নরসিংদী সদরনরসিংদীর খবরসাহিত্য ও সংস্কৃতি

স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে নেতৃত্ব আগলে রেখেছেন নরসিংদী জেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক

শেয়ার করুনঃ

The Daily Narsingdir Bani

বাণী রিপোর্ট: মেয়াদ উত্তীর্ণ অকার্যকর কমিটি দিয়ে চলছে নরসিংদী জেলা পূজা পরিষদ। এতে নতুন নেতৃত্বের বিকাশ না হওয়ায় জেলাব্যাপী সংগঠনের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। চরম স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে নেতৃত্ব আগলে রেখেছেন নরসিংদী জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের গঠনতন্ত্র লংঘনসহ নানা অভিযোগ রয়েছে কমিটির সদস্যদের। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সদস্যরা জানান, প্রায় ৪ বছর পূর্বে সম্মেলনের মাধ্যমে ৭১ সদস্য বিশিষ্ট ২ বৎসর মেয়াদী কার্যকরী কমিটি গঠিত হয়। এ কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি প্রফেসর সুর্যকান্ত দাস এবং সাধারণ সম্পাদক দীপক কুমার সাহা। তাদের নেতৃত্বাধীন নরসিংদী পূজা উদযাপন পরিষদের কার্যকরী কমিটির মেয়াদ শেষ হয় প্রায় ২ বছর পূর্বে। নতুন নেতৃত্ব বিকাশে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন কমিটিগুলো পুন:গঠনের প্রয়োজন রয়েছে। মেয়াদ অতিক্রান্ত হওয়া সত্বেও একটি কমিটিও পুন:গঠন হয়নি। তারা স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে পদ আগলে রেখেছেন। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের নির্দেশ ও গঠনতন্ত্রের বিধান মানছেন না।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জানান, নরসিংদী জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। নতুন কমিটি গঠনের জন্য তাদের তাগাদা দেয়া হচ্ছে।
নরসিংদী জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটির সভাপতি প্রফেসর সূর্যকান্ত দাস জানান, কমিটির মেয়াদ ২ বছর পূর্ণ হতে আরো সময় বাকী আছে। কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের কাজ চলছে। কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের পর নরসিংদী জেলা কমিটির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
বিগত সম্মেলনে নরসিংদী পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী শ্যামল কুমার সাহা জানান, বর্তমান কমিটির মেয়াদ পার হয়ে আরো ১ বছরের অধিক সময় অতিক্রান্ত হয়েছে। তারা স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে পদে রয়েছেন। নতুন কমিটি করছেন না। সম্মেলন দিচ্ছে না। গত ৩/৪ মাস পূর্বে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নরসিংদী এসেছিলেন। তিনি জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করার ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান কমিটির উপদেষ্টা অধ্যক্ষ অহিভূষণ চক্রবর্তী বলেন, কমিটির প্রায় ৪ বছর হয়ে গেছে, তারা সম্মেলন দিচ্ছেনা। স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে চালাচ্ছে। কেন্দ্রীয় কমিটিকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় শিক্ষক নেতা রঞ্জিত কুমার সাহা জানান, কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জেলা উপজেলা, ইউনিয়ন কমিটি গঠিত হয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সকল কমিটির মেয়াদ ২ বৎসর। নরসিংদী জেলা কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। এটা মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের গঠনতন্ত্রের ধারা ১১ এর দফা ‘খ’ তে উল্লেখ রয়েছে, “কমিটি সমূহের মেয়াদকাল সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের তারিখ হইতে ২ বৎসর। কমিটির মেয়াদ ২ বছর শেষ হইবার ৯০ দিন পূর্ব হইতে দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি গ্রহণপূর্বক মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পূর্বেই সম্মেলন সমাপ্ত করিতে হইবে। মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি সমূহ অকার্যকর কমিটি হিসেবে বিবেচিত হইবে। মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর দ্রুত আহ্বায়ক কমিটি গঠনপূর্বক সম্মেলনের মাধ্যমে অনতিবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করিতে হইবে।”
নেতৃবৃন্দ জানায়, বর্তমান নরসিংদী জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের কমিটি অকার্যকর। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাদের নতুন কমিটির জন্য সম্মেলন করার অধিকার নেই। আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হবে। সভাপতি সূর্যকান্ত দাস সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে তারা বলেন, তিনি একজন শিক্ষিত ব্যক্তি। জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি। তার এ আচরণ কাম্য নয়। তার বক্তব্য সঠিক নয়। নতুন কমিটি যথাসময়ে গঠন না করে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের পদে থাকা দুর্নীতির সামিল। তিনি গঠনতন্ত্র মানছেন না। কমিটি অকার্যকর হওয়ায় তিনি সভাপতি পরিচয় দিতে পারেন না। অথচ সভাপতি ও তার সাধারণ সম্পাদক পদগুলো ব্যবহার করে যাচ্ছেন। বিভিন্ন স্থানে বিলবোর্ড স্থাপন করে নিজেদের হাইলাইট করে যাচ্ছেন।
এ ব্যাপারে নরসিংদী জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক দীপক কুমার সাহার সাথে ফোনে যোগাযোগ করতে বারবার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button