নরসিংদীর খবরশিবপুর

নরসিংদীর শিবপুরে পানি শোধনাগার নির্মাণ প্রকল্পে লুটপাট

শেয়ার করুনঃ

 

The Daily Narsingdir Bani

বাণী রিপোর্ট: নরসিংদীর শিবপুরে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করে পানি শোধনাগার নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। মানহীন পাথর, রড, সিমেন্ট ও ইটের খোয়া ব্যবহার করায় নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই শোধনাগারের সীমানা প্রাচীর হেলে পড়েছে।

এতে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পানি শোধনাগারের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে । স্থানীয়দের অভিযোগ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নজরদারি না থাকায় অথবা তাদের যোগসাজসেই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এসব অনিয়ম করে যাচ্ছে। নরসিংদী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, শিবপুর পৌরসভায় আর্সেনিকমুক্ত ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য আট কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১৮ সালে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পের আওতায় পানির ট্যাংক, পানি শোধনাগার, সঞ্চালন লাইন ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হয়।

শোধনাগার নির্মাণে প্রায় ছয় কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। সীমানা প্রাচীর ও শোধনাগার নির্মাণের কাজ পেয়েছে মেসার্স মনির ট্রেডার্স ও মেসার্স ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্সের মালিক বিএনপি নেতা মো. মনিরুজ্জামান ও হুমায়ুন কবির। কাজটি পাওয়ার পর অধিক লাভের আশায় তারা নির্বাহী প্রকৌশলী বশির আহমেদকে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে সরিয়ে দিয়েছেন।

এরপর তারা নিজেদের পছন্দের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার সামছুল ইসলামকে এনেছেন। মান পরীক্ষায় প্রথম ও দ্বিতীয়বার আনা রড অনুত্তীর্ণ হয়েছে। অধিদফতর মানহীন রড সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিলেও সেগুলো নির্মাণস্থলেই ফেলে রাখা হয়েছে।

শিবপুরের বান্দারদিয়া এলাকায় নির্মাণাধীন প্রকল্প ঘুরে দেখা যায়, নিম্নমানের পাথরের স্তূপ পড়ে আছে। ট্রাক থেকে বিএসআই নামে অখ্যাত প্রতিষ্ঠানের রড নামানো হচ্ছে। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা বোরহান উদ্দিন খান বুরুজ বলেন, শুরু থেকে নিম্নমানের রড, পাথর ও সিমেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করায় প্রাচীর হেলে পড়েছে।

শুনেছিলাম প্রাচীর ভেঙে ফেলা হবে। কিন্তু তা না করে জোড়াতালি দিয়ে কাজ শেষ করা হচ্ছে। তরুণ মাহবুবুল আলম রনি বলেন, ব্যবহৃত বেশির ভাগ উপকরণই নিম্নমানের। প্রকল্প এলাকায় রাখা পাথর নিম্নমানের একথা স্বীকার করে ঠিকাদার হুমায়ুন কবির বলেন, এগুলো সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। অন্য সব উপকরণ মানসম্মত বলে তিনি দাবি করেন।

জানা গেছে, নির্বাহী প্রকৌশলী বশির আহমেদ সেপ্টেম্বরে রায়পুরা উপজেলার ডিপিপি অনুযায়ী দুটি দরপত্র আহ্বান করেন। কিন্তু তিনি বদলি হওয়ার পর প্রভাবশালী ঠিকাদার সিন্ডিকেটের হস্তক্ষেপে বিনা কারণে দরপত্র দুটি বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী বাতিল করে দেন।

ডিপিপির শর্ত ভঙ্গ করে তিনি প্যাকেজকে পাঁচটি ভাগে ভাগ করেন এবং ঠিকাদারের অনুকূলে শর্ত আরোপ করে পুনরায় দরপত্র আহবান করেন। এতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সেতু এন্টারপ্রাইজ তিনটি প্যাকেজ, নারায়ণগঞ্জের ঠিকাদার একটি প্যাকেজ এবং নরসিংদীর ঠিকাদার মাহবুব এন্টারপ্রাইজ একটি প্যাকেজের কাজে নিম্নদরদাতা হয়।

এর মধ্যে নেগোসিয়েশনে মাহবুব এন্টারপ্রাইজকে কাজ দিয়ে অন্যগুলো বাতিল করা হয়। পুনরায় দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া চলছে।

নরসিংদীর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার সামছুল ইসলাম বলেন, মানহীন পাথর ব্যবহার না করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে সেগুলো সরানো হয়েছে কিনা তা তিনি জানেন না। এছাড়া রডসহ অন্য উপকরণের মান সম্পর্কেও তিনি জানেন না। এরপরও তার দাবি মানসম্মত কাজ হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button