জাতীয়সাহিত্য ও সংস্কৃতি

গুইমারাতে নানা আনুষ্ঠানিকতায় বিজিবি দিবস পালিত

শেয়ার করুনঃ

The Daily Narsingdir Bani
মুহাম্মদ আবদুল আলী:
কেক কাটা,প্রীতি ভোজ,সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সহ নানা আয়োজনে খাগড়াছড়ির গুইমারাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)দিবস পালন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সেক্টর সদর দপ্তরে ছিলো সাজ সাজ রব। গত শুক্রবার (২০ডিসেম্বর) বাদ জুম্মা সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল আবদুল হাই, প্রধান অতিথি গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহরিয়ার জামানসহ আমন্ত্রিত অতিথিদের নিয়ে কেক কেটে অনুষ্ঠানের শুভ সুচনা করেন।

পরে সেক্টর সৈনিক মেসে আয়োজিত প্রীতিভোজে অংশগ্রহন করেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। এসময় অন্যান্যের মাঝে,গুইমারা বর্ডার গার্ড হাসপাতালের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল এমদাদুল হক, বিজিবি সেক্টর জিটু আই মেজর হামিদ-উর রহমান, গুইমারা রিজিয়নের জি টু আই মেজর মঈনুল আলম, গুইমারা উপজেলা চেয়ারম্যান উশ্যেপ্রু মারমা, গুইমারা সরকারি কলেজের অধক্ষ্য নাজিম উদ্দিন, গুইমারা থানার অফিসার্স ইনচার্জ বিদ্যুত কুমার বড়ুয়া,গুইমারা প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব এম দুলাল আহাম্মদ, সদস্য এম সাঈফুর রহমান, মাটিরাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান, জনপ্রতিনিধি, গনমাধ্যমকর্মী ও সামরিক পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সন্ধ্যা ৬টায় সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে দিবস পালন সমাপ্ত হয়।
উল্লেখ্য:-
সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী’ঐতিহ্যবাহী আধাসামরিকবাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ। ছয় পাউন্ড গোলার চারটি কামান এবং দুটি অনিয়মিত অশ্বারোহী দল নিয়ে আজ থেকে ২২৪ বছর আগে ১৭৯৫ সালের ২৯ জুন পার্বত্য খাগড়াছড়ির সাবেক মহকুমা শহর সীমান্তঘেঁষা রামগড়ে গোড়াপত্তন হয় এই বাহিনীর। সপ্তদশ শতকের শেষভাগে পার্বত্য চট্টগ্রামে লুসাই বিদ্রোহ দেখা দিলে এ এলাকা রক্ষায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি রামগড়ে ৪৪৮ জন সৈন্য নিয়ে ‘রামগড় লোকাল ব্যাটালিয়ন’ গঠন করে। ‘রামগড় লোকাল ব্যাটালিয়ন’ নামে যাত্রা শুরু করা এ ব্যাটালিয়ন আজ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ(বিজিবি)দেশের সীমান্ত রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে।

সময়ের পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে এ বাহিনীতে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। ১৭৯৫ সালে ‘রামগড় লোকাল ব্যাটালিয়ন’ নামে বাহিনীটির গোড়াপত্তন হওয়ার পর কালের বিবর্তনে পরিবর্তন হয় বাহিনীটির নামও। ১৭৯৫ থেকে ১৮৬০ সাল পর্যন্ত সুদীর্ঘ বছর ‘রামগড় লোকাল ব্যাটালিয়ন’ নামেই এ বাহিনীর কার্যক্রম চললেও ১৮৬১ সালে নিয়মিত-অনিয়মিত পুলিশ বাহিনীর সমন্বয়ে রামগড় লোকাল ব্যাটালিয়নকে পুনর্গঠিত করা হয়। তখন এ বাহিনীর নামকরণ হয় ‘ফ্রন্টিয়ার গার্ডস’। যার সৈন্য সংখ্যা উন্নীত করা হয় ১ হাজার ৪৫৪ জনে। যার সদর দপ্তর ছিল চট্টগ্রামে। ওই সময় এ পার্বত্য এলাকায় লুসাই বিদ্রোহ চরম আকার ধারণ করলে ১৮৭১ সালে সৈন্য সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা হয়। তখন লুসাই বিদ্রোহ দমন করে বাহিনীটি।

পরবর্তী সময়ে ১৮৭৯ সালে ‘ফ্রন্টিয়ার গার্ডস থেকে ‘স্পেশাল রির্জাভ বাহিনী’ নামে এ বাহিনীর সদস্যরা পিলখানায় প্রথম ঘাটি স্থাপন করে। সে থেকে পিলখানাকে ঘিরেই রাইফেলস্ এর সকল কর্মকান্ড পরিচালিত হয়ে আসছে। ১৮৯১ সালে ‘বেঙ্গল মিলিটারি পুলিশ ব্যাটালিয়ন’ নামে আবির্ভূত হয় এ বাহিনী। সে সময় চারটি কোম্পানিতে বিভক্ত করা হয়। ১৯১২ সালে ‘ঢাকা মিলিটারি পুলিশ’, ১৯২০ সালে ‘বেঙ্গল ব্যাটালিয়ন অব ইস্টার্ন ফ্যন্টিয়ার রাইফেলস্’।বাহিনীটির নাম আর পোশাক বদলের দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় ১৯৪৭ এ ভারত বিভক্তির পর এ বাহিনীর ‘ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস বা ইপিআর নামে পুরোদমে কাজ শুরু করে।
দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৭২ সালের ৩ মার্চ ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর) থেকে নাম বদলে বাংলাদেশ রাইফেলস্ বা বিডিআর নামে আবির্ভূত হয়।২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানা সদর দপ্তরে বিডিআরের কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল জওয়ান সংঘটিত করে ইতিহাসের বিভীষিকাময় নারকীয় হত্যাকান্ড।২০১০ সালের ৮ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদে ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ আইন-২০১০’ পাস হওয়ার মাধ্যমে ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে,এই বাহিনীর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ওই বছরে ২০ ডিসেম্বরকে বিজিবি দিবস হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়।সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী’ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী আধাসামরিকবাহিনী।মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ এবং বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফসহ এ বাহিনীর ৮১৭ জন অকুতোভয় সদস্য আত্মোৎসর্গ করে দেশপ্রেমের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button