অপরাধজাতীয়

সরকারি আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গুইমারাতে চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোউৎসব দেখার কেউ নেই

শেয়ার করুনঃ

The Daily Narsingdir Bani
আবদুল আলী:-
গুইমারাতে অবৈধ ভাবে যত্রতত্র চলছে বালু উত্তোলন।উপজেলায় কোন বালু মহাল না থাকলেও ব্যাঙ্গের ছাতার মত বিভিন্ন স্থান থেকে বেপরোয়া ভাবে স্ক্যাবেটর দিয়ে লক্ষ লক্ষ ফুট বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে প্রভাবশালী একটি চক্র।প্রতিনিয়ত বালু উত্তোলনের ফলে ভেঙ্গে যাচ্ছে উপজেলার বিভিন্ন রাস্তঘাট,ধ্বসে যাচ্ছে ব্রীজ-কালভার্টের সংযোগ সড়ক।আর এসব যেন দেখার কেই নেই।অথচ বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন,২০১০এর ১৫।(১)এই আইনের ধারা ৪ বলা হয়েছে ,অনুমতি ব্যতিরেকে বালু বা মাটি উত্তোলন করিলে সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী ব্যক্তিবর্গ(এক্সিকিউটিভ বডি)বা তাহাদের সহায়তাকারী কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাগণ অনূর্ধ্ব ২(দুই) বৎসর কারাদন্ড বা সর্বনিম্ন ৫০(পঞ্চাশ)হাজার টাকা হইতে ১০(দশ)লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হইবেন।
সরে জমিনে দেখাযায়,বালু খেকোরা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে খালের পাড় কেঁটে অবাধে বালু বিক্রি করছে। উপজেলার তৈর্কমাপাড়া, চাইন্দামুনি,চিংগুলিপাড়া,বাইল্যাছড়ি ও সিন্দুকছড়ি’সহ প্রায় ১৬টি স্থান থেকে বালু উত্তলন করছে।আবার স্ক্যাবেটর দিয়ে কেউ কেউ কাঁটছে পাহাড়ী ছড়ার পাড়,কেউবা আবার খাল থেকে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ড্রেজার মেশিন দিয়ে বিরামহীন ভাবে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে।এ যেন হরী লুটপাটের রাজত্ব চলছে।
গুইমারা উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের মধ্যে হাফছড়ি ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি পাহাড় কাঁটার দৃশ্য চোখে পড়েছে। মোট ১৮টি স্ক্যাবেটর দিয়ে কেটে ৩২টি ড্রাম ট্রাক ও ২০টি ট্রলিতে পরিবহন করছে এসব বালু ও মাটি।একদিকে শত শত একর ফসলি জমি নষ্ট করে উর্বর মাটি বিক্রি করা হলেও এসব নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই কৃষি কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট করোরই।অন্যদিকে বালু উত্তোলন করে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারন কৃষকরা।যার কারনে বর্ষা মৌসুমে ধ্বসে যাচ্ছে তাদের ফসলী জমি।অনেক গুলো ছোট খাল ও ছড়ার অস্তিত্ব ইতিমধ্যে বিলিন হয়ে গেছে।
সচেতন মহল বলছেন,শুধুমাত্র কিছু ব্যক্তি বিশেষ ও গোষ্টির অর্থ লালসার কারেন ধ্বংশ হচ্ছে সরকারের কোটি কোটি টাকায় ব্যায়ে নির্মিত ব্রিজ-কালভার্ট সহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প।আর জনস্বার্থে এখনিই এদের প্রতিরোধ করা না গেলে,ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কঠিন ক্ষতির সম্মুখিন হতে হবে ।
হাফছড়ি এলাকার ক্যাজরি মারমা জানান,অবৈধ বালু খেকোরা ধরাকে সরা মনে করে চলছে।এ ব্যবসায় বাঁধা বলে কোন শব্দ নেই,যা আছে তা হচ্ছে আয় আর আয়। এতে করে অনেকেই রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে বটগাছও বনে গেছেন।
স্থানীয় কৃষক ন্যাপা র্মামা ও অংগ্যজাই র্মামা জানান,বালু খেকোদের এমন আগ্রাসী কান্ডে তাদের ফসলী জমি ধ্বংশের মুখে।তারা থেকে যাচ্ছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে।গড়ে উঠেছে প্রভাবশালীদের নিয়ে বালু ব্যবসার একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট।যে কারনে গনমাধ্যমকর্মীরাও সংবাদ প্রকাশে নিবর দর্শকের ভুমিকা পালন করছেন।এছাড়ও বালু বাহী ট্রাকের অবাধে যাতায়াতের কারনে ধূলাবালি জনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিক্ষার্থী’সহ সাধারন জনতা।
স্থানীয় মারমা জানান,তার পরিবার বালু ব্যবসায়ীর নিকট এক লক্ষ আশি হাজার টাকায় তার বসত ঘর সংলগ্ন খালের পাড় বিক্রি করেছেন।তবে তার জায়গা থেকে বালু তোলার মুখিক অনুমতি দিয়ে বিপদে পড়েছেন বলে জানান তিনি।
একাধিক বালু ব্যবসায়ীরা জানান,তাদের কাছে বালু উত্তোলনের বা খালের পাড় কেঁটে বিক্রির বৈধ কোন কাগজ পত্র নেই।তবে অবৈধ জেনেও এ ব্যবসা কিভাবে করছেন এমন প্রশ্নের জবাবে জানান,বিভিন্ন উপায়ে চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের এ ব্যবসা।
তৈর্কমা এলাকার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অংক্যচিং চৌধুরী জানান,বালু উত্তোলন ও খালের পাড় কেটে বিক্রি করায় কৃষকদের ফসলী জমি ক্ষতিগ্রস্তের মুখে।বিষয়টি তিনি অবগত হয়ে উপজেলার সাপ্তাহিক মিটিংয়ে উর্ধতন কতৃপক্ষকে জানিয়েছেন।
হাফছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান চাইথোয়াই চৌধুরী জানান,বালু উত্তোলন ও খাল পাঁড় কেঁটে বিক্রির বিষয়গুলো তিনি শুনেছেন। তবে ব্যস্ততার কারনে স্বরজমিনে গিয়ে দেখা সম্ভব হয়নি তার।
পরিবেশ অধিদপ্তরের পার্বত্য চট্রগ্রাম অঞ্চলের উপ-পরিচালক ফেরদাউস আনোয়ার জানান,গুইমারায় অবৈধ বালু উত্তোলন ও খালের পাঁড় কেঁটে বিক্রির বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। লোকবলের সংকটের কারনে খাগড়াছড়িতে পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যক্রম জেলাপ্রশাসকের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।বিষয়টি তিনি বিধিসম্মত ভাবে দেখবেন।
এ বিষয়ে গুইমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার তুষার আহমেদ বলেন,আপনারা আসেন আগামীকাল সরজমিনে গিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button