) (তরুণী সংগ্রহকারী এজেন্ট), থানা-হাজীগঞ্জ, জেলা-চাঁদপুর, ৪) মোঃ স্বপন হোসেন (২০) (তরুণী সংগ্রহকারী এজেন্ট), থানা-কালকিনি, জেলা-মাদারীপুর, ৫) মোঃ শিপন (২২) (তরুণী সংগ্রহকারী এজেন্ট), থানা-মীরসরাই, জেলা-চট্টগ্রাম, ৬) রিজভী হোসেন @ অপু (২৭) (তরুণী সংগ্রহকারী এজেন্ট), থানা-লৌহজং, জেলা-মু›সীগঞ্জ, ৭) মোঃ মুসা @ জীবন (২৮) (তরুণী সংগ্রহকারী এজেন্ট), থানা-বাউফল, জেলা-পটুয়াখালী ও ৮) শিল্পী আক্তার (২৭) (তরুণী সংগ্রহকারী এজেন্ট), থানা-মতলব, জেলা-চাঁদপুর।
গ্রেফতারকৃত আসামীদের দখল হতে ৩৯ টি পাসপোর্ট, ৬৬ টি পাসপোর্টের ফটোকপি, ১৮ টি বিমান টিকেটের ফটোকপি, ৩৬ টি ভিসার ফটোকপি, ০১ টি সিপিইউ, ১৯ টি মোবাইল জব্দ করা হয়। এসময় তাদের হেফাজত হতে ০২ জন ভিকটিম তরুণী’কে উদ্ধার করা হয়।

The Daily Narsingdir Baniগ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের বরাত দিয়ে র‌্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামী শাহাবুদ্দিন ধানসিড়ি ট্রাভেল এজেন্সির মালিক। শাহাবুদ্দিন তার নিয়োগকৃত বিভিন্ন এজেন্টের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ১৫ হতে ২৫ বছর বয়সী সুন্দরী নারীদের সংগ্রহ করত। এরপর এই সকল নারীদের বিদেশে উচ্চ বেতনে চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে মধ্যপাচ্যে অবস্থিত বিভিন্ন ড্যান্সবারে পাচার করত। ধানসিড়ি এজেন্সির মালিক শাহাবুদ্দিনের সাথে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের ড্যা›স বারের মালিকদের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। গ্রেফতারকৃত অন্যান্য আসামীরা শাহাবুদ্দিন এর নারী সংগ্রহকারী এজেন্ট হিসেবে কাজ করত। এই চক্রের মাধ্যমে বিগত ০২ বছরে সহস্রাধিক তরুণী মধ্যপ্রাচ্যে পাচার হয়েছে।

এর আগে গত ২৩ নভেম্বর ২০১৯ তারিখে র‌্যাব-১১ এর অভিযানে উক্ত নারী পাচারকারী চক্রের ০৬ সদস্য গ্রেফতার হওয়ার ফলে পাচারকারী চক্রের অন্যান্য সদস্যরা সর্তক হয়ে যায় এবং আইন শৃংখলা বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিতে তারা পাচারের কৌশল ও রুট পরিবর্তন করে। বর্তমানে তারা সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যে না পাঠিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশসমূহের এয়ারপোর্ট ব্যবহার করে নারী পাচার অব্যাহত রেখেছে। পূর্বে তারা শুধুমাত্র ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করতো কিন্তু বর্তমানে দেশের অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর ব্যবহার করছে। এই মানব পাচারকারী চক্রের উপর দীর্ঘদিন যাবৎ র‌্যাব-১১ বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারী চালিয়ে ২৬ জানুয়ারি ২০২০ খ্রিষ্টাব্দে অভিযান চালিয়ে উক্ত মানব পাচারকারী চক্রের ৮ জনকে গ্রেফতার করে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button