অপরাধকৃষিনরসিংদীর খবরপলাশ

পলাশ উপজেলায় ফসলি জমি ধ্বংস করে মাটি দস্যুদের তাণ্ডব

The Daily Narsingdir Bani

পারফিউম ফ্যাক্টরি The Daily Narsingdir Bani

বাণী রিপোর্ট:
নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নে চলছে মাটি দস্যুদের তাণ্ডব। নিয়ম বহির্ভূত ও বে-আইনিভাবে মূল্যবান ফসলি জমি ধ্বংস করে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ইট ভাটায়। ইউনিয়নের অধিকাংশ ফসলি জমিতে প্রকাশ্যে ভেকু মেশিন বসিয়ে ২৫ থেক ৩০ ফুট গভীর গর্ত করে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে একটি প্রভাবশালী মহল। স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ ও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা এ মাটি দস্যুদের হোতা।

The Daily Narsingdir Bani

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, দুই নেতার নিয়ন্ত্রানাধীন রয়েছে এলাকার একাধিক মাটি কাটার স্পট। আর এসব ফসলি জমির মাটি বিক্রি হচ্ছে ওই ইউনিয়নের বিভিন্ন ইটভাটায়। দীর্ঘদিন ধরে এসব মাটি কাটার কাজ চললেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি স্থানীয় প্রশাসন। এতে হুমকীর মুখে পড়েছে ওই ইউনিয়নের অধিকাংশ ফসলি জমি কৃষকরা হচ্ছে নি:স্ব। শুধু ফসলি জমি নয়, অব্যাহত মাটি কাটার ফলে মাটি আনা নেয়ায় ব্যবহৃত ট্রলির বেপরোয়া চলাচলে গ্রামীণ সড়কগুলো ধুলাবালি ও কাদামাটিতে জন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে দুর্বিসহ দিনযাপন করছে ইউনিয়নের বাসিন্দারা।

হাতি মার্কা সাবান হাতি মার্কা সাবান

ডাঙ্গা ইউনিয়নের ভিরিন্দা গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, ওই গ্রামের উর্বর ফসলি জমির মাঠে ফসল নেই ভেকু মেশিন দিয়ে অবাধে মাটি কাটা হচ্ছে। কয়েক মিনিট পরপর ট্রলি ভরে এসব মাটি নেয়া হচ্ছে পাশ্ববর্তী ইটভাটাগুলোতে। ফসলি জমিগুলো পরিণত হচ্ছে ২০/২৫ ফুট গভীর গর্তে। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত চলে এসব মাটি কাটার তাণ্ডব।

স্থানীয়রা জানান, ওই গ্রামের অধিকাংশ জমির মাটি কেটে নিচ্ছেন ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক লাক মিয়া ও ভিরিন্দা ৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন। তারা দীর্ঘদিন ধরে এখান থেকে মাটি কাটছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভিরিন্দা গ্রামের কয়েকজন কৃষক জানান, কৃষকরা এখন জমিতে চাষাবাদ না করে তাদের কাছে কম দামে জমির মাটি বিক্রি করে দিচ্ছেন। কেউ মাটি বিক্রি করতে না চাইলে জোর করে তাদের জমির মাটি কেটে নেয়া হয়। তাদের ভয়ে এলাকার কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না।

ডাঙ্গার কাজৈর গ্রামের শফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ইউনিয়নজুড়ে অর্ধশত অবৈধ ইটভাটা থাকার কারণে শুধু এলাকার ফসলি জমি নষ্ট নয়, চলাচলের সড়কগুলোও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অধিকাংশ ইটভাটার মালিক জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক ব্যক্তি হওয়ায় এসব নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

মাটি কাটার বিষয়ে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা লাক মিয়া ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ নেতা জসিম উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, ডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অনুমতি নিয়েই এসব মাটি কাটছেন।

এ ব্যাপারে ডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাবের উল হাই বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অনুমতি নেয়ার বিষয়টি স¤পূর্ণ ভুয়া। ডাঙ্গায় অধিকহারে ইটভাটার কারণে ফসলি জমির পাশাপাশি রাস্তাঘাটগুলোও ব্যাপকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছে। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য একাধিকবার উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে পলাশ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারহানা আলী জানান, মাটি কাটার বিষয়টি আমার জানা নেই। এ ব্যাপারে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সচেতন মহলের মতে, এভাবে মাটি কেটে ফসলি জমি নষ্ট করা হলে কৃষি উৎপাদন ব্যহত হবে। কৃষকরা কর্মহীন হয়ে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button