নরসিংদী সদরনরসিংদীর খবর

ওয়ারেন্টের আসামী গ্রেফতার করছেনা নরসিংদী সদর মডেল থানা পুলিশ ॥ আসামীদের খুঁটির জোর কোথায়?

শেয়ার করুনঃ

The Daily Narsingdir Bani

বাণী রিপোর্ট: আদালতের একাধিক গ্রেফতারী পরোয়ানা থাকা সত্বেও মামলার আসামীদের গ্রেফতার করছেনা নরসিংদী সদর মডেল থানা পুলিশ। নরসিংদী শহরে দিবারাত্র প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো আসামীদের কেন খুঁজে পাচ্ছেনা পুলিশ? যেখানে মামলা হলেই আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশের তৎপরতা দেখা যায়, দিন রাত সুযোগ পেলেই আসামীদের বাড়ীতে হানা দেয় পুলিশ। সেক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশ থাকা সত্বেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছেনা। আসামীদের খুঁটির জোর কোথায়? পুলিশের নীরবতার কারণ কী? তাহলে আসামীরা যে বলে বেড়াচ্ছে তাদের যারা গ্রেফতার করতে আসবে সে পুলিশের চাকুরী থাকবেনা এ মন্তব্যই কী সঠিক? এমন প্রশ্ন এলাকাবাসীর মুখে মুখে।
নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গ্রেফতার করবনা কেন। বিষয়টি আমি দেখছি। অপরদিকে ওসি অপারেশন বলেন, আসামী গ্রেফতারে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। অথচ আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের গ্রেফতারে পুলিশের কোন তৎপরতাই লক্ষ্য করেনি এলাকার লোকজন। নরসিংদী থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন দৈনিক, সাপ্তাহিক পত্রিকাসহ বিভিন্ন অনলাইন মিডিয়ায় এ বিষয়ে একাধিক সংবাদ প্রকাশ হলেও নরসিংদী সদর থানা পুলিশ আসামী গ্রেফতারে উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন কিনা তাও জানা যায়নি। গ্রেফতার এড়িয়ে প্রকাশ্যে শহরে চলাচল করতে পারেন বিধায় আসামীরা মামলার বাদীকে প্রাণনাশের হুমকী দিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নরসিংদী সদর মডেল থানা থেকে মাত্র ১ কিলোমিটার দূরে শহরের প্রাণকেন্দ্র পাতিলবাড়ী রোডে অবস্থিত ১৫৬/৪ নং বাড়ীতে বসবাস করেন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী ইতি রানী, রামপাল, সৈকত পাল, বিজয়া পাল ও বিজয় রায়।
প্রায় ২ মাস পূর্বে নরসিংদী সদর মডেল থানা পুলিশের পক্ষ থেকে সদর রোডে আদালতের গ্রেফতারী পরোয়ানাভুক্ত আসামীদের নামের তালিকা বেনার আকারে সাটানো হয়। প্রকাশিত বেনারে আসামীদের নাম থাকা সত্বেও তারা গ্রেফতার এড়িয়ে প্রকাশ্যে চলাফেরা করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আইন অমান্যকারী সরকারী কর্মকর্তা ও বিশ^বিদ্যালয় শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক গ্রেফতারী পরোয়ানা থাকা সত্বেও তাদের গ্রেফতার করছেনা পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে আদালতের মাল ক্রোকের নির্দেশও তামিল হয়নি। এতে বাদীসহ এলাকার জনমনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ ও সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। অজ্ঞাত কারণে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে আইন মানতে বাধ্য করছে না এমন মন্তব্য নরসিংদীর সচেতন মহলের। জনমনে প্রশ্ন আসামীরা কী আইনের উর্ধ্বে।
নরসিংদী শহরের সুনামধন্য ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক সুধীর সাহা ২০১৮ সালে নরসিংদী বিজ্ঞ চীফ জুডিশিয়াল মেজিস্ট্রেট আদালতে সিআর মামলা নং ৭৯২/১৮ দায়ের করেন। এ মামলায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মরত শুল্ক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তা বিজয় রায় এবং ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ফিসারিজ ডিপার্টমেন্টের শিক্ষক বিজয়া পালসহ ১৪ জনকে আসামী করা হয়। এ মামলায় ৬/৯/১৮ ইং তারিখে বিজ্ঞ আদালত সকল আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেন। আসামীদের অবস্থান অনুযায়ী নরসিংদী সদর মডেল থানা, রায়পুরা থানা ও ঢাকা কোতয়ালী থানা পুলিশকে আসামীদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেন আদালত। একই মামলায় ৪/১০/১৮ ইং তারিখে একই আদালত আসামীদের মালামাল ক্রোকের নির্দেশ দেন।
আদালতে অপর একটি নরসিংদী সিআর মামলা নং ৮৬৩/১৮ দায়ের করা হয়। এ মামলায় ওই শুল্ক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ ৫ জনকে আসামী করা হয়। উক্ত মামলায় ১/১০/১৮ ইং তারিখে বিজ্ঞ আদালত আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করে আসামী গ্রেফতারে নরসিংদী সদর মডেল থানাকে নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে মামলাটি যুগ্ম দায়রা জজ ২য় আদালত নরসিংদীতে স্থানান্তরিত হয়। এ আদালত থেকে গত ২৮/৫/১৯ ইং তারিখে আসামীদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনসহ পুনরায় গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করা হয়।
রায়পুরা থানা পুলিশ একটি মামলার গ্রেফতারী পরোয়ানা প্রাপ্ত হয়ে সংশ্লিষ্ট অফিসার শুল্ক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে গ্রেফতারের জন্য বিমান বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জকে অধিযানপত্র প্রেরণ করেন।
বিমানবন্দর থানা গত ২৫/৯/১৮ তারিখে অধিযানপত্র গ্রহণ করেন। থানা পুলিশের নাকের ডগায় অবস্থান করা সত্বেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেনি। এদিকে বাদীপক্ষ লিখিতভাবে বিজয় রায় এর বিরুদ্ধে গত ২৩/৯/১৮ তারিখে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য পরিচালক শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরকে এবং বিজয়া পালের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ভিসির নিকট আবেদন জানান। অজ্ঞাত কারণে দুটি বিভাগের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ অভিযুক্ত ও পলাতক আসামীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। মামলার ১ টি আসামীকেও পুলিশ গ্রেফতার করেনি।
আসামীদের অব্যাহত হুমকীর মুখে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বাদী। আসামী গ্রেফতারে বাদী সুধির সাহা গত ১১/১০/১৯ ইং তারিখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইজিপি, নরসিংদী সদর সার্কেল ও নরসিংদী সদর মডেল থানায় লিখিত আবেদন করা সত্বেও তারা গ্রেফতার হচ্ছে না। নরসিংদী শহরের পাতিলবাড়ী রোডে অবস্থিত ১৫৬/৪ নং বাড়ীতে অবস্থান করে আসামীরা অবাধে চলাফেরা করছে এবং নানাভাবে বাদীকে হুমকী দিয়ে যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button